এএইসএম মান্নান মুন্না:
জোয়ার এলেই বুক ধড়ফড় করে ওঠে উপকূলের মানুষের। রাত গভীর হলে ঢেউয়ের গর্জনে অনেকের আর ঘুম আসে না। কেউ আগেভাগেই ঘরের আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখছেন, কেউ স্বজনের বাড়িতে আশ্রয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারণ, টানা বর্ষণ আর মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারে নোয়াখালীর হাতিয়ার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢ়ুকেছে। সামনে পূর্ণিমার জোয়ারকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপকূলে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা না হলে আগামী পূর্ণিমার জোয়ার কিংবা বর্ষার শেষ দিকের অতিবৃষ্টিতে চরঈশ্বর, নলচিরা, চরকিং ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ আবারও প্লাবনের মুখে পড়তে পারেন।
হাতিয়ার মানুষের কাছে জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস নতুন নয়। প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষের এই দ্বীপে ঝড়, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই জীবন চলে। তবে চলতি বর্ষায় টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ার সেই লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে ছিল। সেই দুর্ভোগ কাটতে না কাটতেই নতুন করে দেখা দিয়েছে বেড়িবাঁধ ভাঙনের শঙ্কা।
নলচিরা ইউনিয়নের তুপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, জোয়ারের ঢেউয়ে তাঁদের এলাকার বাঁধটি এতটাই সরু হয়ে গেছে যে, যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। তিনি বলেন, “বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না। ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছি, কিন্তু এখন আমাদের পাশে কাউকে দেখি না।”
একই গ্রামের আবদুল খালেক বলেন, রাতে জোয়ারের পানির শব্দ শুনলেই মনে হয়, এই বুঝি বাঁধ ভেঙে গেল। তাই পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে আগেই নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, পূর্ণিমার জোয়ারের আগে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার না হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
কয়েক দিন আগে চরঈশ্বর ইউনিয়নের আফাজিয়া এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় চার থেকে পাঁচ ফুট উঁচু জোয়ারে প্রায় ৩০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে জিওব্যাগ ফেলে জরুরি মেরামত করলেও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ এখনো অরক্ষিত রয়েছে।
চরঈশ্বরের বাসিন্দা নিপু খিলজী বলেন, কোথাও কোথাও মাত্র এক ফুটের মতো বাঁধ অবশিষ্ট আছে। একইভাবে সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামেও স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে গাছের গুঁড়ি, ডালপালা ও মাটিভর্তি বস্তা দিয়ে বাঁধ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসেননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দিয়ে আবারও জোয়ারের পানি ঢ়ুকলে শুধু বসতবাড়িই নয়, কৃষিজমি, মাছের ঘের, গ্রামীণ সড়ক ও অন্যান্য স্থাপনারও ব্যাপক ক্ষতি হবে। তাই বড় ধরনের বিপর্যয়ের আগেই জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী সংস্কারের দাবি তাঁদের।
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ার ও অতিবৃষ্টিতে চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |