| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 02-10-2026 ইং
  • 18 বার পঠিত
জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান
ছবির ক্যাপশন: জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান


নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংগঠন। দলটি ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় দলটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি সামনে নিয়ে আসে। বিএনপির নিজস্ব ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, দলটি ১৯ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে যাত্রা শুরু করে।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতা, সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ঘিরে একাধিক অস্থিরতা তৈরি হয়। ১৯৭৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

এই সময় জিয়াউর রহমান, তৎকালীন সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের কারণে রাষ্ট্রিয় বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত হওয়ার পর তিনি প্রচলিত সামরিক কাঠামোর পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরেও একটি নতুন সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নেতা ও বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেন। এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরির ধারণা সামনে নিয়ে আসেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠা

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মসূচিতে ১৯টি দফা ছিল।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনৈতিক দর্শনে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে ওঠে। পাশাপাশি দলটির ঘোষণায় জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, যুবসমাজের অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয় স্থান পায়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন ১৯ দফা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের একটি রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করা। দলটির ঐতিহাসিক নথিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যু ও বিএনপির পরবর্তী পথচলা

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে একদল বিপদগামী সামরিক কর্মকর্তার বিদ্রোহে জিয়াউর রহমান নিহত হন। তার মৃত্যুর পরও বিএনপি রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকে এবং পরবর্তী সময়ে দলটির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জিয়াউর রহমান’র সহধর্মিনী ফেনীর কৃতি সন্তান বেগম খালেদা জিয়া। 

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুথানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে হটিয়ে লে: জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। এর পরপরেই বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামাতসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলি এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে এবং অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলেন। দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে চাপে পড়ে এরশাদ ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। বিএনপিসহ ৭ দল সে নির্বাচন বয়কট করলেও আওয়ামী লীগ এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এরশাদের জাতীয় পার্টি সে নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্টতা পায়। অন্যদিকে ৮৬ টি আসন নিয়ে আওয়ামিলীগ প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেন। বিতর্কিত এই নির্বাচন বাতিল ও নতুন নির্বাচনের দাবীতে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও সমমনা দলগুলো আবারো রাজপথ উত্তপ্ত করে। এমতবস্থায়, এরশাদ ১৯৮৮ সালে প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করে। সাংবিধানীক জটিলতা ও চাপের মুখে পড়ে প্রেসিডেন্ট এরশাদ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন এবং নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী জাসদসহ ছোটো খাটো দলগুলি অংশগ্রহণ করলেও আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বৃহৎ দলগুলি নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনে নামে। ১৯৮৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আ.স.ম রবের নেতৃত্বে ৭০ দলীয় জোট কপ প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় সংসদে যায়। সে সময় বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজপথের আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে। বেগম খালেদ জিয়া অনমনীয় সিদ্ধান্তের ফলে তিনি আপোষহীন নেত্রী হিসেবে উপাধি পান। বিরোধীদলের দুর্বার আন্দোলনের তীব্রতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির সরকার এরশাদ পদত্যাগে বাধ্য হয়। ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রধান বিরোধীদল হিসেবে সংসদে যায়। ২০০১ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আবারো একক সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে সরকার গঠন করে। অন্যদিকে ২০০৪ সালের পরপরই নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে আওয়ামিলীগ ও জামায়াত জোট বেধে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। কেয়ারটেকার সরকারের ধারণা সাংবিধানিকভাবে না থাকায় বিএনপি ২০০৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারী আরেকটি জাতীয় নির্বাচন সমপন্ন করে। সে নির্বাচনে আ.লীগসহ সমমনা দলগুলো অংশ নেয়নি। ফলে একক সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে এবং সরকার গঠন করে। ১৫ দিন মেয়াদী এ সংসদের প্রথম অধিবেশনে কেয়ারটেকার সরকার বিলটি পাশ করা হয়। ফলে বাংলাদেশের সংবিধানে কেয়ার টেকার সরকার বিল স্থায়ীরুপ পায়। এরপর ফখরুদ্দিন-মাঈন উদ্দিনের সেনা সমর্থিত কেয়ারটেকার সরকার ক্ষমতায় আসে। ২০০৯ সালে কেয়ারটেকার সরকারে অধীন নির্বাচনে আ.লীগ একক সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে সরকার গঠন করে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোটের প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের আদালত সংবিধান থেকে কেয়ারটেকার বিলটি রহিত করে। এর প্রতিবাদে বিএনপিসহ সমমনা বিরোধী দলগুলো রাজপথে নেমে আসে। কিন্তু আ.লীগ সরকারের একঘেয়েঁমীর কারণে কেয়ারটেকার পুণঃপ্রতিষ্ঠার দাবী উপেক্ষিত হয়। 

