| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় ২ প্রবাসী নিহত ৪ মাসের পুত্র সন্তানকে দেখা হলো না প্রবাসী ইউনুস মিয়ার

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 17-05-2026 ইং
  • 1751 বার পঠিত
সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় ২ প্রবাসী নিহত  ৪ মাসের পুত্র সন্তানকে দেখা হলো না প্রবাসী ইউনুস মিয়ার
ছবির ক্যাপশন: সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় ২ প্রবাসী নিহত ৪ মাসের পুত্র সন্তানকে দেখা হলো না প্রবাসী ইউনুস মিয়ার


চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ইউনুস (৫৫) ও পাশ্ববর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার নূর আলম (৪৫) দুই বন্ধু দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদে ব্যবসা করে আসছে। গত শনিবার বিকালে জেদ্দায় ব্যবসার কাজে বেরহয়েছেন। ফেরার পথে আল মাহাদ আদ দাহাব নামক স্থানে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন ২ জনই। 

তাদের মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছালে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনায় নিহত ইউনুস মিয়ার ৪ মাসের পুত্র সন্তানকে এক নজর দেখতে কোরবানির ঈদে দেশে আসার কথা ছিল। তার প্রবাস জীবনের ২৪ বছরে এই প্রথম কোরবানীর ঈদ স্বজনদের সাথে করার ছিলো। এ উপলক্ষে সকল কেনাকাটা, বিমানেরও টিকেটও কেটে রাখছিলেন তিনি। নিহত ইউনুস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রামের সাবির আলীর বড় ছেলে। নূর আলম নাঙ্গলকোট উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বাসুদাই গ্রামের মৃত খলিল সওদাঘরের ছেলে। 

নিহত ইউনুসের ছোট ভাই ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মারুফ বলেন, আমার বড় ভাই আমাদের পরিবারের অভিভাবক ছিলেন। তার স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। প্রবাসে যাওয়ার পর তিনি একাধিকবার দেশে আসলেও কখনো পরিবারের সাথে কুরবানীর ঈদ করতে পারেননি। এবারই প্রথম তিনি কুরবানীর উদ্দেশ্যে ২৭ মে দেশে আসার জন্য বিমানের টিকেটও কনফার্ম করেছিলেন। তার ছোট ছেলের বয়স মাত্র ৪ মাস। তাকেও তিনি প্রথমবারের মত দেখার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। আমার বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা ভাইয়ের মৃত্যুতে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে।

২ পরিবারের স্বজনরা জানান, নুর আলম ও ইউনুস মিয়া সৌদি আরবের রিয়াদে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। গত শুক্রবার জেদ্দা থেকে দোকানের মালামাল নিয়ে রিয়াদে ফেরার পথে তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। চালকসহ আহত হয় আরও দুই জন। এবারের কোরবানির ঈদে নুরে আলম ও ইউনুস দেশে আসার কথা ছিল। তারা দুইজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। 

সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী ও নিহত নুরে আলমের ভাগিনা মনির হোসেন জানান, দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তার মামা নুর আলম ও তার বন্ধু ইউনুস মিয়া মারা যান।

নিহত নুর আলমের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, আমাদের পরিবারে ৬ জনের ভরণ পোষন চলতো স্বামীর উপার্জনে। তাকে হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। কিভাবে চলবে সংসার। তা ভাবতে পারছি না। আমার স্বামীর মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চাই।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নূরুল আমিন জানান, সৌদি আরবে নিহত ইউনুস মিয়ার মরদেহ দেশে নিয়ে আসতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে।

অপরদিকে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রবাসী নূর আলমের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সহযোগীতা করা হবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group