| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

নাসিরনগর উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাবুর্চিই ডাক্তার!

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 08-05-2026 ইং
  • 18777 বার পঠিত
নাসিরনগর উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাবুর্চিই ডাক্তার!
ছবির ক্যাপশন: নাসিরনগর উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাবুর্চিই ডাক্তার!


স্টার লাইন ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় এক দশক ধরে কোনো চিকিৎসক নেই। জনবল সংকটের সুযোগে সেখানে একজন বাবুর্চিভ নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছেন ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন এবং সরকারি ওষুধের বিনিময়ে টাকা নিচ্ছেন, তাছাড়াও তাবিজ, খবজ, পানি পড়া দিচ্ছেন রোগীদের  বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের জামিদার বাড়ির পাশে ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। একসময় এটি আশপাশের হাজারো মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেখানে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহকারী-এই চারটি পদের সবকটিই শূন্য রয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ সূত্রে জানা গেছে।

জনবল না থাকায় কেন্দ্রটির কার্যক্রম দেখভাল করছেন মো. রাকিব মোল্লা নামের এক বাবুর্চি। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, তিনি মূলত "কুক মশালচি"বা বাবুর্চি পদে কর্মরত। অথচ স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি গলায় স্টেথেস্কোপ ঝুলিয়ে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছেন, ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন এবং সরকারি ওষুধ বিতরণ করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঔষুধ নিতে আসা এক বৃদ্ধার সঙ্গে রাকিব মোল্লার বাগবিতণ্ডা চলছে। ওই বৃদ্বা অভিযোগ করে বলেন, ব্যথার ঔষুধ চাইলে রাকিব মোল্লা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। পরে কয়েকটা প্যারাসিটামল দিয়ে তাড়িয়ে দেন।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এখ স্থানীয় গৃহবধূ বলেন, "চুলকানির মলম নিতে গেলে তার কাছে কাছে ৫০ টাকা চায় বাবুর্চি রাকিব মোল্লা। আবার এ কথা কাউকে বলতে ও নিষেধ করেন তিনি।

আরেক বাসিন্দা মনির আহমেদের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি বলেন, "সরকারি ঔষধ রোগীদের না দিয়ে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। অনেক সময় ঔষধ দিলেও রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বাবুর্চি থেকে ডাক্তারএ হওয়া রাকিব মোল্লা। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রে ঔষধের তীব্র সংকট। ঔষধ না পেয়ে অনেক রোগী ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাকে এখান থেকে সরাতে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোঃ ফারুখ মিয়া বলেন, সে খুব খারাপ লোক।সে সুন্দরী মেয়েদের দেখলে অনেক আদর যত্ন করে। তাকে এক বার মেয়ে সংক্রান্ত ঘটনায় গণধুলাই দিয়ে এখান থেকে বিদায় করা হয়েছিল।পরে আবার কিভাবে এখানে আসলো আমরা জানি না।তাকে এখান থেকে দ্রুত বিদায় করার দাবী জানান তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অদিতি রায় বলেন, আপনারা জানেন আমি মাত্র দুই মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। আমি আপনাদের মত অভিযোগ পেয়েছি।আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।তার বিরোদ্বে কিছু অভিযোগ পেয়েছি।আপনারা জানেন সেখানে ৪টি পদই শুন্য। সিভিল সার্জন স্যারের সাথে কথা হয়েছে। আমরা তাকে সেখান থেকে অন্যত্র দিয়ে নতুন লোক দেব।

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকশূন্য থাকায় এবং অনিয়মের কারণে এলাকার দরিদ্র মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত জনবল নিয়োগ ও বাবুর্চি রাকিব মোল্লার বিরোদ্বে তদন্তের দাবি জানান স্থানীয়রা।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group