স্টাফ রিপোর্টার:
ফেনীতে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ফেনীর জেলার সিভিল সোসাইটির সাথে ফেনী জেলা পুলিশের আয়োজনে মতবিনিময় সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেনী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক।
সভায় ফেনীর বিশিষ্ট ব্যাক্তি, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন কমিউনিটির শীর্ষস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। এতে বক্তারা বলেন, সীমান্ত বেস্টিত ফেনী জেলায় দিন দিন মাদকের ব্যবহার, মাদক আসক্ত ও মাদক পাচারের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে ফেনীর সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন কমিউনিটির মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, আগামী প্রজন্মকে মাদকাসক্ত থেকে দূরে রাখতে এখনই জরুরী ব্যবস্থা নিতে হবে। সে লক্ষে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গকে কাদে কাদ মিলিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল, ফেনী জেলা জর্জ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মেজবা উদ্দিন খান, ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খোন্দকার এনামুল হক, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন, হাইওয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কুমিল্লা রিজিওনের সভাপতি ও স্টার লাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ফেনীর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ডেইলি স্টার জেলা প্রতিনিধি আবু তাহের, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা একরামুল হক ভূঞা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্ট্রি অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম ভূঞা, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেনী জেলা শাখার সেক্রেটারি সালাউদ্দিন মামুন ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সমির কর।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বিরসহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পরে সারা দেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বেলুন উড়িয়ে র্যালির উদ্বোধন করা হয়। র্যালিটি ফেনী পুলিশ লাইন্স থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গ্র্যান্ড সুলতানা কনভেনশন হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ফেনীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্সে থাকবে পুলিশ
-ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী
স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেছেন, মাদক সমাজে ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেনী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠনে ফেনী জেলার সিভিল সোসাইটির সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির ব্যক্তব্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী এসব কথা বলেন।
ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে, যতদিন পর্যন্ত মাদক নির্মূল না হয়। জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত মাদকবিরোধী কর্মসূচি জোরদার করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকবিরোধী আন্দোলনে তাদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদকের ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আমি ফেনীর সন্তান হয়ে বলছি, এ জেলা থেকে মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলব। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় মাদক নির্মূলে কাজ করব।’
মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ডিআইজি বলেন, মাদক নির্মূলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে মাদকবিরোধী আন্দোলন জোরদার করা জরুরি। মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশের অর্থনীতি ও সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও বিকশিত হবে। তাই মাদক কারবারিদের পক্ষে না দাঁড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মাদকাসক্ত ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর
- জেলা প্রশাসক
শহর প্রতিনিধি:
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেছেন, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার ও সমাজে। মাদকের কারণে পরিবারে আর্থিক সংকট, দাম্পত্য কলহ, বিবাহবিচ্ছেদসহ নানা ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত ব্যক্তির শরীরে বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনেও বহুমাত্রিকভাবে পড়ে।
গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেনী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠনে ফেনী জেলার সিভিল সোসাইটির সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির ব্যক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদকের বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন মাদক উৎপাদন ও পাচারকারী দেশের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকায় বাংলাদেশকে মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
মাদকমুক্ত ফেনী গড়তে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই
-পুলিশ সুপার
শহর প্রতিনিধি:
ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকমুক্ত ফেনী গড়তে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করবে পুলিশ। কোনোভাবেই এ বিষয়ে আপোস করা হবে না।
গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেনী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠনে ফেনী জেলার সিভিল সোসাইটির সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির ব্যক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। মাদক নির্মূলে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। তবে তথ্য অবশ্যই সঠিক ও নির্ভরযোগ্য হতে হবে।
পুলিশ সুপার বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফেনীকে মাদকসহ সব ধরনের অপরাধমুক্ত করা সম্ভব। এ জন্য পুলিশকে সহযোগিতার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শুধু ফেনী নয়; চট্টগ্রাম বিভাগে মাদক প্রতিরোধে অভিযান দরকার
-বিএনপি নেতা বাহার
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ফেনী জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেছেন, ফেনীর ৪টি উপজেলায় ভারতের সীমানা রয়েছে এটা ঠিক। কিন্তুু আপনারা আমাকে বলেন, সবগুলো মাদকদ্রব্যকি ভারত থেকে আসে?। শুধুকে সার্কিট হাউজের সামনে আর বেদে পল্লীতে মাদক ব্যবসা হয়? মাদককারবারীরা তাদের পাচারের রুট পরিবর্তন করেছে। চট্টগ্রাম থেকে মিরসরাই, মিরসরাই থেকে সোনাগাজী, সোনাগাজী থেকে কোম্পানীগঞ্জ। এভাবে মাদককারবারীরা নতুন রুটে বড় চালান নিয়ে যাচ্ছে। সরকারের এতোগুলো এজেন্সি, গোয়েন্দা সংস্থা, উনারা কি জানে না?। অবশ্যই জানে। এ কারবারে রাজনৈতিক, ক্ষমতাসিন ও সমাজের মোড়লসহ নানা শ্রেণির ব্যক্তিরা জড়িত।
তিনি গতকাল বুধবার ফেনী জেলা পুলিশ আয়োজিত মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ফেনী জেলার সিভিল সোসাইটির সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, ফেনীতে মাদককারবারীদেরকে অপরাধী বলা হয়, কক্সবাজার অঞ্চলে মাদককারবার না করাটাই এক ধরনের অপরাধ। সেখানে মাদক কারবারী ঘরে ঘরে রয়েছে। মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে স্কুল ছাত্র, ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, ছাত্র শিবির কেউ বাদ নাই। সেখানে মসজিদ থেকে ইমাম সাহেব এ্যারেস্ট হলো, হাতের মাঝে তাসবীহ; কিন্তুু পকেটের মাঝে ইয়াবা। এবার ডিআইজি সাহেব বলেন, আপনিতো ফেনীর নয়; আপনি পুরো চট্টগ্রামের ডিআইজি। অভিযানটা শুধু ফেনীতে করলে হবে না; আপনিতো চট্টগ্রাম রেঞ্জের দায়িত্বে আছেন। অভিযানটা পুরো চট্টগ্রামেই করতে হবে।
মাদরেক বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে
-জাফর উদ্দিন
হাইওয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কুমিল্লা রিজিওনের সভাপতি ও স্টার লাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন বলেছেন,
মাদরেক বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমরা যে যেখানে থাকি; যে অবস্থায় থাকি; মাদকে ভয়াবহতা তুলে ধরতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।
গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেনী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠনে ফেনী জেলার সিভিল সোসাইটির সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির ব্যক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, আমাদের স্টার লাইন গ্রুপে ১২ হাজার কর্মী রয়েছে। তাদের মাঝে কেউ মাদকাসক্ত নেই। কারণ আমরা কর্মী নিয়োগের আগে ড্রপ টেস্টের মাধ্যমে পরিক্ষা করে থাকি। এভাবে সবাই যদি যার যার অবস্থায় কাজ করি তাহলে মাদক নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |