দাগনভূঞা প্রতিনিধি
ঢাকায় রামিশা হত্যায় আতঙ্ক বিরাজ করছে ছাত্রীদের মধ্যে। নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার যে ভয়াবহ চিত্র প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় উঠে আসছে, তারই একটি সামগ্রিক পরিসংখ্যান উঠে এসেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যে।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই ৭৭৬ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তেমনিভাবে দাগনভূঞা এলাকায় কিশোর গ্যাং নিয়ে মানুষের উদ্বেগ এখন বাস্তব একটি সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সংবাদে মাদক, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকির জায়গাগুলো হলো:
স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসার পথে উত্যক্ত করা। রাস্তায় মোটরসাইকেল দিয়ে অনুসরণ করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি। বাজার, কোচিং সেন্টার বা নির্জন এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, সন্ধ্যার পর নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদি। তবে সব এলাকা সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়। উপজেলা সদর, ব্যস্ত বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে মানুষের উপস্থিতি বেশি থাকলে নিরাপত্তা তুলনামূলক ভালো থাকে। কিন্তু নির্জন রাস্তা, স্টেশন এলাকা, বা রাতের সময় ঝুঁকি বাড়ে।
দেশজুড়েও কিশোর গ্যাং অপরাধ বাড়ছে বলে জাতীয় সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে সন্তানকে স্কুল কিংবা কোচিং এ পাঠানোর পর উদ্বিগ্ন থাকেন অভিভাবকগন। যেখানে স্বাধীনভাবে শিক্ষার্থীরা চলাচল করার কথা সেখানে এমন ভীতিময় পরিবেশ যথারীতি শিক্ষার্থীদের মনোবল সংকুচিত হয়ে আসছে। এতে তাদের বেড়ে উঠার সাথে সাথে একটি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়ার প্রবণতা দেখা যাবে। কিশোর বয়সে চার দেয়ালের মাঝে তাদেরকে আটকে রাখতে হয় বাহিরের পরিবেশের উপর নির্ভর করে। এতে তাদের মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত পাশাপাশি পড়াশোনার মনোযোগ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
অভিভাবকদের মতে, মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য যেগুলো কার্যকর হতে পারে - দলবদ্ধভাবে স্কুল/কোচিংয়ে যাওয়া, পরিবারের সাথে যাতায়াত সময় শেয়ার করা, সন্দেহজনক হয়রানি হলে দ্রুত শিক্ষক বা অভিভাবককে জানানো, স্থানীয় থানা বা ৯৯৯-এ অভিযোগ করা,স্কুলের সামনে সিসিটিভি ও পুলিশ টহল বাড়ানো, অভিভাবক ও স্থানীয় সমাজের নজরদারি বাড়ানো, জরুরি সহায়তার জন্য:
জাতীয় জরুরি সেবা: ৯৯৯, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ১০৯, শিশু সহায়তা লাইন: ১০৯৮,সমস্যাটি পুরো দাগনভূঞার সব শিক্ষার্থীর জন্য একই মাত্রায় নয়, তবে সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ না বাড়ালে মেয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মেয়ে শিক্ষার্থীদের মতে, আমাদের চলাচলের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে আসছে। যেখানে নিরাপদ শব্দটি আমরা মনে করতে পারিনা। আতঙ্কে থাকি কখন কি সমস্যা বা বিপদ সামনে এসে পড়ে। আমাদের বিদ্যালয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে বাড়িতে বা বাসায় আসা পর্যন্ত বাবা মা দূর চিন্তায় থাকেন। অন্যদিকে পরিবার থেকে সব সময় পরামর্শ আদেশ তা তো পালন করতেই হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন অবস্থা বিরাজমান থাকলে আমাদের জীবনটা ক্রমান্বয়ে চার দেয়ালের মাঝে বন্দি হয়ে পড়বে। একজন মানুষ চারদিকে স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারে কিন্ত আমাদের জন্য সেটি কখনও নিরাপদ নয়। এ দায় কিংবা নিরাপত্তা সমাজ, দেশ তথা রাস্ট্রের উপর বর্তায়। মুক্ত আবহাওয়া ক্রমাগত বিষাক্ত হয়ে পড়ছে একটি মাত্র শব্দ নিরাপত্তাহীনতার কাছে।
অভিভাবরা সন্তানদের প্রতি মনোযোগ, সামাজিক দায়বদ্ধতা, রাজনৈতিক নেতাদের কঠোর পদক্ষেপ, প্রশাসনিকভাবে কঠোর নজরদারি ও টহল তৎপরতা বাড়ানো এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ন্যায় অন্যায় বিষয়ে কাউন্সিলিং করা হলে এ অপরাধ ক্রমান্বয়ে কমবে বলে মনে করেন সচেতনমহল। কিশোর কিশোরীদের পড়াশোনার মনোযোগ বাড়ানো উচিত বলে জানান তারা।
এক পুলিশ উপ পরির্দশক (এস আই) নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিশোর গ্যাং সনাক্ত করে থানায় আনা হয় অনেক কষ্ট করে। পরবর্তীতে অসংখ্য কল তারপর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা চলে আসেন থানা থেকে ছেড়ে নিতে তদবির। তাদের জিম্মাদারিতে আবার ছেড়ে দেয়া হয় যা অনেকেই জানেন না। কিন্ত সবাই বলে কিশোর গ্যাং দমন করা যাচ্ছে না কেন! এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ কিন্ত এভাবে তদবির চলতে থাকলে কিশোর গ্যাং দমন কখনও সম্ভব হবে না। আইনের চোখে, সমাজের কাছে তারা কিশোর গ্যাং কিন্ত তদবিরে বলেন তারা শিক্ষার্থী অথবা ভদ্র পরিবারের সন্তান। এমন প্রশ্রয়দানের কারনে এর ভয়াবহতা ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকবে তখন কেউই নিরাপদে থাকবে না।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ফয়জুল আজীম নোমান জানান, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছি। যেকোন অপরাধ জনিত ঘটনায় থানাকে অবহিত করার সাথে সাথে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। দাগনভূঞায় মাদক, কিশোর গ্যাং সহ সব অপরাধিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
একটি শিশুও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সেটি পুরো সমাজের ব্যর্থতা। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন শুধু মানবাধিকার নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের বড় দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |