কাউসার হামিদ সিকদার পিনু:
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় জনবসতিহীন এলাকায় খালের ওপর তিন লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি কালভার্ট জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কালভার্টটির দুই পাশে নেই সংযোগ সড়ক। ফলে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত অবকাঠামোটি কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রকল্পের স্থান নির্বাচন, নির্মাণ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরকারি নথিতে প্রকল্পটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘রাধানগর ই দক্ষিণ আঁধার মানিক গ্রামের খালের উপর কালভার্ট নির্মাণ’। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ফেনী জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করা হয় তিন লাখ টাকা। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্বে ছিল মেসার্স আয়ান এন্টারপ্রাইজ, গোবিন্দপুর, হাজীর বাজার, ফেনী সদর, ফেনী।
নির্মাণ আছে, নেই যাতায়াতের ব্যবস্থা: স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছাগলনাইয়া-মুহুরীগঞ্জ সড়কের ভল সাহেব সড়কের রাস্তার মাথার বিপরীতে দক্ষিণ আঁধারমানিক খালের ওপর কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, এর দুই পাশে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নেই। ফলে এক পাশ থেকে অন্য পাশে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াতের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনবসতিও নেই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জনসাধারণের চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি অর্থে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক ছাড়া এর ব্যবহারিক সুফল পাওয়া কঠিন। এ কারণে কালভার্টটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানটির বাস্তব অবস্থা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তিন লাখ টাকার প্রকল্প, পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন: প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, কালভার্টটির প্রাক্কলিত ব্যয় তিন লাখ টাকা। তবে প্রাক্কলিত মূল্য ও প্রকৃত ব্যয় এক বিষয় নয়। প্রকল্পটির চূড়ান্ত ব্যয়, অর্থ ছাড়, কাজের পরিমাপ এবং নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা, কার্যাদেশ, স্থান নির্বাচন, কাজের পরিধি এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণ পরিকল্পনায় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য যদি জনসাধারণের যাতায়াত সহজ করা হয়ে থাকে, তাহলে সংযোগ সড়কবিহীন অবস্থায় কালভার্টটি নির্মাণের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
তবে এসব তথ্য যাচাই ছাড়া প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থের অপচয় কিংবা দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রকৃত চিত্র জানতে প্রকল্পের নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন।
ইউএনও বললেন, জেলা পরিষদকে অবহিত করা হয়েছে: এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ফারহানা পৃথা বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে আসার পর আমি ফেনী জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অবহিত করেছি।”
অন্যদিকে, ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক জানান, সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি দায়িত্বে ছিলেন না এবং বিষয়টি তাঁর নজরেও ছিল না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আপনি যে সময়ের কথা বলেছেন, আমি এ সময় দায়িত্বে ছিলাম না। এটি আমার নজরেও নেই। আপনার কাছে আমি প্রথম শুনলাম। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের: প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আয়ান এন্টারপ্রাইজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে কালভার্টটির নির্মাণকাজ, সংযোগ সড়ক না থাকার কারণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি: সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো জনসাধারণের কাজে লাগছে কি না, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে কালভার্টটির নির্মাণ উদ্দেশ্য, অনুমোদিত পরিকল্পনা এবং বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
তাঁদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটির বাস্তব চিত্র যাচাই করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বাস্তবসম্মত সুযোগ থাকলে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কোনো ঘাটতি পাওয়া গেলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিন লাখ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের এই প্রকল্পের সুফল শেষ পর্যন্ত জনগণ পাচ্ছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত, নথি যাচাই এবং কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে কালভার্টটির নির্মাণের উদ্দেশ্য ও বর্তমান অবস্থার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |