| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কিছু গোষ্ঠী দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে -ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 02-10-2026 ইং
  • 13 বার পঠিত
কিছু গোষ্ঠী দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে  -ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবির ক্যাপশন: ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান




বিশেষ প্রতিনিধি: 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার সর্বশক্তি দিয়ে সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে এবং দেশে পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার ধ্বংসকৃত আইনের শাসন পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠা করবে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু গোষ্ঠী বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট-মুহুরী সেতু এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) উদ্বোধন শেষে বৃহস্পতিবার আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। 

পরে তিনি ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ শেষে পাশ্ববর্তী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোতে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের সম্মানী প্রদান করে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

এসব অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে আমরা দেখেছি কীভাবে আইনের শাসনকে ধ্বংস করা হয়েছে। আমরা সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে চাই এবং ধীরে ধীরে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন সদস্যের সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী অন্যের সমালোচনা করার আগে তাদের নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-এ উন্নীত করা হবে।

তিনি বলেন, ‘এতে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন না হলে মানুষকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে জেলা শহর কিংবা ঢাকায় ছুটতে হবে না এবং নিজ এলাকার কাছাকাছি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব হবে। সম্প্রসারিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ডায়ালাইসিস সেবা এবং মা ও শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। অতিরিক্ত ১০০টি শয্যা যুক্ত করার পাশাপাশি নতুন বিভাগও চালু করা হবে।’

পরশুরামের ৫০ শয্যার হাসপাতালের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে হাসপাতালটির প্রথম ৩০টি শয্যা স্থাপন করা হয় এবং পরে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করা হয়। হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে এর পরিবর্তে হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ১৫০-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপির নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এ স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কর্মজীবী পরিবারের নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিও এগিয়ে নিচ্ছে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্যম আয়ের কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে কৃষক কার্ড দেয়া হবে।

এর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা দূর করা হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার এরই মধ্যে সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সাতদিনের মধ্যেই এ ঋণ মওকুফ করা হয়। এতে সরকারের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং দেশের প্রায় ১৩ লাখ কৃষক এ সুবিধা পেয়েছেন। সরকার বৃহত্তর খাল ও নদী পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুহুরী ও কহুয়া নদীর সংযোগকারী খালটি পুনঃখননের কাজ শুরু করেছে।’

এ সময় তিনি ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সে সময় ফেনীতে সেতুর ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল এবং নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বাড়িঘরও পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিকাজে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য পানির ব্যবস্থা করার গুরুত্বকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার নির্বাচনের আগেই খাল ও নদী পুনঃখনন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছবে। এতে ফসল উৎপাদন আনুমানিক এক লাখ টন বাড়বে। ফসল উৎপাদন বাড়লে কৃষক উপকৃত হবেন। ফলে খাদ্যশস্যের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা সম্ভব হবে।’

প্রধানমন্ত্রী এ খাল ও নদী পুনঃখনন কর্মসূচিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে শুরু হওয়া একটি উদ্যোগের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘গত ১৭ বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল ও কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য সরকার কাজ করছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকার দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘এ মিল ও কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থান বাড়লে ধীরে ধীরে পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে, মানুষ আরো স্বনির্ভর হবে এবং তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের কর্মসূচির মধ্যে বেকার মানুষ, নারী, কৃষক, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই সরকার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি জানান, বিএনপি শুরুতে যেসব কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, সেগুলো এখন জনগণের কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে এবং তিনি এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো এখন আর শুধু বিএনপির কর্মসূচি নয়। এগুলো এখন জনগণের কর্মসূচি।’

তিনি অঙ্গীকার করেন, যেকোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে। জনগণের জন্য নেয়া কর্মসূচিগুলো যেন সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন, সেজন্য তিনি জনগণের দোয়া কামনা করেন। এর আগে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (পর্যায়-১) উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী খেয়াঘাট-মুহুরী সেতু এলাকায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি মাটি কেটে প্রকল্পের আওতায় একটি খাল পুনঃখননের কাজ এবং ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে বালি অপসারণ করে নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণকাজও উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group