এতে ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন আ.লীগ, জাতীয় পার্টি ছাড়া বৃহৎ দলগুলো অংশ নেয়নি। ফলে আ.লীগ বিনা ভোটের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্টতা পায়। একইভাবে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্যান্যদল অংশগ্রহণ করে। দিনের ভোট রাতে নেয়ার গুঞ্জন দেশিয় ও আর্ন্তজাতিক মিডিয়ায় ফলাও করে চাপা হয়। ফলে ২০১৮ সালের নির্বাচন চরম বিতর্কের জন্ম দেয়। এসময় রাজপথে বিরোধীদল গুলো দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে। সরকার ও ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে বিরোধী দলের উপর দমন- পীড়ন চালায়। অন্যদিকে বিরোধী দলের বহু নেতাকর্মীর গুম হওয়ার বিষয়টি আর্ন্তজাতিক মিড়িয়ায় স্থান পায়। এর পরপরই শুরু হয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের তোড়জোড়। বিরোধী দলগুলো কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে অনড় থাকে। ফলে আ.লীগ সরকার আবারোও একতরফা নির্বাচনের দিকে হাটে। ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ.লীগ একক সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে টানা ৪র্থ বারের মতো সরকার গঠন করে। এরপরপরই শুরু হয় বিরোধীদল গুলোর দুর্বার আন্দোলন। যুক্ত হয় কোটা আন্দোলনের ছাত্র নেতৃবৃন্দ। শুরু হয় ধরপাকড়। চলে টিয়ারসেল, রবার বুলেট, র্ছরা গুলি, গরম পানি ও ঠান্ডা পানি নিক্ষেপ। আহত হয় হাজার হাজার ছাত্র-জনতা, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শত শত আন্দোলনকারী ছাত্রজনতা। জুলাই ২৪ সালের শুরু হওয়া কোটা আন্দোলন ৪ঠা আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত হাসিনা সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে রুপ নেয়। ঢাকাসহ সারা দেশে হাসিনা পতনের একদফা আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে। আন্দোলনের ছাত্রজনতার আন্দোলনের তীব্রতায় ৫আগস্ট ২০২৪ সালের দুপুরেই হাসিনা ক্ষমতা রেখেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আসে ড. ইউনুসের কেয়ারটেকার সরকার। অপরিপক্ক ইউনুস সরকার দেশে মবতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে জাতীকে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। এনজিওগ্রাম সরকারের বিরুদ্ধে ও জাতীয় নির্বাচনের দাবীতে রাজনৈতিক দলগুলো সোচ্ছার হয়। ফলে চলতি বছর’র ১২ই ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন দিতে বাধ্য হন ইউনুস। এই নির্বাচন আ.লীগ অংশগ্রহণ করেনি। 

তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। ফলে একক সংখ্যাগরিষ্টতা পায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াত জোট প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো আত্মপ্রকাশ করে। বিএনপি সরকার গঠন করলে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর আসন অলংকৃত করেন। 

২০ নভেম্বর ১৯৬৮ইং সালে জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছরের বেদনাদায়ক নির্বাসিত জীবনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি'র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে সরকার গঠন করে। নির্বাচনের প্রাক্কালে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১দফা এদেশের আপামর জনগনের কাছে ব্যাপক প্রসংশিত হয়।



