পরশুরাম প্রতিনিধি
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী কোলাপাড়া ও বাঁশপদুয়া এলাকায় কহুয়া নদীর ভারতীয় অংশে দ্রুত গতিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে। তবে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অংশে এখনো কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ অংশের উত্তর কোলাপাড়া ও ভারতের আমজাদ নগর সীমান্তবর্তী এলাকায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, গত ১৫ দিন ধরে ভারত তাদের অংশে পুরোদমে বাঁধ নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় বাংলাদেশ অংশে এখনো কোনো সংস্কার বা নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেক জায়গায় বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়ে বাঁধটি বর্তমানে অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ভারত তাদের অংশের বাঁধ উঁচু ও মজবুত করে ফেলায়, আসন্ন বর্ষায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বা পাহাড়ি ঢল নামলে সমস্ত পানি বাংলাদেশের দুর্বল বাঁধ ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করবে। ফলে ফেনীর একটি বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা খোকন বলেন: "ভারত যে বেড়িবাঁধটি দিচ্ছে, সেটি সম্পন্ন হয়ে গেলে আমাদের বাংলাদেশ অংশের বাঁধটি সম্পূর্ণ মূল্যহীন হয়ে পড়বে। কিছুদিন আগে এখানে সিসি ব্লক বসানোর জন্য টেন্ডার হয়েছিল, কিন্তু তখন ভারতীয়রা এসে বাধা দেয়। তাদের বাধার কারণে আমাদের কাজ শেষ করা যায়নি এবং সিসি ব্লকগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। এখন ভারত ঠিকই তাদের কাজ করছে, কিন্তু আমরা পিছিয়ে। এই বর্ষায় ভাঙন থেকে উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া, বেড়াবাড়িয়া ও পরশুরাম বাজারসহ প্রায় ১০টি গ্রাম রক্ষা করতে আমি ফেনী-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনুর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উত্তর কোলাপাড়ার বাসিন্দা ইমরান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "চুক্তি অনুযায়ী ভারত তাদের কাজ অলরেডি শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে কোনো খবর নেই। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ করা না হলে পরশুরাম উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাবে।"
একই গ্রামের সোহাগ নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, "বাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক। গত বন্যায় ফাটল ধরার পর গ্রামের মানুষ নিজেদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কোনোমতে এটি টিকিয়ে রেখেছিল। এবার পানি এলে এই বাঁধ আর টিকবে না। মানুষ থাকার জায়গা পাবে না, খাওয়ার জায়গা পাবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, যেন দ্রুত এই বাঁধ সংস্কার করা হয়।"
সীমান্ত এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের জোর দাবি বাংলাদেশ সরকার যদি এখনই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয় এবং অতি দ্রুত কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধটি সংস্কার না করে, তবে ফেনীর একটি বড় অংশ এবারও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যেন দ্রুত ভারতের কাজের সাথে সমন্বয় করে বাংলাদেশ অংশের কাজ শুরু করে, এটাই এখন পরশুরামবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বাঁধটি কিভাবে নির্মাণ করা হবে সে বিষয়ে বিজিবির অধিনায়কের সাথে আলোচনা করছি। মানুষ যেভাবে উপকৃত হয় সেভাবেই দ্রুত বাঁধ নির্মাণে আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |