ইমরান ইমন:
বন্যা, জলাবদ্ধতা ও চরম দুর্ভোগের মধ্যে যখন অসংখ্য শিক্ষার্থী নিজেদের নিরাপত্তা, পরিবারের অনিশ্চয়তা এবং ভেঙে পড়া স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এইচএসসি পরীক্ষার হলে তাদের বসতে বাধ্য করা নিছক একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার একটি ম্যাসেজ। যেন ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ মানুষের কষ্টের চেয়েও বেশি মূল্যবান।
আমরা প্রায়ই পরীক্ষাকে মেধার মূল্যায়ন বলি। কিন্তু মেধা কি কখনো আতঙ্কের মধ্যে বিকশিত হয়? একজন শিক্ষার্থীর খাতায় লেখা উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা সহজ কিন্তু তার ভেতরের আতঙ্ক, অবসাদ আর মানসিক ট্রমা কি কোনো নম্বরপত্রে ধরা পড়ে? যে শিক্ষার্থী রাতভর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করেছে, যে কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছে কিংবা যে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়াশোনা করার ন্যূনতম পরিবেশও পায়নি-তার সঙ্গে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে থাকা একজন শিক্ষার্থীর প্রতিযোগিতা কীভাবে ন্যায্য হতে পারে?
রাষ্ট্রের কাছে কয়েক দিন হয়তো সামান্য সময়। কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর কাছে সেই কয়েক দিন হতে পারত স্বস্তির, নিরাপত্তার আর মানসিক পুনর্গঠনের সময়। পরীক্ষা কয়েক দিন পিছিয়ে দিলে প্রশাসনিক ক্যালেন্ডারে কিছু পরিবর্তন আসত কিন্তু হাজারো পরিবারের উদ্বেগ কমত, অসংখ্য শিক্ষার্থীর অপ্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক কষ্ট এড়ানো যেত।
আমরা দেখেছি, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গিয়ে কী নির্মমতার শিকার হয়েছেন। কেউ কোমরসমান পানিতে ডুবে গেছেন, কেউ পা পিছলে পড়ে গেছেন দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানিতে। কী এক করুণ দৃশ্য!
একটি মানবিক সিদ্ধান্তের মূল্য কখনোই শুধু সময় দিয়ে মাপা যায় না, তার মূল্য নির্ধারিত হয় কতজন মানুষের যন্ত্রণা কমাতে পেরেছে, তার মাধ্যমে।
শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, এই বাক্যটি আমাদের রাজনীতিবিদরা নীতিনির্ধারকরা নিয়মিত উচ্চারণ করেন। কিন্তু ভবিষ্যৎকে শুধু বক্তৃতায় সম্মান জানালে হয় না, সিদ্ধান্তেও তার প্রতিফলন থাকতে হয়। যে রাষ্ট্র নিজের শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়, তাদের দুর্ভোগকে উপেক্ষা করে, সে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শুধু প্রশাসনিক নয়, নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাও হারায়।
শিক্ষা মানুষের ভেতরে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করার কথা, ভয় নয়, সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়ার কথা, অযৌক্তিক চাপের দেয়াল তোলার নয়। একটি পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে শিক্ষা থেমে যায় না কিন্তু মানবিকতা পিছিয়ে গেলে রাষ্ট্রের বিবেকই পিছিয়ে যায়।
তাই প্রশ্ন শুধু এই নয়: পরীক্ষা হয়েছে কি না! প্রশ্ন হলো: আমরা কি আমাদের শিক্ষার্থীদের ‘মানুষ‘ হিসেবে দেখেছি নাকি শুধু একটি পরীক্ষার্থী-প্রোডাক্ট হিসেবে? এই প্রশ্নের উত্তরই বলে দেবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কতটা আধুনিক আর আমাদের রাষ্ট্র কতটা মানবিক।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |