| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রনে একনেক সভায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 16-06-2026 ইং
  • 701 বার পঠিত
ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রনে একনেক সভায়  দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
ছবির ক্যাপশন: ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রনে একনেক সভায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন



নুর উল্লাহ কায়সার:

ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) প্রকল্প নামের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। এই প্রকল্প যথাযথ ভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যা থেকে মুক্তিপাবে ফেনীর মানুষ। এরআগে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ভয়াবহ বন্যায় ফেনীতে অন্তত ২৯ জনের প্রাণহানী ও অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পড়ে ফেনীবাসী। 

জানা যায়, ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং পুনরুজ্জীবিত করতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহন করেছে সরকার। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সেচ সুবিধা, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীরতীর ভাঙন ও দখল-দূষণ প্রতিরোধ সম্ভব হবে। 

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেন, সরকারের চলমান নদী ব্যবস্থাপনা ও পানিসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রকল্পটি গুরুত্ব পেয়েছে। সরকার পানির গতিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে বিভিন্ন নদী ও শাখা নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই একাধিক অঞ্চলে খাল খননের উদ্বোধন করেছে। সেজন্য পাউবো প্রকল্পটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে পানি সংরক্ষণ, বন্যা থেকে রক্ষা, সেচ ও কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখবে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব নদী পুনরুজ্জীবিত করা হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধার সমপ্রসারণ, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


কি আছে এ প্রকল্পে?

প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, বেসরকারি অবকাঠামো, কৃষিজমিসহ ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকার সম্পত্তি সুরক্ষা, ৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৫ টন কৃষি, ১৫ টন মৎস্য ও ২৫ টন পোলট্রি রক্ষা করতে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা, ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণসহ অন্যান্য নির্মাণকাজ করা হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের জুনে কাজ শেষ হবে। প্রকল্প এলাকা ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও সদর উপজেলা।


যা জানালো পরিকল্পনা কমিশন 

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের বন্যায় ফেনীর বিভিন্ন নদীতে অতিরিক্ত পলি জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন নদীর বাঁধ ও তীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে প্রতি বছর অতিভারি বর্ষণ ও উজানে ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পানিতে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও তীর শক্তিশালী করা এবং মুহুরী ও কহুয়া নদীতে পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে প্রকল্প এলাকায় সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, নদীভাঙন রোধ, জনসম্পদ রক্ষায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে।


প্রকল্প এলাকায় বদলে যাবে জীবনধারা

প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ‘২০১৪ সালের বন্যায় ফেনীর নদীগুলোর বাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় বাঁধের অবস্থা দুর্বল। বাঁধ ও তীরগুলো শক্তিশালী করতে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বাঁধ সংস্কার, নদী পুনঃখনন, এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে। এটি প্রকল্পের প্রথম ফেস-১-এর প্রথম ধাপ। এটি বাস্তবায়ন হলে ফেনীর মুহুরী-কহুয়া নদী সেচ ব্যবস্থা এ অঞ্চলের কৃষিতে বড় ভূমিকা রাখবে এবং বন্যায় জনসম্পদ রক্ষা পাবে। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এবং স্থানীয় কৃষি ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।’

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group