| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

শব্দের শিল্পী কবি শারমিন নিশু

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 07-03-2026 ইং
  • 177 বার পঠিত
শব্দের  শিল্পী কবি শারমিন নিশু
ছবির ক্যাপশন: শব্দের শিল্পী কবি শারমিন নিশু


নিজস্ব  প্রতিবেদক :

শারমিন নিশু একজন কবি, স্কুল শিক্ষক  ও সু- গৃহিনী। চিরাচরিত আটপৌরে বাঙ্গালী ঘরানার নারীরা গৃহিনী পরিচয়ে  খুশি হন। একটু অন্যরকম ব্যতিক্রমও হয়।

চাকুরী, স্বামী, সংসার ও সামাজিকতা রক্ষা করতে করতে প্রায় সকলেই হাঁপিয়ে উঠেন। সৃষ্টিশীল, সৃজনশীল কর্মে মেধার বিকাশ ঘটানোর সময় কই?  এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কবি শারমিন নিশু। হাঁপিয়ে ওঠা কিংবা দমে যাওয়ার পাত্রী নন তিনি। নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ষোলকলা পূর্ণ করে তা বিলিয়ে দিতে নিয়েছেন অভিভাবকত্বের দায়িত্ব । কোমলমতি শির্থার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন আলো।

পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের উচ্চতম শিখরে আরোহণের স্বপ্ন দেখতেন  শারমিন নিশু। স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন নয়, স্বপ্নকে জয় করে আজ তিনি পাহাড়ের উচ্চতম শিখরের দূর্জেয় অভিযাত্রী।

কথায় বলে-"যিনি রাঁধেন, তিনি চুলও বাঁধেন"।

ফেনী সদর উপজেলার পৌর শহরের বারাহীপুর গ্রামের  বাদশা মিয়া সওদাগর বাড়ীর শহীদুল হক ও রৌশন আক্তার দম্পত্তির মেয়ে শারমিন নিশু। পিতা- মাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান হওয়ার কারণে আদর ও  অনুপ্রেরণা পেয়েছেন সবার।

দুষ্ঠ- মিষ্ট পুতুল কন্যা নিশু ছোটবেলা থেকেই আঁকি-ঝুঁকির প্রতি দূর্নিবার আকর্ষিত।  চিত্রাংকনে দারুণ পারদর্শী  তিনি। একেঁছেন বহু চিত্রকর্ম মনের মাধুরী মিশিয়ে।

স্কুলের প্রাথমিক পাঠের সময় কবিতার প্রতি আকৃষ্ট হন নিশু। ছড়া কবিতা মুখে মুখে বলতে পছন্দ করতেন তিনি। শব্দের কারিগরি ইন্দ্রজাল নিশুকে বিমোহিত করতো। প্রতিটি শব্দের অর্থ খুঁজতেন তিনি। শব্দার্থ রপ্ত করে নিজের মতো শব্দ চয়নে মনোযোগী হন তিনি। অসাধ্যকে সাধন আর অজানাকে জানার দূরন্ত ইচ্ছায় ব্রতী হন নিশু। পাশাপাশি চলে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ। ফেনী সরকারী কলেজ থেকে সমাজ কল্যাণ বিষয়ে স্নাতক পাশ করেন তিনি। লেখাপড়ার ফাঁক গলিয়ে নিশু আবৃত্তি চর্চায় হয়ে উঠেন দারুণ পারদর্শী। লিখেন অজস্র কবিতা। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে তার বেশ কয়েকটি যৌত কাব্যগ্রন্থ। ' ৯৫ কাব্য সম্ভার, পঞ্চদশী " কাব্য সংকলন" শব্দ দহন পঞ্চ পল্লব" এবং অপেক্ষা। প্রতিটি সংকলনে নিশুর কবিতা কবিতা প্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

কবিতা যখন  মনের আলিন্দে জমে থাকা মানুষের অকথিত কাহনের ধ্বনি হয়ে উঠে তখন এর স্রষ্টাকে পাঠকেরা কবি বলে স্বীকৃতি দেয়। নিশু পাঠক নন্দিত কবিত্ব শক্তি অর্জন করেছে। ২০০৩ সালে শারমিন নিশু ফেনীর মজলিশপুরের আনোয়ার হোসেন শাহীনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শাহীন- নিশু দম্পত্তির রয়েছে  একপুত্র এক কন্যা সন্তান।

শারমিন নিশু প্রায় দু, দশক ধরে ফেনীর স্বনাম ধন্য বিদ্যাপীঠ শান্তি নিকেতন ইন্সটিটিউটে  শিক্ষকতা করে আসছেন।

নিশু  নিজের সৃজনী শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিটি নান্দনিক ও সৃষ্টিশীল কাজকে নিজস্ব ঢঙ্গে উপস্থাপন করে সময়ের চাহিদা মেটাতে পারঙ্গম । ব্যবসায়ী স্বামী শাহীনের   আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা  উদ্যম আরো বাড়িয়ে দেয় তার । আধুনিক ধ্যান- ধারনার বাহক কবি শারমিন নিশু মানবতাকে লালন করেন অন্তরে।  একজন আদর্শ শিক্ষক হিসাবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়েছেন।।

ছোট ছোট সোনামনিদের মাতৃ স্নেহে দরদ দিয়ে অজানাকে জানার সুযোগ করে দেন বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে। কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের প্রিয় ম্যাডাম নিশুর  গুণের এখানেই শেষ নয়।  আগেই বলেছি, তিনি  একজন সৌখিন আঁকিয়ে। মনের মাধুরী মিশিয়ে রং তুলির ক্যানভাসে, দেয়ালে দেয়ালে আপন মনে সৃষ্টি করেন শিল্পের কাব্যিক ছোঁয়া।। রং তুলির দুনিয়ায় নিশুর ক্যাম্পাসে চলে রংয়ের খেলা। হাসি,কান্না, দূঃখ-বেদনা, আর বিরহী প্রেমের উপাখ্যান জাগ্রত হয় তার সৃষ্টি কবিতায় ও কোমল হাতের তুলির ছোঁয়ায়।

স্মার্ট, প্রিয়দর্শিনী ও সুহাসিনী নিশুর  টোলপড়া গাল নাটোরের বনলতা সেনের কথা মনে করিয়ে দেয়। একই ব্যক্তিত্বে এতো রূপ স্রষ্টা একজনকে দান করেন কিভাবে? এজন্যই বোধহয় কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী, আমি অবাক হয়ে শুনি, কেবল শুনি।


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group