| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এম্বুলেন্সে সাদা কাপড়ের ভিতরে মা-মেয়ের লাশ

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 28-06-2026 ইং
  • 15 বার পঠিত
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এম্বুলেন্সে   সাদা কাপড়ের ভিতরে মা-মেয়ের লাশ
ছবির ক্যাপশন: শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এম্বুলেন্সে সাদা কাপড়ের ভিতরে মা-মেয়ের লাশ


ফুলগাজী প্রতিনিধি 

বাড়িতে নিজ ঘরের সামনেই এম্বুলেন্সের শীততাপনিয়ন্ত্রিত গাড়িতেই একসাথে শুয়ে আছেন মা-মেয়ে। গ্লাসের ভিতর তাকাতেই মনে হচ্ছে তারা ঘুমিয়ে আছেন। না, তাদের আর কখনো ঘুম ভাঙবে না। মা জাকিয়া আকতার (৪০) ও তার মেয়ে ওয়াহিদা আক্তার জুহা (২২) জানেনই না যে তাদের জন্য কাঁদছে মজুমদার গ্রাম, কাঁদছে পুরো আনন্দপুর, চলছে শোকের মাতম। 

গতকাল রোববার দুপুরে মজুমদার গ্রামে ঢ়ুকতেই দেখা গেল শোকের আবহ। কারও মুখে হাসি নেই। যেন সবার আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। কারণ একদিন আগেই ফুলগাজী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ওই গ্রামের মা-মেয়ে। তাদের সঙ্গে ফুলগাজীর দৌলতপুর গ্রামের কাউসার নামে এক টকবগে যুবকও প্রাণ হারান। 

গত শনিবার ফুলগাজীর দৌলতপুর গ্রামে অসুস্থ ফুফু মোর্শেদা আক্তারকে দেখে আনন্দ পুরের মজুমদার গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে ফেনী-পরশুরাম সড়কের ফুলগাজীর কলা বাগান নামকস্থানে পিকাপ-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়। মায়ের নাম জাকিয়া আকতার (৪০) ও তার মেয়ে ওয়াহিদা আক্তার জুহা'র (২৫) লাশ বাড়ির উঠানে এম্বুলেন্সের শীততাপনিয়ন্ত্রিত গাড়িতেই একসাথে রাখা আছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা গ্রামের বাসিন্দাদেরও ব্যথিত করেছে।

ঘরের সামনে এম্বুলেন্সে পড়ে রয়েছে মা ও বোনের লাশ। ১৬ বছর বয়সী আশরাফুল আলম বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। তার আহাজারি যেন কিছুতেই থামছেনা। পাশে থাকা স্বজনেরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কিছুতেই তাঁর কান্না থামছে না।

তার বোন ওয়াহিদা আক্তার জুহা'র মাত্র ৮ মাস আগে বিয়ে হয়েছিল। এখনো হাতের মেহেদী আঁকা রং শুকায়নি। তার স্বামীর বাড়ি ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠান নগর ইউনিয়নের কাজী বাড়ি। তার স্বামী কাজী আজাদ একজন ইতালি প্রবাসী। স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে গতকাল রোববার তিনিও রওয়ানা হয়েছেন ইতালি থেকে। আজ সোমবার দুপুর নাগাদ তিনি বাড়ি পৌছার কথা রয়েছে। 

নিহত জাকিয়া আকতারের স্বামীর নাম নুরের সফা। তাদের এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের মধ্যে নিহত ওয়াহিদা আক্তার জুহা ছিলেন দ্বিতীয়। স্ত্রী ও মেয়ে জুহার শেষবারের মতো মুখ দেখতে নুরের সফা (৫০) সৌদি আরব থেকে গতকাল রোববার রাতে বাড়ি পৌছান।  

নিহত জাকিয়া আকতারের দেবর ও জুহার চাচা শাহ আলম মজুমদার সবুজ গতকাল দুপুরে এ প্রতিবেদককে জানান, তার ভাই নুরের সফা সৌদি আরব থেকে গতকাল রাতে এবং আজ সোমবার দুপুরের নাগাদ তার ভাতিজি জামাই কাজী আজাদ ইতালি থেকে বাড়ি আসার পর ঠিক করা হবে দাফনের বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group