স্টাফ রিপোর্টার:
ফেনী সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ধলিয়া-লেমুয়া সড়কের প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ কাজ নিয়ে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ২০ কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পে মানসম্মত উপকরণের পরিবর্তে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, “ধলিয়া-লেমুয়া সড়ক” উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার চেইনেজ ০ থেকে ৬ হাজার ৯৩৮ মিটার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণের কাজ চলছে। প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ১৯ কোটি ৮৪ লাখ ৮৬ হাজার ৯২০ টাকা এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী চুক্তিমূল্য ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৮ টাকা। ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়েছে এবং ৫৪০ দিনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
কাজ শুরুর পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত ইটের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। তাদের দাবি, অনেক ইট সহজেই ভেঙে যাচ্ছে। এছাড়া ইটের গাঁথুনির কাজে মানসম্মত বালুর পরিবর্তে নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন পুকুরের গার্ডওয়াল নির্মাণেও নকশা ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। নিম্নমানের ইট ব্যবহারের পাশাপাশি নির্মাণকাজে পর্যাপ্ত তদারকির অভাব রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্তমান অবস্থায় কাজ সম্পন্ন হলে কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকারি অর্থের অপচয় ঘটবে। তারা নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাইয়ে ল্যাব টেস্ট, প্রকল্পের গুণগত মান পরীক্ষা এবং একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন সম্ভব নয়। তারা এলজিইডি, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রকল্পটির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মিজান বলেন, “যৌথভাবে (জেভি) আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে। কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজের বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে এমন কিছু হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফেনী সদর উপজেলা প্রকৌশলী দিপ্ত দাশ গুপ্ত বলেন, “কিছুদিন আগে নিম্নমানের ইট আনার বিষয়টি আমাদের নজরে এলে আমরা ঠিকাদারকে সতর্ক করি এবং সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |