| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

সুর শিল্প ও নারী উদ্যোক্তা, আলোর বিকিরণে শমরিতা

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 04-05-2026 ইং
  • 397 বার পঠিত
সুর শিল্প ও নারী উদ্যোক্তা, আলোর বিকিরণে শমরিতা
ছবির ক্যাপশন: সুর শিল্প ও নারী উদ্যোক্তা, আলোর বিকিরণে শমরিতা


বিনোদন প্রতিবেদক : 

শমরিতা নাগ স্কুল শিক্ষক ও গৃহিনী। চিরাচরিত আটপৌরে বাঙ্গালী ঘরানার নারীরা এই পরিচয়ে দারুন খুশি। চাকুরী, স্বামী, সংসার ও সামাজিকতা রক্ষা করতে করতে প্রায় সকলেই হাঁপিয়ে উঠেন। সৃষ্টিশীল, সৃজনশীল কর্মে মেধার বিকাশ ঘটানোর সময় কই? এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম শমরিতা নাগ। হাঁপিয়ে ওঠা কিংবা দমে যাওয়ার পাত্রী নন তিনি। নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ষোলকলা পূর্ণ করে তা বিলিয়ে দিতে নিয়েছেন অভিভাবকত্ব। গড়েছেন চিত্রকলা আট স্কুল ফেনী নামে সংগঠন। বিবিএ, এমবিএ, বিএড, এমএড ও এলএলবি ডিগ্রীধারী শমরিতা একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসাবে নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি আয়কর আইনজীবী হিসাবে জাতীয় রাজস্ববোর্ডের সনদপ্রাপ্ত। তিনি ফেনী জেলা আইনজীবি সমিতি, ঢাকা ট্যাঙ্সে বার এসোশিয়েশন ও কোম্পানী ল,প্র্যাকটিশনার্স সোসাইটির সদস্য। 

সুললিত কন্ঠের অধিকারী শমরিতা গান করার সময় কোকিলা সূরে দর্শক সম্মোহিত হন। একসময় বিনোদন সাংবাদিকতার সাথেও সম্পৃক্ত থেকেছেন তিনি। নারী উদ্যোক্তা শমরিতা বসে থাকার পাত্র নন। সময়কে কাজে লাগিয়ে তিনি "শরণ্যা" ফেইজের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসায়ী হিসাবে সফলকাম তিনি। 

পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের উচ্চতম শিখরে আরোহণের স্বপ্ন দেখতেন শমরিতা। স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন নয়, স্বপ্নকে জয় করে আজ তিনি পাহাড়ের উচ্চতম শিখরের দূর্জেয় অভিযাত্রী।

