| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

বৃষ্টি-জোয়ারে হাতিয়ায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি, বিপাকে ৮০ হাজার কৃষক

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 21-07-2026 ইং
  • 12 বার পঠিত
বৃষ্টি-জোয়ারে হাতিয়ায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি, বিপাকে ৮০ হাজার কৃষক
ছবির ক্যাপশন: বৃষ্টি-জোয়ারে হাতিয়ায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি, বিপাকে ৮০ হাজার কৃষক


নোয়াখালী প্রতিনিধি:

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আউশ ধান, আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজি, ফলের বাগান, মরিচ ও পানের বরজ মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি টাকার বেশি।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউশ ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি সবজি, ৫৮ হেক্টর ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পানি কমে যাওয়ার পর নতুন করে দেখা দিয়েছে আরেক বিপদ। সবজির গাছের গোড়ায় পচন ধরছে, মরে যাচ্ছে গাছ। ধানের বীজতলার চারাও নুয়ে পড়ছে। এতে কৃষকদের মধ্যে আমন মৌসুম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের চরকৈলাশ গ্রামের কৃষক কামাল উদ্দিন জানান, ১০ দিন আগে ৬০ কেজি আমনের বীজ বপন করেছিলেন। টানা বৃষ্টিতে বীজতলা তলিয়ে যাওয়ার পর চারপাশে বাঁধ দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পানি নেমে যাওয়ার পরও চারাগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এখন নতুন করে বীজ বপনের কথা ভাবছেন।

কেবল কামাল উদ্দিন নন, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কৃষকদের অনেকেই একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত চরকিং ও চরঈশ্বর ইউনিয়নের অধিকাংশ সবজিখেত পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নেমে যাওয়ার পর গাছের গোড়ায় পচন ধরে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে ফসল।

চরঈশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব গামছাখালী গ্রামের কৃষক মোতাহের হোসেন জানান, প্রায় এক একর জমিতে ঝিঙার চাষ করেছিলেন। ফসল বিক্রির উপযোগী হওয়ার আগেই টানা বৃষ্টিতে গাছের গোড়া পচে যায়। এখন পুরো খেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় গাছ তুলে ফেলছেন। তিনি বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে চাষ করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এক টাকাও আয় করতে পারেননি।

হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাছেদ সবুজ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রতিবেদন ইতিমধ্যে জেলা কৃষি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group