| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ছাগলনাইয়াতে তরমুজ চাষীদের মাথায় হাত

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 30-03-2026 ইং
  • 842 বার পঠিত
ছাগলনাইয়াতে তরমুজ চাষীদের মাথায় হাত
ছবির ক্যাপশন: ছাগলনাইয়াতে তরমুজ চাষীদের মাথায় হাত


ছাগলনাইয়া প্রতিনিধি:

এখন নষ্ট ফসলের দিকে অসহায় ফ্যাল ফ্যাল তাকিয়ে থাকা ছাড়া করার কিছুই আর নেই। কেঁদে বুক ভাসিয়েও লাভ হবে না কোনো।  

রোববার সকালে সরেজমিন ঘুরে তরমুজ চাষীদের ক্ষতির করাল চিত্রই দেখা গেল ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নে ফেনী নদীর চর এলাকায় পোকার আক্রমণের পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তরমুজ ফসলের।

পোকা দমন করতে কীটনাশক ছিটিয়েও ফল পাননি কৃষকেরা। ভেজাল কীটনাশক ও বীজে বাজার ছেয়ে গেলেও নজরদারি নেই বলে অভিযোগ কৃষকদের।

গত ২ বছর এই এলাকায় তরমুজ চাষ করে কিছুটা ভালো ফলন পাওয়ায় এবারও একই পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। অনেকে আর তরমুজ চাষ না করার কথা ভাবছেন। বাজারে তরমুজের ভালো দাম পাওয়া গেলেও ফলন কম হওয়ায় লাভ করতে পারেননি কৃষকেরা।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, তরমুজখেতে শোষক পোকার আক্রমণের কারণে গাছের পাতা মুড়িয়ে যাচ্ছে। তরমুজের ফলন কম হওয়ার পাশাপাশি আকারেও ছোট হচ্ছে। এ ছাড়া গত কয়েক দিন আগের বৃষ্টিতেও ক্ষতি হয়েছে তরমুজ খেতের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৩ সালে ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নে জয়পুর, জয় চাঁদপুর এলাকার ফেনী নদীর চরে ১১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছিল। ২০১৪ সালে তা কমে ১০০ হেক্টরে দাঁড়ায়। চলতি বছর তরমুজের চাষ আরও কমেছে। এ বছর মাত্র ৯৮ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে, বেশিরভাগ ফসল পোকার আক্রমণের কবলে পড়লেও এখনো যে সকল ফসল ভালো আছে সেই সকল ফসলে বৃষ্টি নামার পরপরই নালা কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিতে। কিন্তু এতেও খুব একটা ফল পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন  না কৃষকরা।

 কৃষক কবির আহম্মদ জানান, বৃষ্টিতে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন সে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার আর কোনো উপায় নেই। সামান্য কিছু ফসল বাজারে বিক্রি করতে পারলেও বাদবাকি ফসলের প্রায় পুরোটাই  নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

কৃষক আবুল হাসেম বলেন, তিনি গত বছর ৯৬ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। লোকসান হওয়ার কারণে এবার তিনি মাত্র ৫৮ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তরমুজ চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকার মতো। গত শনিবার পর্যন্ত তিনি মাত্র পাঁচ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। এবার চাষের খরচ উঠবে কি না, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

একই এলাকার কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, এবার তরমুজের আকার হয়েছে ছোট। তাই দামও কম। ১০০ তরমুজ বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে ১০ হাজার টাকায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার তরমুজ খেতগুলোতে পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে আসেননি। দোকানে গিয়ে দোকনির পরামর্শমতো কীটনাশক ছিটিয়ে ফল পাননি তিনি। ভেজাল কীটনাশক বিক্রি বন্ধে কৃষি বিভাগের কোনো উদ্যোগ নেই।

তবে কৃষকদের অভিযোগ সত্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তারা। 

ছাগলনাইয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় কুমার সরকার বলেন, কৃষকদের অভিযোগ সত্য নয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা তাঁদের অধীনে থাকা কৃষি ব্লকগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করেন।

শোষক পোকা দমনে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে শুভপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিক কৃষকেরা পোকার আক্রমণে করণীয় কী তা জানেন না। অনেক কৃষক কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শও গ্রহণ করেন না। বাজার থেকেব নিজেদের খেয়ালখুশিমতো কীটনাশক কিনে খেতে ছিটাচ্ছেন তাঁরা। ফলে পোকা দমন হচ্ছে না। এ ব্যাপারে কৃষকদের সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ।


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group