ইমরান ইমন
আমরা জীবনের লক্ষ্য বলতে কী বুঝি বা জীবনের সফলতা বলতে কী বুঝি? যশ, খ্যাতি, চাকরি, ডিগ্রি, বাড়ি, গাড়ি—এই তো, তাই না? কেউ চাকরিতে সফল, কেউ ব্যবসায় সফল, কেউবা তার কাঙ্ক্ষিত পেশায় সফল। এমন সফলতা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু এসব কি আসলেই জীবনের চূড়ান্ত অর্জন বা সফলতা?
ভালো পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রেম, পার্টনার—সব মিলিয়ে জীবনটা যদি একটা ফটোফ্রেম হয়, তাহলে সে ফটোফ্রেমের কাঁচটার যত্ন নেওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি। কারণ ভেতরের ছবিটা যত ভালোই হোক না কেন ওপরের কাঁচটা ঝাপসা হলে কেউই দেখতে পাবে না।
আমি মনে করি, জীবনের সবচেয়ে বড় এচিভমেন্ট বা সফলতা হচ্ছে—নিজেকে ভালো রাখার কৌশল শেখা। এমন একটা মনের জোর তৈরি করা, যাতে দুনিয়া যেদিকেই যাক না কেন, আপনি নিজের শান্তি ধরে রাখতে পারেন। মানসিকভাবে এমন এক অবস্থায় পৌঁছে যাওয়া, যেখানে কেউ পাশে না থাকলেও আপনি ভেঙে পড়েন না। আপনিই আপনার জন্য হয়ে ওঠবেন অনিবার্য।
একজীবনে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, পরিবার—এসব বিষন্ন সুন্দর জিনিস। কিন্তু এগুলোতেই যদি আপনার ভালো থাকা বাঁধা পড়ে থাকে, তাহলে সেটা ঝুঁকিপূর্ণ ভালো থাকা। যারা এতদিন পাশে ছিল তাদের কেউ আজ যদি কোনো না কোনো কারণ কিংবা অকারণে পাশে না থাকে, তাহলে কি আপনি নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন বা টুকরো হওয়া কাঁচের মতো ভেঙে খান খান হয়ে যাবেন?
জীবন আমাদের সঙ্গে কখনো কখনো ইয়ারফোনের পেঁচানো তারের মতো আচরণ করে। আপনি যতই গুছিয়ে রাখুন না কেন, বের করলে দেখা যাবে গিট্টু লেগে আছে। কিন্তু যেদিন থেকে আপনি এই গিট্টু খোলার সময় বিরক্ত না হয়ে হেসে ফেলতে শিখে যাবেন—সেদিন থেকে আপনি সফল, আপনি জীবনকে জয় করতে পেরেছেন।
এই সফলতা কাউকে দেখানোর না, কাউকে ইমপ্রেস করারও তাতে কিছু নেই। এটা আপাদমস্তক নিজস্ব অর্জন। আপনি জানবেন আপনি ঠিক আছেন, নিজের কাছে আপনি অনন্য—এমনকি তা কেউ না জানলেও। আর সেটা তখনই সম্ভব যখন আপনার সুখ, আপনার শান্তি, অন্য কারো আচরণ বা উপস্থিতির ওপরে নির্ভর করে না।
জীবন সবসময় মসৃণ হবে না—কেউ বিছিয়ে রাখবে কাঁটা, কেউ ছুঁড়ে মারবে পাথর। কিন্তু আপনি যদি এসব সামলে নিজেকে গুরুত্ব দিয়ে, নিজের ভালোলাগা আর ভালোবাসাকে গুরুত্ব দিয়ে বাঁচতে পারেন, তাহলে জীবনকে আপনি জয় করেছেন, আর জীবনও আপনাকে।
জীবনের শান্তি, জীবনের অনিন্দ্য আনন্দ লুকিয়ে থাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিসে। পথের ধারে ফুটে থাকা একটা রক্তজবা, ঝরে পড়া একটা বকুলফুল, প্রিয় বইয়ের প্রিয় লেখকের কিছু লাইন, প্রিয় গানের কয়েকটা কলি, সন্ধ্যার অন্তিম আকাশের একটু মেঘলা আলো, চায়ের কাপ থেকে ভেসে আসা ধোয়ার দৃশ্য বা গরম ভাতের গন্ধে মায়ের স্পর্শ মনে পড়ার মুহূর্ত—এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়আশয়ে যদি আপনি আনন্দ খুঁজে নিতে পারেন, জীবনের অর্থ খুঁজে নিতে পারেন তাহলেই আপনি জীবনে গ্রেট অ্যাচিভার।
এ পৃথিবীতে আমাদের সব দৌড়াদৌড়ির মূলে রয়েছে একখানা সুখ আর শান্তির বন্দোবস্ত করা। আপনার যশ, খ্যাতি, অর্থবিত্ত, রাজত্ব কোনো কিছুরই অভাব নেই কিন্তু জীবনে একখানা সুখ আর শান্তির বন্দোবস্ত করতে না পারলে জীবন জীবন্মৃত। তাই এখন আমাদের সব থেকেও আমরা ‘ভালো না থাকার‘ রোগে আক্রান্ত। রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে আমাদের সে রোগের কথা বলেছেন এভাবে: “এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না, শুধু সুখ চলে যায়।”
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |