| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং, সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন?

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 03-07-2026 ইং
  • 10 বার পঠিত
হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং, সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন?
ছবির ক্যাপশন: হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং, সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন?


নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সড়কের সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও প্রয়োজনের তুলনায় কম বিটুমিন ব্যবহার করায় কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার মো. চাষী। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার না করায় কার্পেটিং সড়কের সঙ্গে সঠিকভাবে সংযুক্ত হয়নি। ফলে কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাত দিয়ে টান দিলে কার্পেটিং উঠে আসছে।

গত বৃহস্পতিবার কাজের প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে উপজেলার নলুয়া গ্রামের ননা মিয়ার দোকানের সামনে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি হাত দিয়ে টান দিলে সড়কের কার্পেটিং উঠে আসে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজটি নির্ধারিত সিডিউল ও মানদণ্ড অনুসরণ করে করা হয়নি। তাঁদের দাবি, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে নিম্নমানের কাজ হয়েছে, যা সরকারি অর্থের অপচয়ের শামিল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মো. চাষীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি কয়েকবার কাজ পরিদর্শন করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘যে অভিযোগ উঠেছে, সেটা অভিযোগের পর্যায়ে পড়ে না। কিছু উৎসুক মানুষ কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। কাজের সিডিউল বা অন্য কোনো তথ্য জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে। তখন প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হবে।

তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, এখানে কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজে গাফিলতি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি তথ্য জানতে চাইলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি। তাঁরা তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পরামর্শ দেন।

এ ঘটনায় সরকারি অর্থে বাস্তবায়ন হওয়া সড়ক সংস্কারকাজের গুণগত মান ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group