নিজস্ব প্রতিনিধি
সময় বদলায়, বদলে যায় চারপাশের চিত্রও। কিছু পরিবর্তন উদ্বেগ বাড়ায়, যেমন জলবায়ু পরিবর্তন। আবার কিছু পরিবর্তন এনে দেয় স্বস্তি ও আশার আলো। ফেনীর একটি গ্রামের সড়কের পরিবর্তন এখন এমনই এক ইতিবাচক উদাহরণ।
ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের মধুয়াই গ্রামের গাজী ইয়াছিন ফকির জামে মসজিদ সড়ক। ৫ বছর আগেও সড়কটি ছিল নির্জীব ও সবুজের চিহ্ন ও ছিলোনা। এখন সেই সড়কের দুই পাশজুড়ে সারি সারি গাছ, যা পথচারীদের নজর কাড়ছে। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছেন শিক্ষক, লেখক, সামাজিক সংগঠক ও পরিবেশকর্মী নজরুল বিন মাহমুদুল।
২০২১ সালে পরিবেশ ক্লাব অব ইয়ুথ নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ওই সড়কে ২৫০টি দেবদারু গাছের চারা রোপণ করা হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ফেনীর সাবেক জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান।
তবে কাজটি সহজ ছিল না। চারপাশে ছিল শুষ্ক পরিবেশ, বৃষ্টির দেখা ছিল না। গাছ লাগানোর পর টানা প্রায় এক মাস সকাল-বিকাল পানি দিতে হয়েছে। সড়কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত গাছে পানি দিতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগত। শুরু থেকে গাছের পরিচর্যার বেশিরভাগ কাজ একাই করেছেন নজরুল।
তিনি জানান, গাছ লাগানো ও পরিচর্যার সময় নানা সমালোচনা ও কটু কথাও শুনতে হয়েছে। তবে তিনি থেমে যাননি। পরে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ এগিয়ে আসেন এবং পরিচর্যার কাজে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নজরুল বিন মাহমুদুল এলাকায় বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক কাজে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি প্রশংসিত।
শুধু একটি সড়ক নয়, ফেনীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, বাড়ির আঙিনা ও সড়কে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় কাজ করেছেন তিনি। তরুণদের পরিবেশ সচেতন করতে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘পরিবেশ ক্লাব অব ইয়ুথ নেটওয়ার্ক’। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্যরা ফেনীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কাজ করছেন।
সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পুরস্কারও পেয়েছেন নজরুল বিন মাহমুদুল। বৃক্ষরোপণে অবদানের জন্য পেয়েছেন “শ্রেষ্ঠ পরিবেশ বন্ধু পদক”। এছাড়া যুব নেতৃত্ব ও সামাজিক কাজে অবদানের জন্য হয়েছেন ফেনী জেলার “শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক”। জাতীয় যুব পুরস্কারে “শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক” ক্যাটাগরিতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছেন তিনি।
লেখালেখিতেও রয়েছে তার পরিচিতি। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা নিয়ে প্রকাশিত বই ‘চব্বিশের বন্যা’ পাঠকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
নজরুল বিন মাহমুদুল বলেন, “যেকোনো ভালো কাজের শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি বিশ্বাস করি, ছোট ছোট উদ্যোগই একদিন বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। মানুষ ও মানবতার কল্যাণে আমার কাজ ও উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। ইনশাআল্লাহ।
এক সময়ের নির্জীব সড়ক আজ সবুজ ছায়ায় ঘেরা। আর এই পরিবর্তনই প্রমাণ করে; একজন মানুষের উদ্যোগও বদলে দিতে পারে একটি জনপদের চিত্র।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |