| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

অনিয়ম-দূর্নীতির আখড়া ফেনীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 11-07-2026 ইং
  • 15 বার পঠিত
অনিয়ম-দূর্নীতির আখড়া ফেনীর  আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস
ছবির ক্যাপশন: অনিয়ম-দূর্নীতির আখড়া ফেনীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস


বিশেষ প্রতিনিধি: 

ফেনী আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়টি দালালের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কার্যালয়টিতে সেবাগ্রহীতাদের থেকে দালালদের মাধ্যমে দৈনিক ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ আদায় করা হয়। ওই টাকা প্রশাসনের কয়েকটি অফিস ও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলায় গণঅভ্যুত্থানের পর বেশ কয়েকমাস ঘুষ ছাড়া সেবা মিললেও কর্মকর্তাদের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় দালালদের আধিপত্য বেড়েছে। বেড়েছে গ্রাহক হয়রানিও। কোনো গ্রাহক প্রতিবাদ করলেও পড়তে হচ্ছে নানা বিপত্তিতে। প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহল ভাগবাটোয়ারার অংশ পাওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এমতাবস্থায় কার্যালয়টিতে হয়রানী ও চ্যানেল ফির নামে ঘুষ আদায় বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতা ও সচেতন মহল। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা ফেনী। প্রবাসে কর্ম করে পরিবারের হাল ধরে স্বাবলম্বী হওয়া এ জেলার যুবকদের প্রথম পছন্দ। যার কারণে দেশের অন্যান্য জেলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের তুলনায় ফেনী জেলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে কাজের পরিধি তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে। কার্যালয়টিতে পাসপোর্ট নবায়ন ও নতুন পাসপোর্টের আবেদন দৈনিক কখনো কখনো ৩শ ছাড়িয়ে যায়। সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অফিসে ঘুষের বাজার বসিয়েছেন দায়িত্বরত সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি চক্র। জেলার বিশেষ ব্যক্তিদের অনুরোধ ছাড়া এ কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কোনো আবেদন জমা দেওয়া যায় না বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। 

সেবাগ্রহীতারা জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর এ অফিসটিতে ঘুষ ছাড়াই ছোট-খাটো ভুল সংশোধন করে পাসপোর্ট আবেদন গ্রহন করা হতো। অধিদপ্তরের এক আদেশে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি কার্যালয়টিতে সহকারী পরিচালক পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম যোগ দেন। এরপর থেকেই ঘুষের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুর দিকে রাজনৈতিক নেতারা এর প্রতিবাদ করলেও একপর্যায়ে তারাও নিশ্চুপ হয়ে যান। প্রতিবাদ করে কাজ না হওয়াতে অসহায় হয়ে পড়েন সেবাগ্রহীতারা। হয়রানি এড়াতে বাধ্য হয়ে প্রতিটি পাসপোর্ট আবেদনে সরকারি নির্ধারিত ফিসের অতিরিক্ত চ্যানেল ফির নামে ১ হাজার ১শ টাকা হারে অনলাইনে আবেদনের সময় এজেন্সির কাছে ঘুষ দিতে বাধ্য হন তারা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দৈনিক ১৮০ থেকে ২০০ আবেদনের সাথে অতিরিক্ত ১১০০ টাকা হারে ঘুষ আদায় করা হয়। আদায়কৃত অতিরিক্ত ঘুষের টাকাগুলোর ভাগবাটোয়ারা যায় জেলার উচ্চ পদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার পকেটে। যেসব আবেদনে চ্যানেল ফির টাকা আছে; সেসব আবেদনকারীদের বিশেষ যত্ন নেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা। জামাই আদরে তাদের কাজ করে দেওয়া হয়। ঘুষের টাকা না দিলে এ টেবিল ওটেবিল ঘুরতে ঘুরতে অতিষ্ঠ করা হয় আবেদনকারীদের। 

