চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অস্ত্রহাতে দাড়িয়ে চাষাবাদের ট্রাক্টর দিয়ে শত বছরের পুরনো সরকারী রাস্তা বিলীন করেছে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্র।
এতে করে অন্তত ৫-৬টি পরিবারের চলাচল, পাশ্ববর্তী মসজিদে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। চক্রের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দাড়িয়ে থাকায় ভয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষ বাঁধা প্রদানের সুযোগ পায়নি। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে সাতঘরিয়া গ্রামের মফিজুর রহমানের নাতি ও লোকমানের ছেলে রিফাতের অস্ত্র হাতে দাড়িয়ে রাস্তা কেটে ফেলায় একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে গেলে লোকমান গং তাদের উপরও চড়াও হয়।
জানা যায়, জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া মৌজার বিএস ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত হাল ৩২৭ দাগের ভূমি সরকারী রাস্তা শ্রেণির ভূমি। উক্ত দাগের ভূমি সিএস এবং আরএস জরিপেও রাস্তা হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিল। উক্ত দাগে রাস্তা শ্রেণির ৭৩শতক ভূমির মধ্যে ৭-৮শতক ভূমিতে অন্তত ১০০ বছর ধরে চলাচল রাস্তা দৃশ্যমান। রাস্তাটি দিয়ে সাতঘড়িয়া গ্রামের ৫-৬টি পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত করে এবং পাশ্ববর্তী মসজিদে নামাজ পড়ে।
বিগত ২০১৫-১৬ সাল থেকে সাতঘড়িয়া গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলেদের নজর পড়ে রাস্তাটির উপর। তারা নানানভাবে রাস্তাটি দখলের চেষ্টা করে। একসময়ে তারা রাস্তাটির জায়গা দখল করে নাল শ্রেণির ভূমির সাথে অন্তর্ভুক্ত করে। দীর্ঘ বছরের পুরনো চলাচল রাস্তা বন্ধ হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পি আর ৪৬৬/২০২৫নং মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসে তদন্ত আসলে বিগত ২০২৫ সালের ০২ই জুলাই তৎকালীণ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা হাল ৩২৭ দাগের ভূমি সরকারী রাস্তা শ্রেণির ভূমি হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন। এসময় তিনি সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় মানুষদের উপস্থিতিতে অদৃশ্য রাস্তাটি আবারও দৃশ্যমান করে আসেন। পিআর মামলার প্রেক্ষিতে এর আগে চৌদ্দগ্রাম থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম ৩২৭ দাগের ০৬শতক ভূমিতে সরকারী রাস্তাটির অবস্থান মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের আইয়ুব আলী জানান, রাস্তাটি এর আগেও প্রশাসন ও এসিল্যান্ড এসে উদ্ধার করে আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুর মফিজুর রহমানের ছেলে ও নাতিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দাড়িয়ে চাষবাদের ট্রাক্টর এনে রাস্তাটি মাড়িয়ে ফেলে। এতে করে রাস্তাটি পাশ্ববর্তী নাল জমিনের সাথে আবারও একিভুত হয়ে পড়ে।
দখলে অভিযুক্ত মোঃ মোস্তফা জানান, বিগত অন্তত ১০০ বছর পূর্বে বিরোধীয় অংশে রাস্তা ছিল। পরে জনগণের সুবিধার্থে অপর পাশ দিয়ে রাস্তা করা হয়। বিরোধীয় অংশ বহু পূর্ব থেকেই আমাদের দখলে।কিন্তু আইয়ুব গং এককভাবে রাস্তাটসুবিধাভোগী।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুল আমিন, জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া গ্রামে সরকারী রাস্তা কেটে ফেলার বিষয়টি জানতে পেরেছি। দ্রুততর সময়ে বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |