পরশুরাম প্রতিনিধি:
দরিদ্রদের জন্য সরকারি ভাবে নির্মাণ করা ল্যট্রিন (দুই গর্ত বিশিষ্ট উন্নত মানের পায়খানা)’র নকশা পরিবর্তন করে অত্যন্ত নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দায়সারা ভাবে কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, উপকার ভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ৪-৫ বস্তা সিমেন্ট কিনে না দিলে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদারের লোকজন। এছাড়াও উপকার ভোগী হিসাবে তালিকা তৈরীতেও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ফেনীর পরশুরাম উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (উচঐঊ) গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র পরিবারের জন্য প্রতিটির জন্য ৫৮ হাজার টাকা করে ১৫০টি টুইন পিট ল্যাট্রিন (দুই গর্তবিশিষ্ট উন্নত পায়খানা) নির্মাণের জন্য ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্ব দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্টান নকশা পরিবর্তন করে নিজের মন মত করে নাম মাত্র কাজ করছে এছাড়াও নির্মাণ কাজেও নিম্নমানের ইট, সুরকী, বালু, কংকীট ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন উপকার ভোগীরা।
সরকারি কাজে উপকার ভোগীদের কাছ থেকে সিমেন্ট নেওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন উপকার ভোগীরা।
জানা যায়, পরশুরামে ১৫০টি ফুলগাজীতে ৩০০টি টুইন পিট ল্যাট্রিন প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা বরাদ্ব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে পরশুরামে ৮৭ লাখ টাকা।
উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে এসব টয়লেট নির্মাণের কাজ পেয়েছে ‘মেসার্স সাজ এন্টারপ্রাইজ’ নামীয় একটি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নকশায় নির্ধারিত উপকরণ ও মাপ অনুসরণ না করেই অনেক স্থানে ঠিকাদারের নিয়োগকৃত নির্মাণ শ্রমিক নির্মাণকাজ করা হচ্ছে।
নকশা অনুযায়ী টয়লেটের নিচে ৩ ইঞ্চি বালুর স্তর, এরপর ৩ ইঞ্চি সিসি ঢালাই এবং আড়াই ফুট ১০ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনির কথা রয়েছে। তবে সরেজমিনে কয়েকটি নির্মাণাধীন টয়লেটে মাত্র ১ ফুট ২ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনি দেখা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক স্থানে বালুর স্তর ও সিসি ঢালাইও দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া নকশা অনুযায়ী একটি টয়লেটের উচ্চতা সাড়ে ৭ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা অর্ধেকও পাওয়া যায়নি।
নির্মাণকাজে দুই নম্বর ইট, কাদা মিশানো বালি ও প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, সরকারি বরাদ্দের সিমেন্ট দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো সুবিধাভোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত সিমেন্ট নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ থেকে জানা গেছে, প্রতিটি টয়লেট নির্মাণে ৫৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এক তৃতীয়াংশ কাজও করছেননা বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক উপকারভোগীরা।
জেসমিন আক্তার, সকিনা আক্তার ও আবুল কালাম বাচ্চুসহ কয়েকজন উপকারভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, অত্যন্ত নিন্ম মানের কাজ করা হচ্ছে তাছাড়া সিমেন্ট কিনে না দিলে কাজ বন্ধ করে দিতেছে। আমরা গরীব মানুষ সিমেন্ট কেনার টাকা আমারা কোথায় থেকে দিবো।
মেসার্স সাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারীর মো. স্বপনের কাছে এসব অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিন্মমানের কাজের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, এখন নির্মাণ সামগ্রীর দাম দিন দিন বাড়ছে। নির্মাণ কাজ ঠিকমত হচ্ছে কিনা তিনি সরেজমিন গিয়ে দেখবেন।
সরকারি অর্থায়নে দরিদ্র পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন এসব স্যানিটেশন সুবিধার কাজ নকশা ও নির্ধারিত মান অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জা‘নিয়েছেন এলাকাবাসী।
পরশুরাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. ফাহাত ভূঞা বলেন, “আমরা এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। কয়েকটি স্থানে পরিদর্শণ করে সাথে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। বিষয়টি লিখিতভাবে উদ্বোধন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পাশাপাশি মেসার্স সাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারীদের সঙ্গেও কথা বলেছি।”
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |