পরশুরাম প্রতিনিধি
ফেনীর পরশুরামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরীদের বেতন-ভাতা উত্তোলনে নানা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বেতন পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারীদের অপেশাদার আচরণের কারণে চরম ক্ষুব্ধ ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন দপ্তরীরা।
গতকাল বুধবার সকালে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে ৩৭ জন ভুক্তভোগী উপস্থিত হয়ে দাবী করেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে নিম্ন শ্রেণির কর্মচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী দপ্তরীদের অভিযোগ, ঈদ বোনাস ও বৈশাখী ভাতা না দেওয়ার অভিযোগসহ প্রতি মাসের ৫ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে বেতন হওয়ার কথা থাকলেও মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখ পেরিয়ে গেলেও তারা বেতন পাচ্ছেন না। এতে করে পরিবার নিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
বাউর পাথর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী মনির হোসেন বলেন, হিসাব সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের অবহেলার কারণে বেতন পেতে দেরি হচ্ছে। আমাদের অনেক সহকর্মীর পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। গত ঈদে আমরা আউটসোর্সিং নীতিমালার আওতায় ঈদ বোনাস পেয়েছিলাম। এবার নববর্ষ ভাতাও অ্যাকাউন্ট থেকে পাস হয়ে শিক্ষা অফিসে এসেছে বলে জেনেছি। কিন্তু এখনো চেক দেওয়া হচ্ছে না। কেন দেওয়া হচ্ছে না তা আমরা জানি না। মৌখিকভাবে বলা হচ্ছে, অধিদপ্তরের অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাকি না দিতে বলেছেন। অথচ অন্যান্য উপজেলায় এসব ভাতা ও বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী এক দপ্তরী বলেন, আমাদের ইউসুফ ভাইয়ের বাচ্চাটা মারা গেল টাকার অভাবে, তিনি সঠিক সময় চিকিৎসা করাতে পারেননি। কাসেম ভাইয়ের দুইটা বাচ্চা অসুস্থ। ২৪ ঘণ্টা চাকরি করে যদি আমরা সময়মতো বেতন না পাই এবং অপদস্থ হই, তবে আমরা কোথায় যাব?" দপ্তরীদের দাবি তারা অবিলম্বে বেতন-ভাতা নিয়মিত করার এবং জাহাঙ্গীর মিয়ার মতো অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই মানুষগুলো প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জামাল উদ্দিন বলেন, কেন্দ্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগকৃত দপ্তরীদের ঈদ বোনাস না দেওয়ার জন্য মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এছাড়া জেলা অফিস থেকেও তাদের ভাতা দেওয়ার জন্য নিষেধ করা হয়েছে।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |