| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শেকড় সন্ধানী ডা. এবিএম হারুন

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 27-04-2026 ইং
  • 388 বার পঠিত
মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত  শেকড় সন্ধানী ডা. এবিএম হারুন
ছবির ক্যাপশন: মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শেকড় সন্ধানী ডা. এবিএম হারুন


ইমরান ইমন:

ডা. এবিএম হারুন, যিনি স্বপ্ন দেখেছেন, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। তিনি স্বপ্ন বুনেছিলেন একদিন মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন। তার সে স্বপ্ন আলোর মুখ দেখেছে।

তাই ডাক্তার হয়ে মানবতার সেবায় তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। 

এবিএম হারুন বাংলাদেশের নবজাগরণের বছর, ভাষা অর্জনের বছর ১৯৫২ সালের ৩১ আগস্ট ফেনী সদরের ফাজিলপুর গ্রামের জান বখশ্ ভূঁইয়া বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আবুল বাশার চৌধুরী, যিনি কর্মজীবনে তৎকালীন পাকিস্তান রেলওয়েতে চাকরি করেছেন। মা- মরহুমা বেগম নূরুন নাহার চৌধুরী। এবিএম হারুন প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম পিটিআই স্কুল থেকে। মাধ্যমিক পাশ করেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন ঢাকা কলেজ থেকে। এরপর ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। ঢামেক থেকে এমবিবিএস পাশ করেন ১৯৭৬ সালে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়। এরপর পদোন্নতি পেয়ে তিনি সিনিয়র মেডিকেল অফিসার, সহকারী রেজিস্ট্রার ও সর্বশেষ রেজিস্ট্রার পদে তিনি চাকরি করেন। এরপর ১৯৮০ সালে চাকরি নিয়ে তিনি ইরাক চলে যান।

আর এ যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এক কারণ। মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে এবিএম হারুন। ৫ ভাই, ৫ বোন অর্থাৎ ১০ ভাইবোনের বৃহৎ সংসারের হাল তাকে সেসময়ে ধরতে হয়েছে। ভাইবোনদের পড়াশোনার খরচ, দেখাশোনা সবই ছিল তার কাঁধে। সেসময়ে দেশের চাকরিতে পাওয়া বেতন দিয়ে তার সংসার-জীবন চলছিল না। তাই ভাগ্যান্বেষণে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ছুটে যান। যদিও এরপর ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে ডা. এবিএম হারুনের প্রতি। তিনি সব ভাইবোনকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। আর্থিক মুক্তিও মিলেছে তার।

এরপর দেশে ফিরে এসে তিনি দেশের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার সংকল্প করেন। তখন ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে প্রতিষ্ঠা করেন মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আর সে অনুপ্রেরণা থেকে প্রতিষ্ঠা লাভ করে শমরিতা নার্সিং হোম, যা পরবর্তীতে শমরিতা হাসপাতালে রুপান্তরিত হয়। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতাল বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রথমদিকের অন্যতম হাসপাতাল। দীর্ঘ ৪২ ধরে সুনামের সঙ্গে এ হাসপাতাল চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ডা. এবিএম হারুন বর্তমানে শমরিতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ডা. এবিএম হারুনের উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো শেকড়ের টান। শেকড়কে কখনো তিনি ভুলে যাননি। যে আলো-বাতাসে তিনি বড় হয়েছেন, বেড়ে ওঠেছেন, তা তাকে প্রতিনিয়ত কৃতজ্ঞতার বাহুডোরে আবদ্ধ রাখে। তাই নিজ গ্রামে মানবতার কল্যাণে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন সামাজিক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানসমূহ। ২০০৬ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন নূরুন নাহার-মনি দাতব্য ও চক্ষু হাসপাতাল। সেখানে প্রতিমাসে ঢাকা থেকে দেশবরেণ্য খ্যাতিমান চিকিৎসকরা এসে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন, যার ব্যয় বহন করেন ডা. এবিএম হারুন। রোগীদের এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যয় বহন করতে হয় না। এ ক্ষেত্রে তার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সহযোগিতা করেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

এ হাসপাতালটিতে প্রতি মাসে চোখের ছানি অপারেশন হয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। শুধু তাই না, রোগীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও যাতায়াত খরচও দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত ৩৮ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করা হয়েছে।

এছাড়া তিনি তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন আবুল বাশার চৌধুরী জামে মসজিদ কমপ্লেঙ্, আবুল বাশার চৌধুরী হেফজ ও এতিমখানা, আবুল বাশার চৌধুরী আশ্রয় কেন্দ্র ও পাঠাগার। তিনি সম্প্রতি আবুল বাশার চৌধুরী ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যেটির কাজ চলমান। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলে বেকারত্ব দূরীকরণ ও তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ব্যক্তিগত জীবনে ডা. এবিএম হারুন ১৯৮১ সালে লতিফা হারুন ঝর্নার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এ দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে: এক মেয়ে, এক ছেলে। মেয়ে মুনজারীন শাহনাজ নোবেরাও একজন ডাক্তার। নোবেরা একজন হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ। তিনি স্কলাস্টিকা থেকে ও-লেভেল, এ-লেভেল এবং বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন যাবত। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনির্ভাসিটি অব সাউথ ওয়েলস থেকে হসপিটাল ম্যানেজমেন্টের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে পুরো সময় শমরিতা হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ( ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছেলে মো: আতিকুল বাশার নাবিন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিজনেস ফ্যাকাল্টিতে শিক্ষকতা করছেন, বর্তমানে তিনি পিএইচডি করতে যুক্তরাজ্যের রিডিং ইউনিভার্সিটি অবস্থান করছেন। নাবিন এসএসসি সম্পন্ন করেন সেন্ট যোসেফ স্কুল থেকে, এইচএসসি সম্পন্ন করেন নটরডেম কলেজ থেকে, অনার্স সম্পন্ন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে (উইথ অ্যাওয়ার্ড)। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ এবং যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে সেকেন্ড মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

ডা. এবিএম হারুন মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যিনি মানবতার কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। ডা. এবিএম হারুনের মতো সামর্থবান মানুষরা যদি এভাবে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসেন তাহলে আমাদের সমাজটা আরো সুন্দর হয়ে ওঠবে। আর সমাজ সুন্দর হলে রাষ্ট্র এমনিতেই সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠবে। মানবতার পথচলায় ডা. এবিএম হারুনের প্রতি শুভকামনা।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group