| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ভগ্নিপতির কিডনি প্রতিস্থাপনে ভারতে গিয়ে লাশ হলেন শ্যালক

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 05-06-2026 ইং
  • 432 বার পঠিত
ভগ্নিপতির কিডনি প্রতিস্থাপনে ভারতে গিয়ে লাশ হলেন শ্যালক
ছবির ক্যাপশন: ভগ্নিপতির কিডনি প্রতিস্থাপনে ভারতে গিয়ে লাশ হলেন শ্যালক


চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি

বড় ভগ্নিপতির দুই কিডনি বিকল হয়ে পড়েছে। আর সেই কিডনি প্রতিস্থাপন করতে গত মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে তাকেসহ পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে ভারতে নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেন শ্যালক মো নুরুল আমিন সোহাগ (৪৫)। 

কিন্তু গত বুধবার সকালে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের মালভিয়া নগর এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সোহাগ সহ ২১ জন নিহত হয়। গুরুতর আহত ভগ্নিপতি মোশাররফ হোসেন মসু, বড় বোন রেহানা আক্তার মুন্নী, চাচাতো বোন উম্মে জোহরা তার মেয়ে উম্মে জাইমা। তারা সবাই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গীশর গ্রামের বাসিন্দা। 

তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন। 

নিহত মো. নূরুল আমিন সোহাগ (৪৫) আব্দুস সোবহানের জ্যেষ্ঠ ছেলে। তিনি এক ছেলে দুই মেয়ের জনক। 

বড় ভগ্নিপতি মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া জানান, নুরুল আমিন সোহাগের বড় ভগ্নিপতি মোশারফ হোসেন মসুর দুটি কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার দুটি স্থাপন করতে হবে গত ২ এ জুন সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে তারা ভারতের নয়া দিল্লির ম্যাঙ্ হসপিটাল এর উদ্দেশ্যে রওনা হয় সেখানে পৌঁছে একটি হোটেলে উঠে। গত বুধবার সকালের নাস্তা খাওয়ার জন্য সোহাগ নিচে নেমে আসে এসময় পরিবারের অপর সদস্যরা হোটেলে অবস্থান করছিল। হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে সোহাগ মারা যায় সে ছাড়াও পরিবারের অপর ৪ সদস্য আহত হয়। বর্তমানে তারা দিল্লির ম্যাঙ্ হসপিটাল এর লাইভ সাপোর্টে রয়েছে। 

পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার ‘ফ্লোরিশ স্টে’ (ঋষড়ঁৎরংয ঝঃধু), যা ‘মিকাসা ইন’ নামেও পরিচিত, হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৮ টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হোটেলে অবস্থানরত অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে ভেতরে আটকা পড়েন।

অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত অবস্থায় সোহাগ, তাঁর ছোট বোন, ভগ্নিপতি, মোশারেফ হোসেন মসু, বড় বোন রেহানা আক্তার মুন্নী, কিডনি ডোনেশন করতে চাচাতো উন্মে জোহরা, বোনের মেয়ে উম্মে জাইমা কে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগ মারা যান। আহত অন্যরা বর্তমানে দিল্লির মেঙ্ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা সকলে আইসিইউতে আছেন তাদের সকলের অবস্থা আশঙ্কা জনক বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। 

নিহতের ভগ্নিপতি বাচ্চু মিয়া আরো বলেন, চট্রগ্রামে সোহাগ আমিন এন্ড ব্রাদার্স নামে খাদ্য সামগ্রীর কারখানার মালিক।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহাগের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছানোর পর মধ্যম সাঙ্গীশ্বর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, ভারতের নয়াদিল্লিতে অগ্নিকাণ্ড নিহতের সোহাগের লাশ দেশে ফিরে নিয়ে আসার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তার পরিবারকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আহদের সু-চিকিসার জন্য সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group