| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

দাগনভূঞায় আ’লীগ আমলে বাড়িছাড়া ছাত্রদল নেতা, এখনো জীবিকা চলে রিকশা চালিয়ে

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 05-06-2026 ইং
  • 851 বার পঠিত
দাগনভূঞায় আ’লীগ আমলে বাড়িছাড়া ছাত্রদল নেতা, এখনো জীবিকা চলে রিকশা চালিয়ে
ছবির ক্যাপশন: দাগনভূঞায় আ’লীগ আমলে বাড়িছাড়া ছাত্রদল নেতা, এখনো জীবিকা চলে রিকশা চালিয়ে


দাগনভূঞা প্রতিনিধি

রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া দাগনভূঞার এক ছাত্রদল নেতার জীবন সংগ্রামের গল্প এখন আলোচনায়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হামলা ও নির্যাতনের মুখে সপরিবারে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হওয়া মেহেদী হাসান এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

দীঘ ৪ বছর ধরে ফেনী শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তিনি। জীবিকার তাগিদে চালাচ্ছেন অটোরিকশা।

মেহেদী হাসান দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-প্রচার সম্পাদক। তিনি উপজেলার পশ্চিম চন্ডিপুর বকশী ব্যাপারী বাড়ির আবুল কাশেমের ছেলে।

সম্প্রতি আলাপকালে তিনি জানান, ২০২২ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগপন্থী কয়েকজনের হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন। এরপর থেকেই পরিবার নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।

মেহেদীর পরিবারে বাবা-মা, ৩ ভাই ও এক বোন রয়েছেন। তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ভাই চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজ করেন। বাবা আবুল কাশেম ফেনী শহরে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করে সংসার চালান।

মেহেদী জানান, প্রায় ৮ থেকে ৯ বছর আগে বসুরহাট মাদরাসায় অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম মানিকের অনুসারী হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনীতি করে আসছেন তিনি। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি বোনের বিয়েকে সামনে রেখে বাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন। কারণ জানতে চাইলে তারা দা, লাঠি ও রড নিয়ে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন।

এর কিছুদিন পর ১ ফেব্রুয়ারি তার বাবা আবুল কাশেম বাড়িতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি এলাকা ছাড়েন। ওইদিন রাতে পুলিশ নিয়ে বাড়িতে গেলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ তাদের ফেনী শহরে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আবুল কাশেম আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় সিরাজ উল্লাহ, নার্গিস, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ভূঁইয়া শরীফ, হুমায়ুন কবির, সাইফুল ইসলাম, শেখ রাসেল আরিফ ভূঁইয়া ও দেলোয়ার হোসেন মিন্টু ওরফে সারেকসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মেহেদী বলেন, ‘বাড়িঘর ভাঙচুরের পর আমরা ফেনী শহরে চলে আসি। প্রথম দিকে এক সপ্তাহ রেলগেট এলাকায় মানবেতর অবস্থায় ছিলাম। পরে বিভিন্ন জায়গায় থেকে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এলাকায় ফিরে যেতে পারিনি। অটোরিকশা চালিয়েই সংসার চালাই।’

তিনি অভিযোগ করেন, তাদের সমর্থন করায় আরও ১১ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়েছে। মামলার কারণে তারা নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।

মেহেদীর দাবি, আমাদের প্রায় তিন শতাংশ জায়গা ছিল। সেখান থেকেও আমাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন, তাদের কয়েকজন এখন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে গেছেন।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মেহেদীর মা ছায়েরা খাতুন তার মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন। বিয়ের পর আবুল কাশেম শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। ওই বাড়ির জমিজমা নিয়ে দ্বিতীয় আসামি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

এ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘মেহেদী হাসান অতীতে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে আমরা সাংগঠনিকভাবে উদ্যোগ নেব।’

এদিকে বিষয়টি জানার পর ফেনীর ছাত্রদল নেতা রিয়াদ পাটোয়ারীর মাধ্যমে মেহেদীর সঙ্গে ফোনকলে কথা বলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। এ সময় তিনি মেহেদীর সমস্যার সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং তাকে পুনরায় ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group