| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ভাষা শহীদ সালামের জন্মভূমি ফেনীতে ৭৪ বছরেও মহাসড়কে তোরণ নির্মাণের দাবী পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি

রিপোর্টারের নামঃ Starline Admin
  • আপডেট টাইম : 21-02-2026 ইং
  • 75 বার পঠিত
ভাষা শহীদ সালামের জন্মভূমি ফেনীতে  ৭৪ বছরেও মহাসড়কে তোরণ নির্মাণের  দাবী পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি
ছবির ক্যাপশন: ভাষা শহীদ সালামের জন্মভূমি ফেনীতে ৭৪ বছরেও মহাসড়কে তোরণ নির্মাণের দাবী পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি


ভাষা শহীদ আবদুস সালামের নামে মহাসড়কে তোরণ নির্মাণ, বাড়ির দরজায় উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনের দাবী এখনো উপেক্ষিত। আশ্বাসেই আটকে আছে সালাম নগরে শিশুপার্ক স্থাপনের কাজ। গন্থাগার থাকলেও নতুন বই না থাকায় কেউ আসেনা এখানে। তবে ফেব্রুয়ারী মাস শুরু হলেই আশ্বাসের ফুলঝুড়িতে হাওয়া লাগে সালাম নগরে। 

নুর উল্লাহ কায়সার: 

ভাষা শহীদ আবদুস সালামের গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষ্মণপুর (বর্তমানে সালাম নগর) গ্রামে। গ্রামটি প্রান্তিক জনপদে হওয়ায় সারা বছর কেউ সালাম পরিবার ও এলাকার খোঁজ রাখেনা। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারী শুরু হলেই কদর বাড়ে এ গ্রামের। এ মাসেই গ্রামটিতে পাঁ রাখেন দেশের বিশিষ্ট্যজন ও প্রশাসনিক কর্তারা। খবরের সন্ধানে ঘুরে ফেরেন ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরাও। ভাষা শহীদ সালামের নামে তার বাড়ির দরজায় ভাষা শহীদ আবদুস সালাম গন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেখানেই বছর জুড়ে থাকে শুনসান নিরবতা। ভাষা শহীদ সালাম সম্পর্কে আগামী প্রজন্মকে জানাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক এবং ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে তোরণ নির্মাণ, গ্রামের বাড়ির সামনে উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন, জাদুঘরে স্মৃতি সংরক্ষণ ও গ্রন্থাগারে নতুন নতুন বই সংযোজন এবং একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবী করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও শহীদ সালামদের রক্তের দামে কেনা ভাষা বাংলাকে সকল স্তরে চালু করার দাবী জানিয়েছেন বিশিষ্ট্যজনরা। তবে স্থানীয় ও বিশিষ্টজনদের সবগুলো দাবীই পূরণের সম্ভাব্যতা যাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন ফেনী জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসন। 

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন ভাষা শহীদ আবদুস সালাম। বাংলা ভাষা রক্ষার আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন তিনি। সেখানে গোলাগুলিতে গুলিবৃদ্ধ হন আবদুস সালাম। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ৭ এপ্রিল মৃত্যু বরণ করলে তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবার ও স্বজনদের দাবীর প্রেক্ষিতে ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর পর ২০১৭ সালে আজিমপুর কবরস্থানে আবদুস সালামের কবর শনাক্ত করা হয়। 

ভাষা শহীদ আবদুস সালামকে স্মরণীয় করে রাখতে তার গ্রামের বাড়ি লক্ষণপুরের নাম পরিবর্তন করে সেটিকে সালাম নগর গ্রাম করা হয়েছে। সালামের বাড়ির সামনে লক্ষণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ভাষা শহীদ আবদুস সালাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়েছে। ২০০০ সালে ফেনীতে ভাষা শহীদ সালাম স্টেডিয়ামের নাম করণ করা হয়। ২০০৭ সালে দাগনভূঞা উপজেলা অডিটরিয়ামের নাম করণ করা হয় ভাষা শহীদ সালাম মিলনায়তন। ২০০৮ সালে সালামের বাড়ির দরজায় নির্মাণ করা হয় ভাষা শহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের নাম করা হয় ভাষা শহীদ আবদুস সালাম। আবুল কায়েশ রিপন নামের এক ব্যক্তির অর্থায়নে ২০১৭ সালে সালামের নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় ভাষা শহীদ সালাম মেমোরিয়াল কলেজ। এছাড়াও সালামকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অন্যতম যুদ্ধ জাহাজের নাম করণ করা হয় বানৌজ সালাম। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২০০০ সালে ভাষা শহীদ সালামকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

এদিকে ভাষা শহীদ আবদুস সালামের ছোট ভাই আবদুল করিম জানান, আমাদের বাড়ির দরজায় স্থাপিত গন্থাগারকে প্রাণচাঞ্চল্যকর রাখতে পাশের স্কুলটিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা গেলে পাঠক সৃষ্টি হবে। তাছাড়া এটিকে স্মৃতি জাদুঘর নাম দেয়া হলেও মূলত এখানে সালামের কোন স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়নি। এখানে ২০১৮ সালের পর নতুন কোন বই আসেনি। 

সরে জমিনে ভাষা শহীদ সালাম স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘরে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেই ভবনটিকে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সেখানে কয়েকজন পাঠক বিভিন্ন রকমের বই পড়ছেন। গ্রন্থাগারের লাইব্রেরীয়ান মো. লুৎফর রহমান বাবলু জানান, গন্থাগারে সাড়ে ৩ হাজার বই রয়েছে। প্রায় সবগুলোই পুরাতন। ২০১৮ সালের পর আর কোন বই এ পাঠাগারের জন্য ক্রয় করা হয়নি। বছরজুড়ে গন্থাগারটিতে পাঠকের আনাগোনা কম থাকে। পাশের রাস্তাটি সংস্কার হওয়ায় বর্তমানে পাঠকের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও নতুন বই না থাকায় পাঠকরা এখানে আসতে আগ্রহ পাচ্ছেননা। তিনি জানান, পাঠাগারে বর্তমানে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ভাষা আন্দোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক বই রয়েছে। তবে ভাষা শহীদ সালামের উপর বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বইটি এখনো সরবরাহ করা হয়নি। তাছাড়া ২০২৪ এর বন্যায় পাঠাগারটি পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার পর সবগুলো বইয়ের আলমিরা ও বই নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকদিন টানা রৌদ্দে শুকিয়ে কিছু বই পাঠযোগ্য করা গেলেও বেশিরভাগ বই নষ্ট হয়ে গেছে। আলমিরা না থাকায় বইগুলো টেবিলের উপরই রাখতে হয়। 

ভাষা শহীদ আবদুস সালাম স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ও ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, ভাষা আন্দোলনের গৌরব গাথা ইতিহাস পাঠ্যপুস্ককে অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন। সালামদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা দেশের সর্বোাস্তরে চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে। সালাম নগরে জনসমাগম নিশ্চিত করার জন্য সেখানে একটি পার্ক অথবা বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবী জানান সালাম পরিষদের এ নেতা।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ভাষা শহীদ সালামের গ্রামের বাড়ি দাগনভূঞার মাতুভূঞা ইউনিয়নে অবস্থিত। ভাষা শহীদ সালামের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পৌছে দিতে গ্রামটিকে জনসম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।  


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group