ফেনী বিলোনীয়া রেলপথ

১৯২৯ সালে অবিভক্ত ভারতের আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানী কর্তৃক চালু হয় ফেনী-বিলোনীয়া রেলপথ। বিলুপ্ত এই রেলপথটি প্রায় ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। রেলপথটি ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ফেনীর উত্তর জনপদের শিক্ষা, সাংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিলো এই রেলপথ। কালের বিবর্তনে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় রেলপথটি ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়ে এখনো টিকে আছে। তবে রেলওয়ের জায়গা-সম্পত্তি, স্টেশন ঘর, রেল লাইনের পাশে হাজার হাজার উদ্ভিদ এবং বিস্তীর্ণ লোহার রেলপাত লুটেরা ও দখলদারদের কবলে চলে গেছে।

ফেনীকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত জংশন বলা হতো। এরপর ফেনী তার এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য হারায়। কেননা, যে সব রেল স্টেশনে একের অধিক শাখা রেলপথ থাকে সেসব রেল স্টেশন জংশন হিসাবে বিবেচিত হতো। ফেনী- বিলোনীয়া রেলপথ বন্ধ হওয়ায় ফেনী জংশন'র মর্যাদা হারায়। ফেনীর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ঐতিহাসিক রেলপথটি পুণরায় চালু করা এখন সময়ের দাবী।



দোস্ত টেক্সটাইল মিলটি চালু করা হোক

১৯৬৫ সালে ফেনী মহকুমার রানীর হাট সংলগ্ন স্থানে পশ্চিম পাকিস্তানের নাগরিক ঢনাঢ্য ব্যবসায়ী দোস্ত মোহাম্মদের একক প্রচেষ্ঠায় প্রতিষ্ঠা হয় দোস্ত মোহাম্মদ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। ২১ দশমিক ৪৭ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এ কারখানায় ৬ শতাধিক শ্রমিক নিয়োজিত ছিল। দিন রাত ২৪ ঘন্টা তিন সিফটে মিলটি চালু ছিলো। প্রতি শিফটে ৬ শ শ্রমিক মিলটিতে কাজ করতো। এই মিলটিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় গড়ে ওঠে হাট-বাজার, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ বহু প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতার পর মিলটি ১৯৭২ সালে এটি রাস্ট্রয়াত্ত করা হয়। পরে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক ও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল। এখান থেকে উৎপাদিত সুতা দেশ-বিদেশে রপ্তানি হতো। চাহিদার আলোকে আধুনিকায়ন করতে না পারায় ১৯৯৩ সাল থেকে কারখানাটিতে লোকসান শুরু হয়। ১৯৯৭ সাল থেকে সার্ভিস চার্জ পদ্ধতিতে উৎপাদন করেও লাভের মুখ না দেখায় ২০১১ সালে স্থায়ীভাবে মিলটি বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই থেকে বছরের পর বছর এটি চালুর প্রহর গুনতে গুনতে অনেক শ্রমিক মৃত্যু পথের যাত্রী হয়েছেন। আবার অনেকেই জীবন-জীবিকার জন্য অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলায় এক সময়ের সবচেয়ে প্রাণবন্ত কারখানাটিতে একেবারেই শুনশান নিরবতা নেমে এসেছে। বড় বড় দালান ঘর থাকলেও সেগুলোতে নেই কোন সরঞ্জাম। বছরের পর বছর বন্ধ থাকায় গুদাম ও মেশিনঘরগুলো ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। আশপাশের আবাসিক ঘরগুলো দীর্ঘদিন মেরামত না করায় আয়ুস্কাল পুরিয়ে ভেঙে ভেঙে পড়ছে। নিম্ন আয়ের কিছু পরিবার ও পুরাতন কিছু শ্রমিকের পরিবার-স্বজনরা নামমাত্র ভাড়ায় এসব ঘরে বসবাস করছেন।

কারখানার ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন জানান, এটি বাংলাদেশ বস্ত্র শিল্প কর্পোরেশনের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হলেও উৎপাদন বন্ধ থাকায় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বে নেই। অন্য অফিসের পাশাপাশি আমাকে এবং হিসাব সহকারীকে দোস্ত টেক্সটাইল মিলের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আমরা প্রয়োজনের আলোকে মাসে ২/৪ দিন এখানে অফিস করি। এর বাইরে বৃহৎ এ শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাহারায় ১ জন হাবিলদার ও ৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কারখানাটির যাবতীয় মেশিনারীজ স্ক্রেপ হিসেবে দরপত্রের মাধ্যমে ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

