| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

নামে মাত্র বিটুমিন পরশুরামে সড়ক সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম!

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 30-06-2026 ইং
  • 7 বার পঠিত
নামে মাত্র বিটুমিন   পরশুরামে সড়ক সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম!
ছবির ক্যাপশন: নামে মাত্র বিটুমিন পরশুরামে সড়ক সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম!


পরশুরাম প্রতিনিধি: 

পরশুরামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে চলমান একাধিক সড়ক মেরামত প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না করে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুধু "দেখছি" ও "ব্যবস্থা নেওয়া হবে"-এমন আশ্বাস মিললেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক স্থানে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার না করেই কার্পেটিং করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও নামমাত্র বিটুমিন দিয়ে শুধু উপরের অংশে ফিনিশিং দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে যাওয়া, ভাঙন এবং কালভার্টের মুখে গর্ত তৈরি হওয়ার মতো ঘটনা দেখা যাচ্ছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অলকা কালীবাজার রাস্তার মাথা থেকে ধনীকুন্ডা পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ ৬৮ হাজার ৩৩২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স শামসুল হক ব্রাদার্স ট্রেডার্স।

এছাড়া ধনীকুন্ডা থেকে শালধর পুরোনো ব্রিজ হয়ে শালধর পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের জন্য ৮৮ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কাজের ঠিকাদার মেসার্স হাসান মাহমুদ, ছাগলনাইয়া পেলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল ঠিকাদার কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টরের কাছে হস্তান্তর করেছেন এবং বর্তমানে বেলাল হোসেন নামে একজন সাব-কন্ট্রাক্টর কাজ পরিচালনা করছেন।

শুধু এই দুটি প্রকল্পই নয়, বর্তমানে পরশুরাম কলেজ রোড-কালীবাজার, কালীবাজার থেকে নোয়াপুর মাদ্রাসা হয়ে ধনীকুন্ডা বাজার, ধনীকুন্ডা বাজার থেকে শালধর পুরোনো ব্রিজ হয়ে শালধর সড়ক, ধনীকুন্ডা বাজার থেকে চিথলিয়া সড়ক এবং নিজকালিকাপুর-রাঙ্গামাটিয়া সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলমান মেরামত কাজেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ কাজের গুণগত মন খারাপ হওয়ার মূল কারণ সরকারি প্রকল্প এক ঠিকাদার থেকে আরেক ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করা।

শালধর পুরোনো ব্রিজ সড়কের অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মিঠু মজুমদার নামে এক ব্যক্তি উত্তেজিত আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ধনীকুন্ডা বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগের রাস্তাটাই ভালো ছিল। এই মেরামতের কোনো প্রয়োজন ছিল না। মেরামতের পর রাস্তার মান উন্নত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো হয়েছে। পুরো রাস্তার খানাখন্দ ঠিকমতো ভরাট করা হয়নি। এক পাশে কাজ হচ্ছে, অন্য পাশে আবার দেবে যাচ্ছে। ঢেউ ঢেউ খেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজ বলেন, ঠিকাদাররা নিয়ম অনুযায়ী বিটুমিন ও উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছেন না। দায়সারাভাবে কাজ শেষ করে চলে যাচ্ছেন। অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে রেগে উঠে অনেক সময় রাতের আঁধারে কাজ করেন, যাতে কেউ দেখতে না পারে।

একজন টমটম চালক বলেন, বন্যায় যেসব সড়ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোরই এখনো সংস্কার হয়নি। অথচ তুলনামূলক ভালো সড়কগুলোতেই মেরামতের কাজ চলছে। বর্তমান কাজের মান দেখে মনে হচ্ছে কয়েক মাস না যেতেই আবারও রাস্তা ভেঙে যাবে। আবারো আমরা রাস্তা নির্মাণের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম, কান্নাকাটি শুরু করবো।এমন উন্নয়ন আমরা চাই না যাতে কাঁদা লাগে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার একই সড়কে বরাদ্দ দেওয়া হলেও টেকসই কাজ না হওয়ায় জনগণের করের অর্থ অপচয় হচ্ছে। নিম্নমানের কাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা আবারও নষ্ট হয়ে নতুন করে বরাদ্দ আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে প্রকৃত উন্নয়নের বদলে সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যে ঠিকাদারকে সরকার কাজ দিবে সে ঠিকাদার যেন কাজ সম্পন্ন করে, প্রকল্প জন্য বিক্রি না করে। এক ঠিকাদার আরেক ঠিকাদারের কাছে প্রকল্প বিক্রি করার কারণেই এ ধরনের অনিয়মগুলো হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরশুরাম উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল বাসার বলেন, বিষয়টি দেখছি। অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে অভিযোগগুলো যাচাই করার ব্যবস্থা করছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে যদি নির্ধারিত মান নিশ্চিত না হয়, তবে তা শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, জনদুর্ভোগও বাড়াবে। তারা অবিলম্বে চলমান সকল সড়ক মেরামত কাজের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৌশলগত মান পরীক্ষা, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষায়, জনগণের টাকায় নির্মিত সড়ক যদি কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে যায়, তাহলে উন্নয়ন নয়, প্রশ্নবিদ্ধ হয় পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থা। একই রাস্তা বারবার ভেঙে আবার বরাদ্দ এনে কাজ করার সংস্কৃতি বন্ধ করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group