ঈদে টুংটাং শব্দে মুখরিত থাকলেও সারা বছর অভাবে কাটে দিন
এস.এন আবছার :
আধুনিক শিল্পোন্নয়নের এই সময়ে বড় বড় কারখানায় লোহার দা ছুরি ইত্যাদি পারিবারিক নিত্য ব্যবহার্য্য জিনিসপত্র তৈরীর কারণে দিন দিন জৌলুশ হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প।
ঈদুল আযহার আগে কিছুদিন কাজের চাপ থাকলেও সারা বছর কাজের অভাবে দিন কাটে আর্থিক অভাব অনটনে, তবুও পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পেশা বংশ পরম্পরায় ধরে রেখেছেন অনেকে।
গতকাল মঙ্গলবার ফেনী শহরের রেলস্টেশন সংলগ্ন সততা কর্মকারের দোকানে গিয়ে কথা হয় বাবুল কর্মকারের সাথে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কাজের চাপে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পের মালিক শ্রমিকেরা। এসময় কথা হয় শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত কামার শিল্পের মালিক বাবুল কর্মকারের সাথে। তিনি জানান, কাজের যা চাপ দেখছেন, তা পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে। এখন ৮০ভাগ কাজ হলো বাড়ীর পুরাতন দা ছুরি বটি ধামা ইত্যাদি ধার দেয়া। নতুন মালের অর্ডার একেবারেই কম।
পাঁচগাছিয়া বাজারের বাদল কর্মকার নামে আরেকজন কামার জানান, ঈদের আগে কাজের ভালোই চাপ থাকে, বিভিন্ন স্থান থেকে বাড়তি শ্রমীক এনে কাজ করতেছি, বাকি সারা বছর কাজ কম থাকে তাই বাড়তি শ্রমীক লাগেনা, নিজেরা নিজেরাই কাজ করি।
জেলার সোনাগাজী ও দাগনভূঞাঁ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের কামার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দাঁ ছুরি বটিতে শান দেয়া নিয়ে মহা ব্যাস্ততায় তারা, সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত লাল আগুনের লোহায় কামারদের টুংটাং শব্দের পিটাপিটিতে মুখর হয়ে উঠেছে দোকানগুলো।
সোনাগাজীর দীপক কর্মকার জানান, আমার দাদা পিতা সবাই এই পেশায় ছিলেন, আমিও ৪৩বছর যাবত এই পেশায় আছি। এখন আর এই কাজে আগের মত গোমর নেই, বাপ দাদার পেশা নিজে ধরে রেখেছি তবে আমার সন্তান দের আর এই পেশায় আনতে চাই না। আমার সন্তানেরা পড়াশোনা করছে তারা চাকুরি বাকুরি বা ব্যাবসা করবে আমি এমনটাই চাই।
সোনাগাজী কামার পাড়ায় গিয়ে দেখা হলো দা ছুরি শান দিতে আসা পৌরসভা এলাকার নুরুল করিম সাইফুলের সাথে, তার সাথে কথা বলতেই তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, কামারেরা মানুষের থেকে গলাকাটা দাম নিচ্ছে, যে ছুরি গত বছর ২শত ২০টাকা দিয়ে কিনেছি সেই ছুরি শান দেয়ার জন্য একদাম দেড়শত টাকা চাচ্ছে, কামারপাড়ার কাজের মুজুরির একটা তালিকা থাকা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
জেলার কামার শিল্পের এলাকা গুলো ঘুরে ও এই পেশার মালিক শ্রমীকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে দিন ভালো কাটছেনা তাদের, সারা বছরের আয়ের সিংহ ভাগ আসে ঈদ মৌসুমেই, কেমন আয় রোজগার হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে দিলীপ কর্মকার জানান, এই ঈদ মৌসুমে শ্রমীকের বেতন ও কাঁচা মালের খরচ বাদ দিয়ে ২লাখ টাকার মত আয়ের একটা লক্ষমাত্রা রয়েছে, আয়ের এই অংক ছোট দোকান গুলোতে আরো কম।
কর্মকার সম্প্রদায়ের লোকজন এই পেশার ভবিষ্যত নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত, কারণ এ কাজের সময় অধিক শব্দ হয় বলে শহরে তেমন কেউ তাদের দোকান ভাড়া দিতে চায় না। আগামীতে এ পেশা টিকিয়ে রাখা খুব কষ্ট হয়ে পড়বে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
এই মতের যুক্তি হিসাবে তারা বলেন, আমরা একটা ছুরি বা খুন্তি বানাতে যথেষ্ট শ্রম দিয়ে, কাঁচামাল (লোহা, কয়লা ইত্যাদি) খরচ করে বিক্রি করি ২শত টাকা, একই সাইজের ছুরি বড় কারখানায় রঙ লাগিয়ে সুন্দর করে বানিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে ১শত থেকে দেড়শত টাকা, বড় কারখানায় তৈরী লোহার পন্য দেখতে সুন্দর হলেও কামার পাড়ায় হাতে বানানো পন্য অনেক মজবুত এবং ব্যবহারে আরামদায়ক বলে মন্তব্য করেন তারা।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |