স্টাফ রিপোর্টার:
পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এমপি বলেছেন, ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি একটি সুখবর। দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা নিয়ন্ত্রণে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যে দুর্নীতির ধারা চলেছে, সেখান থেকে আমরা বের হতে পারিনি। জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে। আমরা এ কথা বলব না যে এখনই দুর্নীতির ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্সে’ চলে যাব। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, যেহেতু লক্ষ্মীপুর আমার বাড়ি এবং এ অঞ্চলের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তাই এই প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে শেষ করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে কাজটি সম্পন্ন করা আমার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে আমি সজাগ ও সতর্ক আছি। কোনো ধরনের প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা দুর্নীতি যাতে প্রকল্পের ক্ষতি করতে না পারে, সে সুযোগ আমরা দেব না।
ভাটির দেশ বাংলাদেশকে সতর্ক না করে ভারত পানি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ভারতকেও বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কতটুকু ইতিবাচক ও কার্যকর রাখা উচিত, সে বিষয়টি তাদের বিবেচনা করা প্রয়োজন। আমরা আশা করছি, ভারত এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে। কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার যাতে আমাদের দেশের মানুষ না হয়, সে বিষয়ে আমরা আরও বেশি সজাগ থাকব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশবাসীও সজাগ রয়েছে এবং থাকবে।
মঙ্গলবার দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কাজের প্রয়োজনে কারও জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের কোনো সম্ভাবনা নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছু জমি অধিগ্রহণের আওতায় আনার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জমির মালিকদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করে জমি অধিগ্রহণ করা হবে।
আগামী মাসের যেকোনো সময় বা শেষের দিকে ফেনী সফরে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের এ প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করবেন। তিনি স্থানীয় জনগনের সাথে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন। সম্ভব হলে জেলার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি রেহানা আক্তার রানু,
জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: আবু বক্কর সিদ্দিক, বিএনপির কেন্দ্রিয় সহ গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহম্মদ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব ও মশিউর রহমান বিপ্লব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |