পরশুরাম প্রতিনিধি :
ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় খাস জমি দখল ও সরকারি সহায়তার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পরশুরাম উপজেলার ১নং মির্জানগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সত্যনগর এলাকায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে সরকারি ৮ শতক খাস জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা এবং সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এবিষয়ে অভিযোগকারী আব্দুর রহিম দুলাল জানান, তিনি গত প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই জমি ব্যবহার করে আসছেন। জমিতে বিভিন্ন সময় গাছ লাগিয়ে সেগুলো বিক্রিও করেছেন। বর্তমানে যে গাছগুলো রয়েছে সেগুলোও তার নিজের লাগানো বলে দাবি করেন তিনি। দুলাল বলেন, “জমিটি আমার দখলে থাকায় নাম বন্দোবস্ত বিষয়ে পরশুরাম ভূমি অফিসে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে জানানো হয়, যার কাছে দখলে রয়েছে তার বন্দোবস্তের তালিকাভুক্তির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই ফিরোজ আহমেদ এসে জমির মধ্যে একটি ছোট ঘর নির্মাণ করে চারপাশে নেট দিয়ে ঘিরে দেন। পরে কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করা একটি নোটিশ টানিয়ে দেন, যেখানে কোনো সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর বা সীল নেই। ফিরোজ আমাকে পাঁচ লাখ টাকা দাবি
করে হুমকি দিচ্ছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
জয়চাঁদপুর গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ফেলু মিয়া (পিতা: আব্দুর রহমান) বলেন, “আমি এ গ্রামে আসার পর থেকেই দেখে আসছি দুলাল মিয়া জায়গাটি ব্যবহার করছেন। হঠাৎ করে ফিরোজ মিয়া জোরপূর্বক দখল নিতে চাইছেন। কেউ বাধা দিতে গেলে হুমকি দেন।”
পাশের বাড়ির বাসিন্দা আইনুরী আক্তার বলেন, “আমরা এখানে আসার পর থেকেই দেখছি দুলাল কাকা জায়গাটি দেখভাল করছেন। হঠাৎ এক রাতে দেখি ফিরোজ মিয়া একটি ছোট ঘর বানিয়ে চারপাশে নেট লাগিয়েছেন। উপরে একটি ছেঁড়া লাল গেঞ্জি টানানো ছিল। আমি তাকে বলেছি, জায়গা যদি আপনার হয়, তাহলে রাতে চোরের মতো কাজ করছেন কেন? তিনি বলেন, ইন্ডিয়া থেকে যেন চোরাই মাল না আসে সে জন্য পাহারা দেওয়ার ঘর বানানো হয়েছে।”
এদিকে সত্যনগর গ্রামের আরও কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সরকারি সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। বেলাল হোসেন (৬৫) পিতা: আলী আহমদ-এর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা, ইউসুফ (৩৫) পিতা: আবু ছিদ্দিক-এর কাছ থেকে ১,৫০০ টাকা, মোমেনা আক্তার (স্বামী: মৃত মমতাজ উদ্দিন)-এর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং শামসুল করিম শিরু (পিতা: ছকু মিয়া)-এর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, প্রবাসীদের বাড়িতে গিয়ে তাদের স্ত্রীদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে রাস্তা নির্মাণ, টিউবওয়েল স্থাপন, টিনসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে সহায়তা না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেখানো হয়।
অভিযুক্ত ফিরোজ আহমেদ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, দখলকৃত জায়গাটি তার নিজস্ব সম্পত্তি। সরকারি সহায়তার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া আহ্ববান করছেন।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |