| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

দাগনভূঞায় খাল পুনঃখনন শেষে ৬১ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 29-07-2026 ইং
  • 5 বার পঠিত
দাগনভূঞায় খাল পুনঃখনন শেষে   ৬১ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও
ছবির ক্যাপশন: দাগনভূঞায় খাল পুনঃখনন শেষে ৬১ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও


দাগনভূঞা প্রতিনিধি: 

ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বিরলী খাল ও জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনিয়া খাল পুনঃখনন শেষে প্রকল্পের উদ্ধৃত্ত ৬১ লাখ ২০ হাজার ৬৪৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলার রাজাপুর বিরলী খাল ও সিলোনিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করে বিশাল অঙ্কের এই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, রাজাপুর বিরলী খাল ও সিলোনিয়া খাল পুনঃখননের ফলে খালের নাব্য ও সেচ সুবিধা বাড়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বছরের কয়েকটি ফসল উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খালের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারাও রোপণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এছাড়াও খাল খননের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলাধার সংরক্ষণে রাজাপুর ইউনিয়নের বিরলী খালের পাড়ে গাছ ৪০০টি ও জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনিয়া খালে ২০৩টি গাছ লাগানো হয়েছে।

দাগনভূঞা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজাপুর খালের দৈর্ঘ্য-১ কিলোমিটার ও সিলোনিয়া খালের দৈর্ঘ্য-২ কিলোমিটার উভয় খালের কাজ শুরু হয়েছে গত ১৭ মে। কাজ সম্পন্ন হয়েছে গত ৩০ জুন। রাজাপুর বিরলী খালের বরাদ্দ ছিল ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা। খরচ হয়েছে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৭৪ টাকা, ফেরত দেওয়া হয়েছে ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ টাকা।

সিলোনিয়া খালের মোট বরাদ্দ ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা, খরচ হয়েছে ২৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৬৯ টাকা এবং ফেরত দেওয়া হয়েছে ২৫ লাখ ৬২ হাজার ১২৬ টাকা।

দুটি খালে ৩ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ৩ লাখ ৭ হাজার ৯৯০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। খরচ হয়েছে ৪১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৪৩ টাকা এবং ফেরত দেওয়া হয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ৬৪৭ টাকা।

প্রকল্পের নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে ৩ কিলোমিটার কাজ শেষ করার পরও মোট ৬১ লাখ ২০ হাজার ৬৪৭ টাকা অব্যয়িত থাকে। পরবর্তীতে সেই অর্থ নিয়ম মেনে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

পুরো প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিদুল ইসলাম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রবিউল হোসেন।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, বর্ষা মৌসুমে পানি জমে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। পানি বের হতে পারতো না। খাল খনন করার ফলে এখন অনায়াসে পানি চলে যাবে। এ খাল খননে আমাদের অনেক উপকার হলো। আমরা এখন সঠিক সময়ে সরিষাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করতে পারবো। আমাদের কৃষকদের মাঝে বছরে কয়েকটি ফসল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম চলছে। খাল খননের ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা বিভিন্ন ফসল আবাদ করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, আগে বন্যা হলে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো। খালখনের ফলে এখন আর জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এখন কৃষক সঠিক সময়ে ফসল আবাদ করতে পারবে। দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ও সিলোনিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পের কাজ শেষে টাকা ফেরত দেওয়ায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইউএনওকে ধন্যবাদ জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বিরলী খাল এবং সিলোনিয়া খাল খনন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় রাজাপুর ও জায়লস্কর ইউনিয়নসহ অন্যান্য এলাকার ব্যাপক জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সমান্তরাল বিভিন্ন সংযোগ খালগুলোকে যদি সচল করা হয় তাহলে জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসন হবে। দাগনভূঞাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিএডিসি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে ৩৩টি খাল পুনঃখননের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।খালগুলো যদি পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয় তাহলে স্থায়ীভাবে দাগনভূঞাতে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। এতে দাগনভূঞার কৃষক কৃষাণীদের/কৃষক পরিবারের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাজের মান বজায় রেখে প্রকল্পের ৩ কিলোমিটার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অব্যয়িত ৬১ লাখ ২০ হাজার ৬৪৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ খালগুলো পুনঃখননের সুফল স্থানীয় কৃষকেরা দীর্ঘদিন ভোগ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group