| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

পরশুরামে প্রাবি ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 07-06-2026 ইং
  • 534 বার পঠিত
পরশুরামে প্রাবি ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: পরশুরামে প্রাবি ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ


পরশুরাম প্রতিনিধি

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাউতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 

গত শনিবার সকালে বিদ্যালয়টির মেঝে ঢালাইয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়ম দেখে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে উপজেলা এলজিইডির প্রতিনিধিরা এসে কাজের মান বাড়ানোর নির্দেশ দিলেও, তারা চলে যাওয়ার পরপরই আবারও নিম্নমানের বালু, দুই-তিন নম্বর ইট এবং নামমাত্র সিমেন্ট ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসী আবারও কাজ বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মহিসিন অভিযোগ করে বলেন, "এখানে বারবার বাধা দেওয়ার পরেও উপজেলা এলজিইডির পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। বরং তারা উল্টো অনিয়মকেই নিয়ম বলে চালিয়ে দিচ্ছে।

একই গ্রামের আরিফ জানান, এর আগেও বহুবার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো কাজের মানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শাকিল ভূঁইয়া নামের এক স্থানীয় যুবক বলেন, "কাজের মান অত্যন্ত খারাপ। এভাবে কাজ করলে যেকোনো মুহূর্তে ভবন ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।" স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইমাম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "দক্ষিণ কাউতলীর একমাত্র বিদ্যাপীঠ এটি। সরকার টাকা দিচ্ছে, কিন্তু সঠিক কাজ হচ্ছে না। আমাদের ছেলে-মেয়েদের নিরাপত্তার কথা কেউ ভাবছে না।"

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৬৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩০৬ টাকা ব্যয়ে এই নতুন ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ পায় 'তুলি তুশি এন্টারপ্রাইজ' নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা পালিয়ে যান। ফলে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর, উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহ আলম ভূঁইয়ার দায়িত্বে নতুন করে কাজ শুরু হয়। কিন্তু এর পরই অনিয়মের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

কিছুদিন আগে ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের সময় সিলেকশন বালুর পরিবর্তে ভিটি বালু ব্যবহার এবং সিমেন্ট কম দেওয়ার অভিযোগে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের বাধাকে তোয়াক্কা না করে মাত্র দুই ঘণ্টা পর আবারও জোরপূর্বক ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চালু করেন উপজেলা এলজিডির কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তফা বলেন,

"আমি নিজে চোখের সামনে অনেকগুলো অনিয়ম দেখে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। একদিকে কাজের মান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে কাজ ধীরগতিতে চলায় আমাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং কোমলমতি শিশুদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।"

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন জানান, ঢালাইতে সঠিক পরিমাণে সিমেন্ট দেওয়া হয়নি এবং দেয়ালে দুই-তিন নম্বর ইট ব্যবহার করে গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে, যা পুরোপুরি নিয়মবহির্ভূত।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর মোঃ ওবায়দুল বাশার জানান, আমরা অনিয়মের বিষয়টি জেনেছি। দ্রুতই ঘটনাস্থল তদন্ত করে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাজের মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group