| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

একদিকে গ্যাস সংকট অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনগণের নাভিশ্বাস চরমে

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 03-08-2026 ইং
  • 6 বার পঠিত
একদিকে গ্যাস সংকট অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনগণের নাভিশ্বাস চরমে
ছবির ক্যাপশন: একদিকে গ্যাস সংকট অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনগণের নাভিশ্বাস চরমে


ইমরান ইমন

দেশব্যাপী গ্যাস সংকটে দিশেহারা জনগণ। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি তো আছেই। তীব্র সংকটের মধ্যেই ১২ কেজির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। রোববার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

দাম বাড়ানোর পর ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। দাম বাড়ার আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এ গ্যাস সংকট চলছে। সিএনজি স্টেশন থেকে বাসাবাড়ি, রেস্তোরাঁ সব জায়গায় এখন হাহাকারের নাম গ্যাস সংকট। বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। এদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। গ্যাসের জন্য চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করতে হচ্ছে।

গ্যাস সংকটের কারণে দেশের শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাপক হারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদনব্যবস্থা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারানোসহ বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়বে শিল্পকারখানাসমূহ।

গ্যাস সংকটের ধাক্কা দিয়ে লেগেছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। দেশের ৫০ শতাংশের অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গ্যাস নির্ভর। ফলে দেশব্যাপী দেখা দিয়েছে তীব্র লোডশেডিং। ঢাকার বাইরে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় ১২ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।

সার্বিকভাবে গ্যাসের এ সংকটে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামবে। একদিকে চরম মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা আরেকদিকে গ্যাস সংকট পুরো অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি দেখা দিবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এঙ্লিারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশের এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি এখনও পুরোপুরি চালু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের জন্য নতুন এলএনজি কার্গো সরবরাহে আগ্রহ দেখাচ্ছে না আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে শুধু সামিট গ্রুপের এফএসআরইউ চালু রয়েছে। এই টার্মিনালের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। তবে একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে বর্তমানে গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে। 

গত সপ্তাহে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) ১০ থেকে ১৫ আগস্ট এবং ১৫ থেকে ১৬ আগস্টের জন্য তিনটি স্পট এলএনজি কার্গো আমদানিতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। তবে ১০ থেকে ১৫ আগস্টের জন্য দুটি কার্গো সরবরাহে তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানই আগ্রহ দেখায়নি। ফলে চলমান এ গ্যাস সংকট আরো তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই গ্যাস সংকট নিয়ে সহসাই কোনো সুখবর মিলছে না।

একদিকে দেশজুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকট অন্যদিকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা জনগণ। চাল ডাল মাছ মাংস ডিম থেকে শুরু করে শাকসবজি সবকিছুতে দামের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ জনগণের নাভিশ্বাস চরমে। গত এক মাসের ব্যবধানে বাজারে একসঙ্গে প্রায় সব রকম নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকহারে।

বাজারে অধিকাংশ সবজির কেজি ১০০ টাকার ওপরে। বেগুনের কেজি ১৮০ টাকা ছাড়িয়েছে, কাঁচামরিচের কেজি ৪০০ টাকায় ঠেকেছে। কাঁচামরিচের এমন ঝাল দেশে এই প্রথম দেখা গেছে। 

নিত্যপণ্যের এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে পৃষ্ঠ ভোক্তা সাধারণ। বাজারে নিয়মিতভাবে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়লেও মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি সাধারণ মানুষের আয়, বাড়েনি কর্মজীবী মানুষের বেতন। তাই নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত মানুষদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

৫ আগস্ট পরবর্তী দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা কেটে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমানে রাজনৈতিক সরকার বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার মসনদে বসে। জণগণের প্রত্যাশা তাদের ভোটে নির্বাচিত সরকার তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য জনগণের নাগালের মধ্যে রাখবেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা ও অধিকারসমূহ পূরণ করবেন। বর্তমানের প্রতীয়মান পরিস্থিতি কিন্তু জনগণের সে আশা-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে।

এদেশের সাধারণ জনগণ কিন্তু সবার আগে দুই বেলা ডাল-ভাত আর খাদ্যের নিরাপত্তা চান। তারা রাজনীতির জটিল সমীকরণও বোঝেন না কিংবা আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও বোঝেন না।

সরকারকে জনগণের সেই পালস বুঝতে হবে। জনআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে, জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে কোনো সরকারই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। তাদের সকলেরই করুণ পরিণতি হয়েছে।

বর্তমান সরকারকেও তাই অতীত বাস্তবতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। সর্বোপরি, গ্যাস সংকট থেকে শুরু করে দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group