শাহীন নামের এক যুবক জানান, বিদেশ যাওয়ার জন্য আব্বুর মাধ্যমে প্রতিবেশীর কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা ঋণ করে একটি কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন করি। ওই দোকানদার আমাকে অতিরিক্ত ১১০০ টাকা দিতে বললেও আমি তা দিতে পারিনি। পরের দিন পাসপোর্ট অফিস যাওয়ার পর আমার সাথে থাকা অন্য আবেদনকারীদের আবেদনগুলো জমা নেওয়া হলেও আমার আবেদনটিতে ভুল আছে বলে ফিরিয়ে দেয়। আমি কয়েকবার জানতে চাওয়ার পরেও ঠিক কি কারণে আমার আবেদন জমা হচ্ছে না তা আমাকে না জানিয়ে যে দোকানে আবেদন করেছি সেখানে যেতে বলে। পরে আমি ওই দোকানে এসে ১১০০ টাকা ঘুষ দেওয়ার পর আমার আবেদনের ৭৯ নং কলামের মেইল এড্রেসটি পরিবর্তন করা হয়। পরের দিন ওই আবেদনপত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিস যাওয়ার পর আবেদন আবেদনটি তারা কোনো কথা ছাড়াই গ্রহণ করে। 

ফেনী জেলা ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, এক সময় চ্যানেল ফির টাকা থেকে পাসপোর্ট অফিস সপ্তাহে ১৪ হাজার ৬০০ টাকা অ্যাসোসিয়েশনকে দেওয়া হতো। বছর খানেক পাসপোর্ট অফিস চ্যানেল ফি আদায় করলেও ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে কোনো টাকা দিচ্ছে না। 


যেভাবে আদায় করা হয় ঘুষের ১১শ টাকা 

ট্রাভেল এজেন্সির কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমানে প্রত্যেকটি পাসপোর্টের আবেদন অনলাইনে করতে হয়। এ কাজটি করার জন্য আবেদনকারীগণ এজেন্সির সহযোগিতা নিয়ে থাকেন। এজেন্সির মাধ্যমে করা আবেদনগুলোর ৭৯ নং কলামে এজেন্সির বিশেষ মেইল এড্রেস ব্যবহার করতে হয়। দিনজুড়ে কোন এজেন্সির মেইলে কয়টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে, সেই তালিকাটি অফিসের অ্যাকাউন্ট্যান্ট সাইফুল মো. আরিফ তৈরি করে জাকের পাটোয়ারী নামের এক ব্যক্তির হাতে দেন। জাকের পাটোয়ারী তালিকা ধরে সন্ধ্যায় এজেন্সির মালিকদের থেকে চ্যানেল ফি নামের ঘুষগুলো গ্রহণ করে সাইফুল আরিফকে বুঝিয়ে দেন। তালিকাভুক্ত কোনো এজেন্সি ১১০০ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পরের দিন থেকে তাদের মেইল এড্রেস থেকে এন্টিকৃত আবেদন নানা অজুহাতে ফেরত দেয়া হয়।  


কার থেকে কারা গ্রহন করে ঘুষের টাকা

পাসপোর্ট অফিসের নির্ধারিত ৪৭টি ট্রাভেল এজেন্সি থেকে দৈনিক টাকা আদায় করেন জাকির। এ জন্য জাকিরকে পাসপোর্ট অফিসের একাউন্টেন্ট সাইফুল মো. আরিফ মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতন দেন। এর বাইরে ছাগলনাইয়া উপজেলার ১০টি এজেন্সি থেকে টাকা আদায় করে সাইফুল আরিফের হাতে বুঝিয়ে দেন মাসুদ ও আতিক নামের দুই ব্যক্তি। অনিয়মিত ট্রাভেল এজেন্সির হিসাব নিয়ে সপ্তাহে ১ দিন টাকা আদায় করেন করিম (আনসার করিম) নামের এক ব্যক্তি।


অভিযোগ অস্বীকার সহকারী পরিচালকের


এ বিষয়ে ফেনীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার অফিসে কোন ধরনের টাকা বা ঘুষ গ্রহণের সুযোগ নেই। এ কাজে আমি অথবা আমার অফিস জড়িত নই। অফিসের বাইরে কেউ বাড়তি টাকা নিলে সেই দায়িত্ব আমার উপর পড়ে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের পুলিশ ভ্যারিকেশন করা হচ্ছেনা। যার কারণে সকল আবেদন সতর্কতার সাথে গ্রহন করতে হয়। জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অনুরোধ করলে অনেক সময় ছোটখাটো ভুল সংশোধন করে আবেদন গ্রহন করা হয়ে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group