শাখাওয়াত হোসেন টিপু, দাগনভূঞা
ফুটপাত দখল ও নিত্য যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে দাগনভূঁঞা উপজেলা শহরের অধিবাসী ও পথচারীরা। প্রশাসনের হেয়ালিপনা, ফুটপাত থেকে চাঁদা আদায় ও অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিক্সার দাপটে শহরটি ঝটলার শহরে রূপ নিয়েছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততা বন্ধ করে রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা সৃষ্টির মাধ্যমে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ উপশহরকে যানজট মুক্ত করে একটি পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তরিত করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, ফেনীর একটি জনগুরুত্বপূর্ণ উপজেলা শহর দাগনভূঞা। এ শহরের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক। এ সড়ক দিয়েই নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও রায়পুরসহ বরিশাল এবং ভোলা জেলার দ্রুতগতির পরিবহনগুলো যাতায়াত করে থাকে। কিন্তুু জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের দাগনভূঁঞা অংশ পার হতে নিত্য যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলেও জনদূর্ভোগটি দূর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার জিরো পয়েন্টের আতাতুর্ক স্কুলের গেইট থেকে চৌমুহনী রোড়ে ডাক বাংলা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে বসানো হয়েছে বিভিন্ন প্রকারের দোকান। আর এসব দোকানের সামনের অংশ দখলে নিয়েছে লাইসেন্স বিহীন সিএনজি এবং ব্যাটারী চালিত রিক্সা। ফুটপাত আর সড়ক দখলের ফলে সরূপথ বেয়েই চলাচল করে বাসসহ নানা প্রকারের যানবাহন। কিছু যাত্রীবাহী পরিবহন এ সড়কে যাত্রী ওঠানামা করতে গিয়ে সৃষ্টি হয় নিত্য যানজট। এ অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ দখল-দূষণের গর্ভে পড়ে আছে উপজেলা শহরটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, এ শহরে অন্তত ২ হাজার সিএনজি চালিত অটোরিক্সা বিভিন্ন রূটে চলাচল করে। এসব সিএনজির অন্তত দেড় হাজারেরও বেশির কোন লাইসেন্স অথবা বৈধ কাগজপত্র নেই। প্রশাসনের যোগসাজশে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মাসিক ৫০০ টাকা হারে পরিশোধ করেই ‘মান্থলি’ নিয়ে এসব অবৈধ সিএনজিগুলো বৈধতা পেয়ে যায়। লাইসেন্সহীন এসব অবৈধ সিএনজি যত্রতত্র পার্কিং করে প্রশাসনের সামনে থাকলেও গাড়িতে লাগানো বিশেষ স্টিকার ‘মান্থলি’ থাকায় প্রশাসন এসব পরিবহনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। এছাড়াও এ শহরে কয়েকশ ব্যাটারী চালিত রিক্সা চলাচল করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব রিক্সা রাস্তার উপর যত্রতত্র দাড়িয়ে থাকা যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে স্থানীয়রা। রিক্সাগুলো উপজেলা শহরে চালানোর আইনগত সুযোগ না থাকলেও সেই আইন যেন কেউ জানেনা।
অপরদিকে ফুটপাত দখল করে দোকান বসিয়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা কতিপয় ব্যক্তি দৈনিক হারে চাঁদা নিয়ে থাকে। এসব চাঁদারও ভাগ পান প্রশাসনের কর্তারা। অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড থেকেও উত্তোলিত টাকার বড় অংশ যায় প্রশাসনের কর্তাদের নামে। দীর্ঘদিন এমন অবস্থা চলমান থাকলেও প্রশাসনের নিরবতায় হতবাক স্থানীয় এবং ভূক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার জিরো পয়েন্টে এসে ৪টি সড়ক মিলিত হয়েছে। এখানে থাকা গোল চক্করেই থামে দূর-দূরান্ত থেকে আগত পরিবহন। যাত্রী পাওয়ার জন্য সিএনজি, ব্যাটারী চালিত রিক্সাগুলো এখানেই বিশৃঙ্খল ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। যার কারণে এলাকাটিতে নিত্য যানজট লেগেই থাকে। অতিগতি ও স্বল্পগতির গাড়ির কারণে এখানে নিত্য দূর্ঘটনা ঘটে থাকে।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা বাজারের ব্যবসায়ী সাহেদুল ইসলাম জানান, দাগনভূঞা পৌর শহরের জিরো পয়েন্টে জনদুর্ভোগ এখন চরমে উঠেছে। অবৈধ দখলদার ও সড়কের উপর যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে দুর্ভোগ স্থায়ী রূপ নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এতে করে একদিকে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে; অন্য দিকে সময় নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত আমরা এ অবস্থার থেকে উত্তরণ চাই।
দাগনভূঞা বাজার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন লিটন জানান, জিরো পয়েন্টকে যানজটমুক্ত করতে হলে প্রধান সড়ক থেকে সিএনজি অটোরিকশা পার্কিং সরিয়ে নিতে হবে। এ বিষয়ে অনেকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। নিয়মকানুন কেউ মানছে না। এখানে মাত্র ২জন ট্রাফিক সদস্য দায়িত্বে থাকেন। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। যতক্ষণ ট্রাফিকের দায়িত্বে লোক থাকেন; ততক্ষণ কিছুটা শৃঙ্খলা থাকে। তাদের দায়িত্ব শেষ হওয়ার সাথে সাথে ফের অবৈধ পরিবহন ও পার্কিংয়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমান জানান, সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখতে জিরো পয়েন্ট এলাকায় পুলিশ ভক্স স্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে শহরটিতে পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে।
দাগনভূঁঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও দাগনভূঁঞা পৌরসভার প্রশাসক শাহীদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা অভিযান করে আসার পর আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়। যানজট নিরশনে পৌরসভার লোকজন প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দাগনভূঁঞাতে সিএনজি ও অটোরিক্সার পরিমান বেশি হওয়ায় পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়েছে। শহরকে দখল, দূষণ ও যানজটমুক্ত রাখতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |