| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ফেনীতে লেবার সংকট ১ মন ধানের দামেও মিলছে না শ্রমিক

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 16-05-2026 ইং
  • 2459 বার পঠিত
ফেনীতে লেবার সংকট  ১ মন ধানের দামেও মিলছে না শ্রমিক
ছবির ক্যাপশন: ফেনীতে লেবার সংকট ১ মন ধানের দামেও মিলছে না শ্রমিক


দাগনভূঞা প্রতিনিধি

দাগনভূঞা বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। এবার ফলন ভালো হলেও ধানের দাম নিয়ে অসন্তোষ কৃষক। এক মণ ধানের দামেও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে একজন শ্রমিকের জন্য ১ হাজার থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কষ্টের ফসল ঘরে তোলার আগেই কৃষকের মুখে হতাশার চাপ। 

কথা হয় মাতুভূঞা ইউনিয়ন কৃষ্ণরামপুর  গ্রামের কৃষক শেখ আহমদের  সঙ্গে। তিনি বলেন, “একসঙ্গে মাঠের সবার ধান পেকে গেছে; তার ওপর বৃষ্টি। নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ কিন্তু ধানের দাম পড়ে গেছে। এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে, বুঝতে পারছি না।”

ধান উৎপাদনে তাদের যে খরচ হয়েছে, বিক্রি করতে হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম দামে। সরকার নির্ধারিত মূল্যও না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

দাগনভূঞা উপজেলায় বর্তমানে সাধারণ দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি কাজের ধরন, মৌসুম ও শ্রমিক সংকটের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষির যেকোন সময় দিনমজুর সংকট অপরদিকে বাড়তি টাকা গুনতে হয় কৃষকদের। এতে চাষাবাদের সামগ্রিক খরচ হিসেব করলে ফলন ও ব্যায় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন প্রান্তিক কৃষকগন। খরচের বিষয়টি চিন্তা করে অনেকেই চাষাবাদে অনাগ্রহতা প্রকাশ করেন। এভাবে খরচের সাথে ফলনের অস্বাভাবিকতা অব্যাহত থাকলে ক্রমান্বয়ে কৃষক নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি চাষাবাদ ও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন জমি চাষীরা।  

সরেজমিনে দেখা যায়, মৌসুম ভিত্তিক সাধারণভাবে কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি প্রায় ৭০০-১২০০ টাকা, ধান কাটা বা বোরো মৌসুমে ১২০০-১৮০০ টাকা পর্যন্তও হয়।

সাধারণ নির্মাণ বা বহনের কাজ: ৮০০-১৫০০ টাকা। এ খরচ শুধুমাত্র দৈনিক মজুরি হিসেবে সাথে রয়েছে নাস্তা, দুপুরে ভাত খাওয়ানো, (পান, সিগারেট যদি অভ্যাস থাকে) দিতে হবে। এতে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে আরো টাকা নতুবা কর্মজীবী শ্রমিক কাজ করতে চান না। তখন আবার দেখা যায় শ্রমিক সংকট। 

এসব বিষয় বিবেচনায় কৃষিতে যেসব ক্ষতি হচ্ছে- শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন ব্যয় অনেক বাড়ছে। ছোট কৃষকরা সময়মতো জমিতে কাজ করাতে পারছেন না। ধান কাটা বা রোপণে দেরি হলে ফলন কমে যায়। অনেক কৃষক লাভ কম হওয়ায় আবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন।

সবজি ও বোরো ধানের বাজারদাম কম থাকলে কৃষক লোকসানে পড়ছেন। বিশেষ করে বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা বা শ্রমিক সংকট হলে দাগনভূঞা অঞ্চলে কৃষকের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। কৃষক নয় তবে জমির মালিকগন সরাসরি কৃষি কাজ করার আগ্রহ অনেকটাই কম।  বেশীরভাগই বর্গা চাষ কিংবা কৃষকদের উপর দায়িত্ব দেন। এতে কৃষক নিজের শ্রম, উৎপাদন খরচ সবকিছু মিলিয়ে হিসেব করলে দেখা যায় উৎপাদনের থেকে অতিরিক্ত ব্যয়। বাজার মুল্য ভালো না পেলে অনেকেই নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

বোরো ধান চাষকৃত সদর ইউনিয়নের  কৃষক নুরুল আলম জানান, বোরো ধান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হিসেব করলে ফলনের দ্বিগুণ খরচ আসবে। সবকিছুর দাম বেড়েছে তাই শ্রমিকদের ও দৈনিক মজুরি বেড়েছে। আবার মৌসুমে দিন মজুর ও সংকট দেখা যায় কারণ কেউ কেউ কৃষির কাজগুলো করতে চান না। তাই বাড়তি সুযোগ সুবিধা দিয়ে হলেও এ কাজগুলো করতে হয়। আশার বানী হচ্ছে নিজে চাষাবাদ করে নিজেদের খাদ্যর জোগান পাশাপাশি বাড়তি অংশ বিক্রি করতে পারলে মানসিক আত্মতৃপ্তি ও পাওয়া যায়।  একজন কৃষক তার পেশাই কৃষি কাজ করা। মাটি ও জমিন আমাদের আত্নার সাথে সম্পর্ক। সবাই যদি কৃষি কাজ বন্ধ করে দেন তাহলে আমরা বা বাকিরা খাবো কি?  সরকারের সহযোগিতা নিয়ে কৃষি কাজে আরো সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে চাষাবাদ বাড়ানো উচিত বলে জানিয়েছেন তিনি। 

দৈনিক শ্রমিক কালা মিয়া (রামগতি) তিনি বলেন, বাজারে বাজার করতে গেলে ১ হাজার টাকায় বাজার হয়না। সবজি থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বেড়েছে কিন্ত আমাদের পারিশ্রমিক সে তুলনায় তেমন একটা বাড়েনি। ১২ শ টাকা বা ১৫ শ টাকা মজুরি নিতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনেক পরিশ্রম করে নিতে হয়। কেউ খুশি করে ভাত বা চা নাস্তা দেন নতুবা পকেট থেকে খরচ হয়। আবার অনেকেই চা নাস্তা, পান সিগারেট, ভাত পর্যন্ত খাওয়ান। সব কৃষক ভাই তো এক রকম হবে না এটাই নিয়ম। 

দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ কামরুজ্জামান  জানান, বোরো চাষাবাদে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে কর্তনের সময় বৃষ্টি হওয়াতে কৃষকদের খরচ কিছুটা বেড়েছে। যেসব জায়গায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন যেতে পারেনি সেখানে বোরো ধান উত্তোলন বিলম্বিত হয়েছে। বোরো ধান কর্তন/উত্তোলন পর্যন্ত উপজেলা উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগন সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।

তবে সরকার ঘোষিত ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group