| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

নোয়াখালীর বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণে সফলতা, সুরক্ষিত হবে ৩ জেলার সম্পদ

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 12-06-2026 ইং
  • 1552 বার পঠিত
নোয়াখালীর বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণে সফলতা, সুরক্ষিত হবে ৩ জেলার সম্পদ
ছবির ক্যাপশন: নোয়াখালীর বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণে সফলতা, সুরক্ষিত হবে ৩ জেলার সম্পদ


এএইচএম মান্নান মুন্না:

মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে নোয়াখালীর বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জনের দাবি করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নোয়াখালী, লক্ষীপুর, কুমিল্লা জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা এবং পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

পাউবোর বাস্তবায়নাধীন নোয়াখালী জেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা ওনিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ক্লোজার বাঁধটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে বামনী নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। পূর্বে নদীতে একটি ১৯-ভেন্টবিশিষ্ট রেগুলেটর নির্মাণ করা হলেও ক্লোজার বাঁধের অভাবে জোয়ারের পানির প্রবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে উচ্চ জোয়ারের সময় ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেত।

প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ক্লোজার বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৫ মিটার এবং গভীরতা ১০ মিটার। গত ১০ মার্চ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরপরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৎড়ঢ়বৎঃু উবাবষড়ঢ়সবহঃ খরসরঃবফ (পিডিএল) এবং পাউবো যৌথভাবে নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ ও তীব্র জোয়ার-ভাটার মধ্যেও দিনরাত কাজ চালিয়ে মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে মূল নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্মাণকাজে জিওব্যাগ, জিওটিউব ও জিওটেঙ্টাইল শিট সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছে আরএফএ। পিডিএল, আরএফএল এবং পাউবোর প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই চ্যালেঞ্জিং কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, জোয়ারের পানি প্রবেশ এবং জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।

পাউবোর নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও অন্যান্য কারণে কিছু বিলম্ব হলেও জনস্বার্থে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে পিডিএলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র জোয়ার-ভাটার মধ্যেও মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দ্রুতগতিতে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

প্রকল্পটির অবশিষ্ট কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group