স্টার লাইন ডেস্ক:
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি সেনা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালে শুনানি করেন প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এ মামলায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোজাফফর হোসেনের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে।
প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ঝন্ডু’ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র মেলে। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, এই ‘ঝন্ডু’ই মূলত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন। জুলাইয়ের আন্দোলন চলাকালে তাদের দুজনের মধ্যে একাধিকবার ফোনালাপ হয়েছিল। তিনি আন্দোলন দমনে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।”
তিনি আরও জানান, আইনের পদ্ধতি অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে সরাসরি কাউকে নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তারের সুযোগ না থাকায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে একটি বিবিধ মামলা (মিসকেস) দায়ের করে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ মিললে তাকে মূল বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
এর আগে সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে মোজাফফর হোসেনকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেলের অফিস থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। একই দিনে এ মামলার অপর আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও আদালতে উপস্থিত করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর থেকে প্রায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন সাবেক মেজর মোজাফফর। জিয়া হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে সেনা আইনেই তার বিরুদ্ধে পৃথক কার্যক্রম চলছে এবং ট্রাইব্যুনালের রিমান্ড শেষে তাকে পুনরায় সেনা হেফাজতেই ফেরত পাঠানো হবে।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |