| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে জেনারেটর ৮ বছর ধরে নষ্ট, রোগীদের চরম ভোগান্তি

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 03-06-2026 ইং
  • 530 বার পঠিত
ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে জেনারেটর ৮ বছর ধরে নষ্ট, রোগীদের চরম ভোগান্তি
ছবির ক্যাপশন: ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে জেনারেটর ৮ বছর ধরে নষ্ট, রোগীদের চরম ভোগান্তি


কাউসার হামিদ সিকদার পিনু 

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে জেনারেটর ৮ বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ফলে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েসেবা নিতে আসা রোগীরা। বিদ্যুৎ এর বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে হাসপাতালে একটি জেনারেটর থাকলেও সেটি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বিকল। আর দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর বন্ধ থাকার কারণে নষ্ট হচ্ছে ব্যাটারিসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ। জেনারেটর মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দিয়েও সাড়া মিলছে না বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে জেনারেটর ব্যবস্থা না থাকায় এ দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগ ও দুটি ওয়ার্ডে রোগীরা ভর্তি রয়েছেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দুটি ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগ ছাড়া পুরো হাসপাতাল অন্ধকারাচ্ছন্ন। হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটর অকেজো হয়ে তালাবদ্ধ একটি কক্ষে পড়ে আছে।

জানা গেছে, ছাগলনাইয়া উপজেলা ও এর আশেপাশের উপজেলাগুলো থেকে কমপক্ষে ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভার একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ছাগলনাইয়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েউপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। কিন্তু নানা সমস্যায় জর্জরিত এই হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই । বর্তমানে ছাগলনাইয়া সহ সারাদেশে বিদ্যুৎয়ের মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ এর বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে হাসপাতালে একটি জেনারেটর থাকলেও সেটি দীর্ঘ ৮ বছর থেকে বিকল। বিদ্যুৎ এর এই চরম মাত্রার লোডশেডিংয়ের সময়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেটি সারানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। 

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রাতের বেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে ফ্যান ও লাইট বন্ধ থাকে। ফলে তীব্র গরম ও অন্ধকারে রোগীরা হাঁসফাস করতে থাকেন। বিদ্যুৎ গেলে জেনারেটরও চালু করা হয় না। জেনারেটর নাকি নষ্ট। হাসপাতালের মতো একটি জায়গায় দীর্ঘদিন থেকে জেনারেটর নষ্ট এটা মেনে নেওয়া যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেওয়ার কারণে লোডশেডিং করা হচ্ছে কিন্তু এই অবস্থায় রোগীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় জেনারেটর ঠিক করা উচিত ছিল।  

এ বিষয়ে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এক রোগী বলেন, ‘পেটব্যথা নিয়ে একদিন আগে ভর্তি হয়েছি। বেশ কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। ওয়ার্ডের কর্নারে একটি চার্জার লাইট জ্বললেও ফ্যান বন্ধ থাকায় গরমে অস্থির লাগছিল। একটা হাসপাতাল এভাবে চলতে পারে না।’

ওচমানপুর থেকে এসেছেন গৃহবধূ সাহেদা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমার তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে রয়েছি। তবে হাসপাতালে থাকতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়। এত বড় হাসপাতাল কিন্তু বিদ্যুৎ গেলে আর কোনো ব্যবস্থা নেই!’ এতে আমার রোগীর কষ্ট হচ্ছে। তীব্র গরমে সে হাসফাস করছে। বিদ্যুৎ গেলে জেনারেটরও চালু করা হয়না।’

সানোয়ার আলী নামের একজন বলেন, ‘আমার বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে এসেছি। কিন্তু বিদ্যুৎ এর সমস্যার কারণে সে ঘুমাতে পারছে না। গরমে সে কান্নাকাটি করছে।’

এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আবু তাহের বলেন, আমি এই হাসপাতালে যোগদান করেছি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে, আমি যোগদান করার সময় এই জেনারেটরটি নষ্ট আমাকে হ্যান্ডওভার করেছে, আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ২০১৮ সালের দিকে এই জেনারেটরটি হাসপাতালের জন্য দিয়েছে, দেওয়ার পর থেকে এটি নষ্ট অবস্থায় আছে এরপর দুই থেকে তিনবার ইঞ্জিনিয়ার এসে এই জেনারেটারটি চালু করতে পারেনি। আমার মনে হয় এটি নষ্টই দিয়েছে। এরপরও আমি আসার পর থেকে বেশ কয়েকবার চিঠি লিখেছি এবং এমপি মহোদয়কেও জানিয়েছি এমপি মহোদয় আশ্বস্ত করেছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি জেনেটার ব্যবস্থা করে দিবেন। এ জেনারেটরটি নষ্ট থাকায় এবং আইপিএস এর চার্জ শেষ হয়ে গেলে ও সোলার চার্জ শেষ হয়ে গেলে, দুর্যোগময় আবহাওয়া থাকলে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। 

উল্লেখ্য, ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে মোট ১৫৬টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৮৬ জন। পদ শূন্য রয়েছে ৭০টি। ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫ জন। পদ শূন্য রয়েছে ১০ টি। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৬টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৪জন। ২টি পদ শূন্য রয়েছে। ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে কর্মরত আছেন ২৪ জন। জনবলের সার সংক্ষেপ

চিকিৎসক ১ম শ্রেণির অনুমোদিত  পদ- ৪০জন, কর্মরত-২৩জন, শূন্য পদ-১৭জন, ২য় শ্রেণির অনুমোদিত পদ-৩৮, কর্মরত-২৪, শূন্যপদ-১৪জন। ৩য় শ্রেণির অনুমোদিত পদ-৭৪, কর্মরত-৪৩, শূন্য পদ-৩১জন। ৪র্থ শ্রেণির অনুমোদিত পদ-২৫জন, কর্মরত-০৫, শূন্য পদ-২০জন।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group