| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

লোডশেডিং মোকাবিলায় সাংবাদিক রাজুর প্রস্তাব সিঙ্গেল-ফেজ অন-গ্রিড সোলার ও নেট মিটারিং চালুর দাবি

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 14-08-2026 ইং
  • 6 বার পঠিত
লোডশেডিং মোকাবিলায় সাংবাদিক রাজুর প্রস্তাব  সিঙ্গেল-ফেজ অন-গ্রিড সোলার ও নেট মিটারিং চালুর দাবি
ছবির ক্যাপশন: লোডশেডিং মোকাবিলায় সাংবাদিক রাজুর প্রস্তাব সিঙ্গেল-ফেজ অন-গ্রিড সোলার ও নেট মিটারিং চালুর দাবি


নিজস্ব প্রতিবেদক: 

দেশজুড়ে চলমান লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন সিঙ্গেল-ফেজ আবাসিক গ্রাহকদের জন্য অন-গ্রিড সোলার ও নেট মিটারিং ব্যবস্থা দ্রুত ও সহজভাবে চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন জে আর টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম রাজু।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলছে। কোথাও কোথাও ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণকে নিজেদের অর্থে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

জহিরুল ইসলাম রাজু জানান, ব্যক্তিগতভাবে গত ৫-৭ বছর ধরে হাইব্রিড সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে তিনি নিজের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করছেন। তাঁর সোলার সিস্টেমে দিনের বেলায় প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। ঘরের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত প্রায় ১.৫ থেকে ২ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ অনেক সময় ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। তাঁর ব্যবহৃত হাইব্রিড ইনভার্টার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহে সক্ষম হলেও নেট মিটারিং সুবিধা না থাকায় তা পল্লী বিদ্যুতের গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নেট মিটারিং কীভাবে কাজ করে?

নেট মিটারিং হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কোনো গ্রাহক নিজের সোলার প্যানেল থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে তা বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রিডে সরবরাহ করতে পারেন। আবার যখন সোলার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজের চাহিদার তুলনায় কম হয়, তখন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া যায়। দ্বিমুখী মিটারের মাধ্যমে গ্রিডে দেওয়া ও গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুতের হিসাব রাখা হয় এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বিল সমন্বয় করা হয়।

জহিরুল ইসলাম রাজুর মতে, দেশের লাখ লাখ আবাসিক গ্রাহককে এ ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে। গ্রাহকরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ১ কিলোওয়াট, ২ কিলোওয়াট কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী সোলার সিস্টেম স্থাপন করে দিনের বেলায় নিজেদের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে পারবেন। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে হিসাব সমন্বয় করা যাবে।

এতে একদিকে গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল কমবে, অন্যদিকে দিনের বেলায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার ওপর সরকারের চাপও কমানো সম্ভব হবে। জনগণ নিজেদের অর্থে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে এত বড় একটি সম্ভাবনাকে আর কতদিন অব্যবহৃত রাখা হবে? পল্লী বিদ্যুতের সিঙ্গেল-ফেজ আবাসিক গ্রাহকদের জন্য অন-গ্রিড সোলার ও নেট মিটারিং ব্যবস্থা সহজ ও ব্যাপকভাবে চালু করা হলে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে এগিয়ে আসতে পারেন।

জহিরুল ইসলাম রাজু আরও জানান, গত দুই বছর ধরে এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, বিদ্যুৎ বিভাগ, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। তবে সিঙ্গেল-ফেজ আবাসিক পর্যায়ে অন-গ্রিড সোলার ও নেট মিটারিং নিয়ে এখনো সহজ ও কার্যকর সমাধান পাননি।

বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে জনগণকে শুধু বিদ্যুৎ পাওয়ার অপেক্ষায় না রেখে নিজেদের বিদ্যুৎ নিজেরাই উৎপাদনের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্রেডা ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জে আর টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম রাজু।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group