কারখানার ভূমি এক শিল্প মালিককে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ২০১৬ সাল থেকে ৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকার ভূমি কর বকেয়া পড়ে আছে। বর্তমানে ৪৫ জন ভাড়াটিয়া ও কয়েকটি পরিবহন পার্কিং ভাড়া থেকে কিছু টাকা আয় হয়। ওই আয় থেকে এখানকার খরচের কিছু অংশ নির্বাহ হয়।

মিলটি চালু হলে আশপাশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে ভালো ভূমিকা রাখা যেতো।

টেক্সটাইল মিলটকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মিলটি জরুরি ভিত্তিতে চালু করে ফেনীর বেকার সমস্যা সমাধানের দাবি ফেনীবাসীর।



ফেনীতে কেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়?

ফেনী চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে ভূগৌলিক অবস্থানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থিত। পশ্চিমে নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলা। পশ্চিম দক্ষিনে ভোলা জেলার অবস্থান। লক্ষীপুর জেলার সাথে লাগোয়া চাঁদপুর জেলা। ফেনীর উত্তর ও উত্তর পশ্চিমে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোর্ট উপজেলা। এসব বিস্তীর্ণ জনপদের মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে ফেনী। অন্যদিকে চট্টগ্রামের মিরেরশ্বরাই, বারইয়ারহাট, করের হাট, ফটিকছড়ি ও পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ফেনীর সাথে অত্যন্ত চমৎকার। এসব জেলা ও উপজেলার বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী ফেনী কেন্দ্রিক ব্যবসা- বাণিজ্য, স্বাস্থ্য- চিকিৎসায় স্বাচ্ছন্দবোধ করে। পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষায় এই জনপদে একমাত্র নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্যকোন বিদ্যাপীঠ নাই। ফলে এতদন্ছলের প্রচুর শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা থেকে উপেক্ষিত হয়ে আছে। এছাড়াও ফেনী জেলার প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার আকাংখা অন্তরে লালন করলেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ না থাকায় স্বপ্নের সারথী হতে পারছেনা।

শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ফেনী সরকারী কলেজে অনার্স কোর্স চালু হওয়ায় এখানে বর্তমানে অধ্যয়ন করছে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী। প্রতি বছর ফেনী সরকারী কলেজে প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হতে আসেন। কিন্তু চাহিদানুযায়ী আসন না থাকায় তারা ভর্তির সুযোগ থেকে বন্ছিত হচ্ছে।

পর্যাপ্ত শিক্ষক ও জনবল না থাকার কারণে শতবর্ষী ফেনী সরকারী কলেজ অনেকটাই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। এছাড়াও পুরোনো অবকাঠামোগুলোর অনেকটাই মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে জীবনের ঝুৃকি নিয়েই শিক্ষার্থীদের কলেজ করতে হচ্ছে।

ফেনী সরকারী কলেজের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। এসব সম্পদ তদারকির অভাবে অনেকগুলো বেহাত হয়ে গেছে। ফেনী সদর হাসপাতাল লাগোয়া ভূসম্পদ গুলো দখলদার ভূমি দুস্যুদের কব্জায়।

ফেনী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে খুব বেশী জমি একোয়ার করার প্রয়োজন হবেনা।

এতে ৭/৮ জেলার শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে।

এমতবস্থায় ফেনীতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে এতদন্ছল তথা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আনূল পরিবর্তন সাধিত হবে। এছাড়াও ফেনী সরকারী (অনার্স) কলেজ কেও বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষনার মধ্যদিয়ে ফেনীবাসী তথা বহত্তর জনগোষ্ঠীর দাবীর প্রতি সম্মান দেওয়া যেতে পারে। বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ফেনীবাসীর অন্যতম এই দাবী পূরণ করার জোর দাবী থাকলো।


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group