| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ফেনীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা মাসের ব্যবধানে ফেনীতে দ্বিগুন হয়েছে রোগী

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 29-08-2026 ইং
  • 22 বার পঠিত
ফেনীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা  মাসের ব্যবধানে ফেনীতে দ্বিগুন হয়েছে রোগী
ছবির ক্যাপশন: ফেনীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা মাসের ব্যবধানে ফেনীতে দ্বিগুন হয়েছে রোগী


নিজস্ব প্রতিনিধি:

ফেনীজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ। প্রতিদিন জ্বর ও নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন শত শত মানুষ, যাদের বড় অংশেরই ডেঙ্গু পজিটিভ আসছে। বিশেষ করে ফেনী শহরের রামপুর ও পুলিশ কোয়ার্টার এলাকার এর ভয়াবহতা বেশি বলে জানিয়েছে স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জুলাই মাসের তুলনায় চলতি আগস্ট মাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। এদিকে মশক নিধনে পর্যাপ্ত কার্যক্রম না থাকার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করছে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ফেনীতে মোট ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। অথচ আগস্টের ২৭ তারিখের মধ্যেই সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৫ জনে। আক্রান্তদের বড় অংশ চিকিৎসা নিচ্ছেন ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ বহুগুণ বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে একই ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর এই অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সরা। একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, জনবল সংকটের কারণে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানে তারা কূল পেয়ে উঠছেন না।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন আতিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৌরসভায় থেকেও আমরা কোনো ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা কম পাচ্ছি। ডেঙ্গুর প্রকোপ এত বাড়লেও ওষুধ ছিটানো বা সচেতনতামূলক কাজ চোখে পড়ছে কম।

তিন স্বজনকে নিয়ে হাসপাতালে আসা আব্দুল আহাদ জানান, ৫ দিন ধরে তারা একই পরিবারের একাধিক সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

পৌরবাসীদের অভিযোগ, শহরের সিংহভাগ এলাকার নর্দমা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর। বছরজুড়ে জমে থাকা পচা ময়লা পানি এবং নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার না করায় এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের ও শহিদুল ইসলাম জানান, ড্রেন পরিষ্কার না করায় ঘরের ভেতরও মশার কামড়ে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। শিশুদের নিয়ে চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

চিকিৎসা সরঞ্জামের বিষয়ে ফেনী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল জানান, “ডেঙ্গু পরীক্ষার এনএস-১ সহ প্রয়োজনীয় কিটের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আরও সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে, তাই পরীক্ষা বা চিকিৎসায় কোনো সংকট হবে না।

অন্যদিকে মশা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে ফেনী পৌরসভার প্রশাসক মো. দিদারুল আলম বলেন, পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে প্রতিটি ওয়ার্ডে ২ দিন করে মোট ৩৬ দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণে পৌরবাসীর সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই, সে লক্ষ্যে নিয়মিত মাইকিংও করা হচ্ছে।

তবে পৌর কর্তৃপক্ষের এসব দাবির সুফল মাঠপর্যায়ে দেখতে চান ফেনীবাসী। দ্রুত কার্যকর উপায়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group