| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নার্সিং সিন্ডিকেটের রাজত্ব: রোগী জিম্মি ও পদ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 13-09-2026 ইং
  • 23 বার পঠিত
ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নার্সিং সিন্ডিকেটের রাজত্ব: রোগী জিম্মি ও পদ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নার্সিং সিন্ডিকেটের রাজত্ব: রোগী জিম্মি ও পদ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ

​অনলাইন ডেস্ক: ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে শিকড় গেড়ে বসা এক নার্সিং সিন্ডিকেটের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় চরম অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে। লেবার ওয়ার্ড থেকে শুরু করে প্রশাসনিক প্রশাসনিক কাজ—সবই এখন নার্স নুরজাহান বেগম ও কল্পনা মণ্ডলের নেতৃত্বাধীন একটি চক্রের নিয়ন্ত্রণে। এর আগে সরকারি লেবার ওয়ার্ডে পিঠা উৎসব ও রান্নাবান্না করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত ও দণ্ড পেলেও অলৌকিক ক্ষমতাবলে তারা পুনরায় ‘সেবা তত্ত্বাবধায়ক’ ও ‘নার্সিং সুপারভাইজার’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। এতে ক্ষোভ ফুসে উঠছে হাসপাতালের সাধারণ কর্মী ও চিকিৎসকদের মাঝে। ​প্রসূতিদের জিম্মি করে অর্থ আদায় অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন হাসপাতালে আসা ২০ থেকে ৩০ জন প্রসূতিকে জিম্মি করে এই চক্র মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে রোগীপ্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা এবং সিজারিয়ান অপারেশনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা আদায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টাকা না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না অসহায় মায়েরা। স্বজনদের সাথে বেপরোয়া আচরণের কারণে প্রসূতি ওয়ার্ডটি রীতিমতো আতঙ্কের স্থানে পরিণত হয়েছে। ​ইনচার্জ পদ বাণিজ্য ও চাঁদা আদায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইনচার্জদের ওপর নির্দিষ্ট হারে ‘মাসিক হাদিয়া’ বা চাঁদা ধার্য করেছে এই চক্র। ইনচার্জভেদে মাসে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। চাহিদা মতো চাঁদা না দিলে পদ হারানোর ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে নতুন ইনচার্জ নিয়োগের ব্যবসা পরিচালনা করার অভিযোগ নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী স্টাফ। ​আঙুল ফুলে কলাগাছ নুরজাহান, দুদক অনুসন্ধানের দাবি সাধারণ বেতনের চাকরিজীবী হলেও নুরজাহান বেগম গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার সাম্রাজ্য। তার স্বামী বর্তমানে বেকার হলেও নুরজাহান নিজ এলাকায় ছয় তলা ভিত্তির ওপর চার তলা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। স্থানীয় অধিবাসী নবীর হোসেন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "একজন নার্সের পক্ষে সামান্য বেতনে এত সম্পদের মালিক হওয়া অসম্ভব। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত অবিলম্বে তার সম্পদের বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানো।" এছাড়া শহরের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালেও তার বেনামে শেয়ার রয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। ​বদলি আতঙ্ক ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ সিন্ডিকেটের অপকর্মের বিরোধিতা করলে বদলির হুমকি দেওয়া হয়। পরশুরামের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে বদলি করার ভয় দেখিয়ে সবাইকে তটস্থ রাখা হয়। সম্প্রতি দুর্নীতির তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় সিন্ডিকেটের সদস্যরা অন্য নার্সদের জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করেছে। এই স্বাক্ষর ব্যবহার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও মনগড়া কর্মবিরতি পালনের চক্রান্ত চলছে বলে এক অশ্রুসিক্ত নার্স জানিয়েছেন। ​শাস্তির পরও বহাল তবিয়তে সিন্ডিকেট হাসপাতালের খাদ্যসামগ্রী আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে নুরজাহান ও কল্পনাকে সাময়িক বরখাস্তের পর ২০১৮ সালের সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী লঘুদণ্ড ('তিরস্কার') দেওয়া হয়। শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মীরা কীভাবে পুনরায় একই হাসপাতালের শীর্ষ নার্সিং পদে ফিরলেন, তা নিয়ে খোদ চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও হতবাক। ​হাসপাতালের সাধারণ রোগী ও সৎ কর্মচারীরা অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের অবসান এবং দুদকের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ​বিষয়টিতে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group