| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ফেনীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রস্তুতি সভা, ফেনীতে ১৫৩ পূজা মণ্ডপে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকবে - জেলা প্রশাসক

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 06-10-2026 ইং
  • 9 বার পঠিত
ফেনীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রস্তুতি সভা,  ফেনীতে ১৫৩ পূজা মণ্ডপে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকবে  - জেলা প্রশাসক
ছবির ক্যাপশন: ফেনীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রস্তুতি সভা


স্টাফ রিপোর্টার:

ফেনীতে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে জেলা জুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে কোনো মহল যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার ফেনী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো দুষ্টচক্র যাতে গুজব ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতিতে আঘাত হানতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। গুজব প্রতিরোধে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, জেলার ছয়টি উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের আওতায় রাখতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সেক্টরকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়াতে হবে। এতে কোনো ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, ৪-বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার।

এ ছাড়াও  উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তপন কর, পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা কমিটির উপদেষ্টা হিরা লাল চক্রবর্তী ও শুকদেবনাথ তপন, বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট সমীর কর, সাধারণ সম্পাদক শান্তি চৌধুরী, সহ সভাপতি অনিল নাথসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার ফেনী জেলায় মোট ১৫৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলা ও ফেনী পৌরসভা এলাকায় ৬৫টি, ফুলগাজীতে ৩৪টি, ছাগলনাইয়ায় ৫টি, সোনাগাজীতে ২৩টি, দাগনভূঞায় ১৯টি এবং পরশুরাম উপজেলায় ৭টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।



পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা করলে কাউকে ছাড় নয়

- পুলিশ সুপার

শহর প্রতিনিধি

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, ইভটিজিং, মাতলামি কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, সারা দেশের তুলনায় চট্টগ্রাম বিভাগে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে ফেনী জেলায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সবাই যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নজরদারিতে থাকবেন। পূজা দেখতে আসা নারীদের কেউ ইভটিজিং বা হয়রানি করলে, বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মা-বোনেরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে পূজামণ্ডপে গিয়ে উৎসব উপভোগ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ফেনী একটি সীমান্তবর্তী জেলা। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ পূজামণ্ডপে মাতলামি, অশালীন আচরণ কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গুজব ছড়ানোসহ যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, আমরা চাই, এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হোক। পূজামণ্ডপে কোনো অপরাধী বা দুষ্কৃতকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



সীমান্তে কঠোর নজরদারিতে থাকবে বিজিবি 

- লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম

শহর প্রতিনিধি 

৪-বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম বলেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবারে ফেনীর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকবে স্ট্রাইকিং পোস্ট। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিজিবির নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে। কোনো ধরনের সমস্যা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্রাইকিং পোস্টকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই এবারের দুর্গাপূজা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক। সবাই যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পূজামণ্ডপে যেতে পারেন, সে জন্য বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



নামাজের সময় পূজামণ্ডপে সাউন্ড বন্ধ রাখার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসকের

শহর প্রতিনিধি 

জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক বলেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের সময় নামাজের বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে মাগরিব ও এশারের   নামাজের সময় পূজামণ্ডপে সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবহার বন্ধ রাখার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক এমএ খালেক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় ধর্মীয় উৎসব। তবে বাংলাদেশে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি। তাই পূজা উদযাপনের সময় যেন নামাজে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে নামাজের সময় পূজামণ্ডপে সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।

তিনি বলেন, পারস্পরিক সহনশীলতা ও সচেতনতা থাকলে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা মনোমালিন্যের সৃষ্টি হবে না। অতীতেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিবারের মতো এবারও দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক এমএ খালেক বলেন, আমরা দলীয়ভাবে আপনাদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। কোনো সমস্যা হলে আমাদের জানাবেন। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের তুলনায় এবার শারদীয় দুর্গাপূজা আরও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশা করছি।

সভায় জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group