সম্প্রতি আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়েছে। এটা ইরান ও ইসরাইল অফিসিয়ালি নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিন যাবত আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একাই লড়ে আসছিল দেশটি। মূলত ইরানের তেল সম্পদ দখলে নেয়ার জন্য আমেরিকা দীর্ঘদিন দুরভিসন্ধি করে আসছিল। কিন্তু খামেনি সরকার কোনভাবেই দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দিয়ে তাদের সঙ্গে আঁতাত করেনি। এতদিন সে পথের কাঁটা ছিল। আজ তাকে করুণভাবে হ-ত্যার মধ্য দিয়ে সে পথের কাঁটা সরে গেল!
খামেনিকে তারা এত সহজে শেষ করতে পারেনি। এ মিশনে পরিপূর্ণভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তার দেশেরই কিছু মিরজাফর, ডিপ-স্টেটের কুশীলব। যারা পাশে থেকে টিকটিকি হয়ে সমস্ত গোপন তথ্য পাচার করেছে।
ইরান শেষ পর্যন্ত একাই লড়ে গেছে। মুসলিম বিশ্ব ইরানের পাশে থাকেনি, থেকেছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে। মুসলিম বিশ্বের এই মোনাফেকী দিয়ে আমেরিকা একটা শিক্ষা দিতে চেয়েছে!
মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাব থেকে রাশিয়া ও চীনকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে সমস্ত তেল ও খনিজ সম্পদ নিজেদের দখলে নেয়াই আমেরিকার উদ্দেশ্য। ভেনিজুয়েলার পর গ্রীনল্যান্ড, এরপর ইরানের ক্ষেত্রে তারা সফল হয়েছে। ইরানে তারা এখন তাদের আজ্ঞাবহ এক ‘পুতুল সরকার‘ বসাবে, যে তাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চলবে।
তাদের ডিপ-স্টেট পাকিস্তানকে দিয়ে ‘গায়ে পড়া যুদ্ধ‘ বাঁধিয়ে দিয়েছে আফগানিস্তানের সঙ্গে। পাকিস্তানকে তারা ‘ইউজ‘ করে আবার ছুঁড়ে ফেলে দিবে। পাকিস্তানের দখলে নেয়ার মতো কিছুই নেই পারমাণবিক শক্তি ছাড়া। আর সেই পারমাণবিক শক্তি দখলে নেয়াই তাদের উদ্দেশ্য। পাকিস্তান মিশন শেষে সে হাওয়া বাংলাদেশের দিকেও বইতে পারে। এ অঞ্চলে তেল না থাকলেও আছে অপার খনিজ সম্পদ, যা তারা বহু আগেই আবিষ্কার করে রেখেছে! আর আছে শত্রুশক্তিকে মোকাবেলা করার জন্য ‘কৌশলগত স্থান‘! ভারতকেও তারা বেকায়দায় ফেলতে পারে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে, বিশেষ করে তাদের সেভেন সিস্টার্সে।
সকল প্রকার আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সবশেষ ইরানের মধ্য দিয়ে আমেরিকা অঞ্চলে অঞ্চলে দেশে দেশে তার সাম্রাজ্যবাদ আরও ভয়াবহ আকারে বিস্তারের সিগন্যাল দিয়েছে।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |