স্টাফ রিপোর্টার:
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ফেনী জেলা সভাপতি, সাবেক জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ফেনী শহরের রামপুর এলাকায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন।
মঙ্গলবার বিকেলে শহরের মিজান ময়দানে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে নিজ বাসভবনের সামনে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজার আগে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
জানাজার আগে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা জজ আদালতের পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও ফেনী রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন মামুন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা হোসেন, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ও মরহুমের ছেলে অ্যাডভোকেট খালেদ মোহাম্মদ আরিফ।
বক্তারা বলেন, অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমেদ ছিলেন একজন সৎ, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের সঙ্গেও তিনি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। আইনজীবী ও রাজনীতিক হিসেবে তিনি অসংখ্য মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও তিনি ছিলেন আন্তরিক। তাঁর কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আনম আবদুর রহিম, জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) নুর আমিন খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর হোসেন, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজান সাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল মোতালেব, অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন নান্নু, বালিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মের হোসেন বাহার, মরহুমের ছেলে খালেদ মোহাম্মদ আলী রাসেলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, আইনজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানা যায়, ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করে টানা প্রায় ছয় দশক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমেদ। তিনি ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমেদ ফেনী শহরের রামপুরের এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বজলের রহমান।
মিজান ময়দানে অনুষ্ঠিত প্রথম জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জহিরিয়া জামে মসজিদের খতিব মুফতি ইলিয়াস হোসেন। পরে রামপুর বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আনোয়ার হোসেন মরহুমের বাসভবনের সামনে দ্বিতীয় জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের এক কর্মী দাবি করেন, দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতি থাকায় অনেকেই জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য, জানাজাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতির কারণে অনেক নেতা-কর্মী সেখানে যেতে সাহস পাননি।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |