শাখাওয়াত হোসেন টিপু:
দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সেবার মান বৃদ্ধি ও আন্তরিক সেবা পাওয়ায় সুফলভোগীতের আস্থা অর্জন করেছে। বিশেষ করে উপজেলায় প্রসূতি সেবায় আস্থা ও বিশ্বাসের ঠিকানায় রূপ নিয়েছে সরকারী এ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও ইনডোর, আউটডোর ও জরুরী বিভাগের সেবায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন হওয়ায় উপজেলার ৩ লক্ষাধিক মানুষের ভরসায় এসেছে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
জানাযায়, ১৯৯৬ সালে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থাপিত হয়। এরপর থেকেই হাসপাতালটির কর্মচারী সংকট, পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকা, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও পথ্য না পাওয়াসহ নানা অব্যাবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সেবা দিয়ে আসছিলো। নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও কখনো কখনো উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সৃজনশীলতা আর আন্তরিকতায় হাসপাতালটি জেলা পর্যায়ে সুনামের অধিকারী হয়। বিশেষ করে গর্ভকালীন প্রসূতি সেবায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারী এ হাসপাতালটি বারবার জেলা পর্যায়ে শিরোপায় ছিলেন।
সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, এ হাসপাতালে চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে ৩ হাজার ৩৮৪ জন প্রসূতি সেবা নিয়েছেন। তন্মধ্যে ৪৪ জন সিজার, ৩৭৫ জন নরমালে সন্তান প্রসব ও ২ হাজার ৮১৯ জন বিভিন্ন সময়ে আউটডোর সেবা গ্রহন করেছেন। বাকী ১৪৬ জন রোগীকে নানা জটিলতায় জেলা ও বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও হাসপাতালটিতে নিয়মিত মা ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ, টিকা, পুষ্টি নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। গর্ভকালীন সেবার প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা, গর্ভাবস্থার জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া এবং নিরাপদ প্রসবের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়গুলো সেবাগ্রহিতাদের অবহিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সচেতনতামূলক এ কার্যক্রমকে সেবাগ্রহিতারা ইতিবাচক মনে করে থাকেন।
সেবা নিতে আসা প্রসূতি ফেরদৌস আক্তার বলেন, দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েআগত বেশিরভাগ রোগীই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাসিন্দা। এ হাসপাতালের ডাক্তাররা আন্তরিক, সেবিকারাও সাধ্যমত চেষ্টা করেন। সেই কারণে উপজেলার প্রসূতিদের প্রথম চয়েস থাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা বলেন, একজন প্রসূতি বাচ্চা গ্রহনের পূর্ব থেকেই নানা নিয়মের মধ্য দিয়ে সময় পার করতে হয়। বাচ্চা পেটে আসার পর থেকে প্রয়োজনীয় সচেতনতা ও নিয়মিত চেকআপে থাকতে হয়। আমাদের হাসপাতালে প্রসূতিদের জন্য সকল সার্ভিস নেই। তারপরও যতটুকু আছে সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টায় আমাদের কমতি নেই। এ হাসপাতালে এ্যানেসথেসিস্ট নেই। জরুরী সিজার প্রয়োজন হলে অনকলে এ্যানেসথেসিস্ট আনতে হয়। কখনো কখনো রোগীদের অবস্থা বুঝে জেলা অথবা অনত্র রেফার্ড করতে হয়।
দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সানজিদা মাহবুব জানান, আমাদের হাসপাতালে শুধু মাতৃত্বকালীন সেবা নয়। এখানে আউটডোর-ইনডোর সকল সেবার মান বৃদ্ধি করতে সবাই মিলে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। এ সীমাবদ্ধতাকে মাথায় রেখে সক্ষমতার পুরোটাকেই উপজেলার মানুষের জন্যও কাজে লাগাতে চাই। বিশেষ করে প্রসূতি সেবায় এ হাসপাতালটিকে একটি মডেল হাসপাতাল করতে কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |