| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

দোষারোপের সংস্কৃতি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 05-07-2026 ইং
  • 9 বার পঠিত
দোষারোপের সংস্কৃতি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?
ছবির ক্যাপশন: জামাল উদ্দিন



জামাল উদ্দিন:


আমরা বর্তমানে এমন এক সময় পার করছি, যেখানে যেন পরস্পরকে দোষারোপই সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাষা হয়ে উঠেছে। রাজনীতি, সমাজনীতি, পরিবার, কর্মক্ষেত্র, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল্যায়ন; যেদিকেই তাকাই, মনে হয় আমরা সত্য খোঁজার চেয়ে দোষ খুঁজতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছি। 

আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে মতের অমিলই দোষনীয়। মতের অমিল থেকেই শুরু হয় অন্যকে দোষারোপ এবং শত্রুতার ঝুড়ি। যে কোন বিষয়ে আলোচনা, যুক্তিতর্ক হতেই পারে। ভিন্নমতকে সম্মান করার পরিবর্তে আমরা মানুষকে বিভক্ত করছি পরিচয়ে, বিশ্বাসে, দলীয় অবস্থানে কিংবা অতীতের কোন ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ব্যাখ্যায়। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় দাড়িয়েছে যে, যেন কেউ কারও কথা শুনতে চায় না; সবাই শুধু নিজের বক্তব্যই প্রতিষ্ঠা করতে ব্যাকুল হয়ে আছেন। 

রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে দোষারোপ, সমাজে একে অপরকে দোষারোপ, পরিবারে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে দোষারোপ, এই চক্র যেন থামছেই না। এমনকি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়গুলোও অনেক সময় পারস্পরিক বিদ্বেষের অস্ত্র হয়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধ হোক কিংবা জুলাই গণঅভ্যুত্থান’র এসব ইতিহাস আমাদের শিক্ষা, ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা হওয়ার কথা। কিন্তু যখন এগুলো কেবল বিভাজনের হাতিয়ার হয়ে যায়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো জাতি।

দোষারোপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এটি আমাদেরকে আত্মসমালোচনা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আমরা সমস্যার মূল কারণ খোঁজার পরিবর্তে সব সময় ভাবি সমস্যার কারণ অন্য কেউ। অথচ পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হলো নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা। আমি কি আমার পরিবারে সহনশীল? আমি কি সমাজে দায়িত্বশীল? আমি কি ভিন্নমতকে সম্মান করি? আমি কি সত্য জানার আগে বিচার করি?

একটি জাতি তখনই এগিয়ে যায়, যখন তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়, ইতিহাসকে নিয়ে যুদ্ধ করে না। মতের পার্থক্য থাকবে, ব্যাখ্যার ভিন্নতা থাকবে, রাজনৈতিক অবস্থানও ভিন্ন হবে; এটাই গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সেই ভিন্নতা যদি ঘৃণা, অপমান ও অবিশ্বাসে রূপ নেয়, তাহলে হারিয়ে যায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দুর্বল হয়ে পড়ে সামাজিক বন্ধন।

আমাদের নতুন প্রজন্ম আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা শিখছে আমরা কীভাবে কথা বলি, কীভাবে মত প্রকাশ করি, কীভাবে মতভেদ সামলাই। যদি আমরা তাদের শুধু দোষারোপ, বিদ্বেষ ও বিভাজনের শিক্ষা দিই, তাহলে আগামী দিনের সমাজও একই চক্রে আটকে থাকবে।

আজ আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দোষারোপ নয়, দায়িত্ববোধ। প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার মানসিকতা নয়, সমস্যার সমাধান খোঁজার। প্রয়োজন ইতিহাসকে জানা এবং সম্মান করার, কিন্তু ইতিহাসের নামে বর্তমানকে ধ্বংস করা নয়। প্রয়োজন মতের ভিন্নতাকে শত্রুতা নয়, আলোচনার সুযোগ হিসেবে দেখার। একটু সহনশীল হলেই সমাধান সম্ভব। 

আসুন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করি; যেখানে প্রশ্ন থাকবে, সমালোচনা থাকবে, মতভেদ থাকবে; কিন্তু থাকবে না অন্ধ বিদ্বেষ, হিংসা হানাহানি। কারণ একটি জাতির শক্তি, একে অপরকে হারিয়ে দেওয়ায় নয়; বরং মতের কিছুটা পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতায় একটি সভ্য এবং শিক্ষিত সমাজ গঠন করা, একটি উন্নত এবং আধুনিক রাষ্ট্র গড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা এখন সময়ের দাবী। তাই আসুন; আমরা সবাই মিলে দোষারোপের ভাষা ত্যাগ করে আগামীর বাংলাদেশের জন্য একটি সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সহনশীল ভূমিকা রাখি। 

সম্পাদক

দৈনিক স্টারলাইন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group