| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু ৫ লাখ টাকায় সমঝোতার অভিযোগ

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 15-06-2026 ইং
  • 637 বার পঠিত
কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু   ৫ লাখ টাকায় সমঝোতার অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু ৫ লাখ টাকায় সমঝোতার অভিযোগ


নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত প্রসূতি সুলতানা মমতাজের (২৭) পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবের জন্য সুলতানা মমতাজকে কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগের পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনদের দাবি, ওই সময় তিনি স্ট্রোক করেন এবং তাঁর হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর হাসপাতালে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। প্রায় ৩০ মিনিট পর একজন চিকিৎসক এসে তাঁকে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দেন। তবে দীর্ঘ সময় মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অঙ্েিজন ও রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তাঁর মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে পরিবারের দাবি।

পরে তাঁকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসার পর আর্থিক সংকটের কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের মা ও বোন অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তাঁদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কেউ তাঁদের খোঁজ নেয়নি।

পরিবার জানায়, সুলতানা মমতাজের আগের দুটি সন্তান রয়েছে। সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক সন্তান জন্মের পর থেকেই মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, পোস্ট-অপারেটিভ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত থাকলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ডা. তাপস পাল বলেন, হাসপাতালে যদি পূর্ণাঙ্গ অপারেশন-পরবর্তী সেবা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে চিকিৎসকদের পক্ষে সব পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। অপারেশনের পর রোগীকে কতক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর রোগীকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। পোস্ট-অপারেটিভ রুম না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন,আমাদের এখানে এমন কোনো কক্ষ নেই, এভাবেই কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। রোগীর মৃত্যুর দায় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোগীর আয়ু না থাকলে চিকিৎসকদের দোষ কী? পরে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. রোশন জাহান লাকি অপারেশন সম্পন্ন করার বিষয়টি স্বীকার করেন। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কারণে রোগীর এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালেই পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও চিকিৎসক উভয়কেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ ক্ষেত্রে দায় এড়ানোর সুযোগ আছে কি না-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই না।”

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল করিম গণমাধ্যম কর্মীদের  বলেন, উপজেলার অনেক হাসপাতালই এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে। রোগীর আয়ু না থাকলে শুধু হাসপাতালকে দায়ী করা যায় না। পরে তিনিও ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলে হাসপাতাল মালিকপক্ষ, তাদের আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সমঝোতার উদ্যোগ নেন। এ সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয় এবং একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে দাবি করেন নিহতের মা।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group