| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

৪ দিনেই জামিনে মুক্ত ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের ৫১ লাখ টাকা চেক জালিয়াতি মামলার ৩ কর্মচারী

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 12-07-2026 ইং
  • 12 বার পঠিত
৪ দিনেই জামিনে মুক্ত  ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের ৫১ লাখ টাকা চেক জালিয়াতি মামলার ৩ কর্মচারী
ছবির ক্যাপশন: ৪ দিনেই জামিনে মুক্ত ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের ৫১ লাখ টাকা চেক জালিয়াতি মামলার ৩ কর্মচারী


শহর প্রতিনিধি:

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ইস্যু করা ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার ৩ সরকারি কর্মচারী চারদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

গতকাল রোববার ফেনীর আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে আদালত ৩ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৭ জুলাই ফুলগাজী থানায় দায়ের হওয়া মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

মামলার আসামিরা হলেন, ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল, অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলাম।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বদলিজনিত দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিকালে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করতে গিয়ে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েল (মুড়ি) ও ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবে অসঙ্গতি দেখতে পান। পরে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ে ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকার সরকারি অর্থ উত্তোলনের তথ্য উঠে আসে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেকের মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা যুক্ত করে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে টাকার বানানও পরিবর্তন করা হয়। তবে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েলে এসব পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ না থাকায় দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে হিসাব পর্যালোচনার সময় বিষয়টি ধরা পড়ে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছিল। চলতি বছরের ১ মার্চ সর্বশেষ এমন একটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই বছরের মার্চে পার্থ সারথী পাল ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে বদলি হওয়ার পর এ ধরনের আর কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৭ জুলাই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে, মামলার পরদিন ৮ জুলাই ভোরে তৎকালীন ইউএনও ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম বদলিজনিত কারণে ফুলগাজী ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে সংঘটিত রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের ধারণা। ওই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান চেক জালিয়াতির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে আদালত থেকে জামিন পেলেও মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চেক জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group