কথায় বলে-"যিনি রাঁধেন, তিনি চুলও বাঁধেন"। ফেনী সদর উপজেলার শহরের এর মেয়ে শমরিতা, নিজ এর অনুপ্রেরণায় গানের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আকর্ষণ, ছোটবেলা থেকেই অসংখ্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ পেয়েছেন অনেক পুরস্কার, সংগীতের বিশাল সাম্রাজ্যের ছোট্ট সারথী হয়ে পথ চলতে শুরু করেন। সংগীতে শমরিতার হাতেখড়ি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আর্য সংগীত বিদ্যালয় ও সমিতি, চট্টগ্রাম অধ্যক্ষ ও সভাপতি ওস্তাদ মিহির লালা এর কাছে, তারপর আর্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ফেনী তে লিটন কুমার ধরের কাছে নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংস্কৃতিক কেন্দ্র ফেনী অরূপ দত্তের কাছে রবীন্দ্র সংগীত, পূবালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এর অজয় দাস এর কাছে রবীন্দ্র ও ক্লাসিক্যাল এবং চিত্রাংকনের হাতে খড়ি নিজের বাবা লক্ষণ চন্দ্র নাগ এরপরে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত নাথ এরপরে গোপাল দাসের এর কাছে।তবে সঙ্গীত গুরু ওস্তাদ-মিহির লালার-নিবিড় প্রশিক্ষণে এবং অনুপ্রেরণায় ছোট শমরিতা সময়ের সাথে নিজেকে এগিয়ে নিতে এবং এগিয়ে দিতে ওস্তাদের প্রতিটি তাল, লয়, সূর ও ছন্দের ঝংকারকে উপাস্য মনে করে পথ চলতে থাকেন। কমপ্লিট করে বর্তমানে "উচাঙ্গ বা শুদ্ধ সঙ্গীত" চর্চা রত আছেন, বর্তমান সঙ্গীত গুরু শ্রদ্ধেয়। রপ্ত করেন সংগীতের শাখা প্রশাখার নানান দিক। সংগীত যার রক্তে, তাকে দাবিয়ে রাখার সাধ্য কার! নিজের সৃজনী শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিটি নান্দনিক ও সৃষ্টিশীল কাজকে নিজস্ব ঢঙ্গে উপস্থাপন করে সময়ের চাহিদা মেটাতে পারঙ্গম শমরিতা। আইনজীবী স্বামী এডভোকেট সুমন চন্দ্র নাগ এর আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা শমরিতার উদ্যম আরো বাড়িয়ে দেয়। রক্ষণশীল সনাতন ধর্মের অনুসারী শমরিতা ধর্মান্ধ নয়। আধুনিক ধ্যান- ধারনার বাহক শমরিতা মানবতাকে লালন করেন অন্তরে। বৃশ রাশির জাতিকা শমরিতা একজন আদর্শ শিক্ষক হিসাবে ও নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়েছেন। ফেনী জেলা স্কুলে চিত্রাংকন প্রথম যোগদান, ইস্পাহনি স্কুলে চিত্রাংকন, ফেনী পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজে চিত্রাঙ্কন ও সংগীত, পূবালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এ চিত্রাংকন ও সংগীত প্রশিক্ষক, ফেনী রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন পরিষদ, নজরুল সংগীত সম্মিলন পরিষদ, নজরুল একাডেমী,উদিচি শিল্পীগোষ্ঠী ফেনী, ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমীর নিয়মিত সদস্য, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ফেনীতে নিয়েছেন সংগীত ও চিত্রাঙ্গনের উপরে অসংখ্য প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা। বর্তমানে তিনি একটি হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক পদে কর্মরত। ছোট ছোট সোনামনিদের মাতৃ স্নেহে দরদ দিয়ে অজানাকে জানার সুযোগ করে দেন বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে। কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের প্রিয় ম্যাডাম শমরিতার গুণের এখানেই শেষ নয়। তিনি একজন সৌখিন আঁকিয়ে। মনের মাধুরী মিশিয়ে রং তুলির ক্যানভাসে, দেয়ালে দেয়ালে আপন মনে সৃষ্টি করেন শিল্পের অকথিত কাহন। রং তুলির দুনিয়ায় শমরিতার ক্যাম্পাসে চলে রংয়ের খেলা। শিশুদের চিত্রাংকন ও সঙ্গীত শেখানোতে শমরিতার খুবই আনন্দ।

হাসি, কান্না, দূঃখ-বেদনা, আর বিরহী প্রেমের উপাখ্যান জাগ্রত হয় তার কোমল হাতের তুলির স্পর্শে । 

স্মার্ট, প্রিয়দর্শিনী ও সুহাসিনী শমরিতার টোলপড়া গাল নাটোরের বনলতা সেনের কথা মনে করিয়ে দেয়। হৃদয়ের গভীরতম শুদ্ধলয়ে ভাললাগে শমরিতা যখন সঙ্গীতের ঝংকারে শৈল্পিক মুদ্রা প্রদর্শন করে, তখন সাক্ষাত অস্পরীর মতো দেখায়। একই ব্যক্তিত্বে এতো রূপ স্রষ্টা একজনকে দান করেন কিভাবে? এজন্যই বোধহয় কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী, আমি অবাক হয়ে শুনি, কেবল শুনি।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group